শোক দিবসেও বিভক্ত আওয়ামী লীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৩ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

শোক দিবসেও বিভক্ত আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসেও এক হতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। দলের ভেতরকার দ্বন্দ্ব ও অন্তর্দ্বন্দ্ব যেন তাদের পিছু ছাড়ছেনা। বছরের অন্য সব কর্মসূচি ও  অনুষ্ঠানের মত শোক দিবসের অনুষ্ঠানেরও তাদের সেই চিরাচরিত দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা গেছে। এতে করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তারা কতটুকু লালন করে ও মান্য করে তাদের মধ্যেকার কোন্দল দেখলেই তা বুঝা যায়। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের যখন শোকার্ত ভাবগাম্ভীর্যে থাকা উচিত তখন তারা প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এতে আওয়ামীলীগের ঐক্য নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ দলটি নারায়ণগঞ্জ থেকে নেতৃত্ব দেয়া জেলা আওয়ামীলীগে বিতর্কের মিছিল কিছুতেই থামছেনা। দিনে দিনে এই কমিটি নানা রকম দ্বন্দ্ব কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে। যার ধারাবাহিকতায় প্রায় নিয়মিত নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে।

১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে স্লোগান দেয়াকে নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে চলে উত্তেজনা। তবে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, শোক দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা শেষে নেতাকর্মীরা ভেতরে আলোচনা সভায় অংশ নেন। ওই সময়ে এমপি শামীম ওসমানের পক্ষেও স্লোগান ধরা হয়। ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি শামীম ওসমানের ঘাঁটি’ স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে ‘একটা একটা দালাল ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর, একটা একটা রাজাকার ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবদুল কাদির ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি বলতে থাকেন, আমি এমনি এমনি এখানে আসি নাই। ছাত্রলীগ যুবলীগ করেই আসছি। কাদের দালাল বলা হচ্ছে। কাদের কল্লা কাটবে।

ওই সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল ও সদস্য শাহাদাত হোসেন সাজনু মিলে কাদিরকে নিবৃত্ত করেন। তখন মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৩ জুলাই নেতাকর্মীদের বহুল আলোচনা সমালোচনার মুখে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধিনে থাকা থানা আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো ঘোষণা করার উদোগ নেয়া হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১৬ তারিখ এবং আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১৯ তারিখ ঘোষণা করা হয়।

এই তারিখ ঘোষণা নিয়েও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের মতামত ছিল, প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হবে। আর এই ওয়ার্ড কমিটি গঠন করবে ইউনিয়ন কমিটি। এরপর ইউনিয়ন কমিটি করতে হবে, ইউনিয়ন কমিটি করবে থানা কমিটি। এই দুই স্তরের কমিটি সম্পন্ন হলে জেলা আওয়ামী লীগ থানা কমিটি গঠন করে দিবে। কিন্তু এই মতামতকে প্রাধান্য দেননি সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। তারা স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা দিয়ে দেন।

বর্ধিত সভায় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা অনুসারে গত ১৬ জুলাই রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে গত ২২ জুলাই আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই এ কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় খালি পদগুলো পূরণ করা নিয়ে একে অপরের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হন। সভায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী তার উপজেলা থেকে একজনকে পদ দেয়ার দেয়ার কঠোর দাবী জানান। এবং তিনি এ ব্যাপারে নাছোরবান্দা হয়ে বসেন। বিষয়টি নিয়ে সভাপতির সাথে চরম বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এ পর্যায়ের তিনি টাকা টাকা বলে ঠিৎকার করে উঠেন। পরবর্তীতে তুমুল হৈ চৈ ও হট্টগোলের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি করা হয়। যা এখন পর্যনন্ত অমিমাংসিত অবস্থায়ও থেকে যায় জেলা আওয়ামী লীগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনীতিক দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব কোন্দল অন্ততপক্ষে শোক দিবসের মত বিশেষ কয়েকটি অনুষ্ঠানে সংযত থাকা উচিত। কিন্তু বরাবারের মত একই চিত্র দেখা গেছে। এতে করে দলের অবস্থান দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও