নাজমা রহমানকে স্মরণ করেনি আওয়ামী লীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

নাজমা রহমানকে স্মরণ করেনি আওয়ামী লীগ

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। আর এই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেও কিছু কিছু কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের পিছুটান লক্ষ্য করা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকন্যা খ্যাত নাজমা রহমানকেও ভুলে গেছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা। সারা বছর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার নামটি উচ্চারিত না হলেও এবার মৃত্যুবার্ষিকীতেও তাকে স্মরণ করা হয়নি। নাজমা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ছিল না কোন আয়োজন।

জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি প্রয়াত অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী ছিল ১৯ আগস্ট সোমবার। ২০১৬ সালের এই দিনে তিনি আমেরিকার আরিজোনায় ইন্তেকাল করেন।

নাজমা রহমান ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পৌর নির্বাচনের পর আলী আহমেদ চুনকাসহ নেতাদের ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নাজমা রহমানকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে কমিশনার নির্বাচিত করা হয়।

১৯৮৬ সালের নির্বাচনে দলীয়ভাবে নাজমা রহমানকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনে খুবই দক্ষতার সঙ্গে নাজমা রহমান লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। বিপুল ভোটে তার নির্বাচিত হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে ফলাফল ঘোষণা করা হলে দেখা যায়, নাজমা পরাজিত হয়েছেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তাকে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় অধ্যাপিকা নাজমা রহমানকে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এরপর তিনি ক্রমে দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার আগে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নাজমা রহমানের স্মরণ না হওয়ায় নেতাকর্মীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উল্লাহ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘‘আজ ১৯ আগষ্ট। নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকন্যা অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের মৃত্যু দিবস। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেই তিনি বীরের মূর্তি ধারন করে রাজপথের লড়াইকে জীবনসঙ্গী করে নেন। ১৯৭৭ সালে জিয়া ক্ষমতায়। তখনই আমি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ছিলাম প্রায় তিন যুগ। একটা সময় নেতারা নাজমা আপাকে নিযুক্ত করেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার জন্য আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করার মানস নিয়ে। ফতুল্লার এমন কোন স্থান নেই যেখানে নাজমা আপার মেধা আর অগ্নিকন্যার অগ্নিমূর্তি এবং তার সাথে তাঁর জ্বালাময়ী বক্তব্য তিনি রাখেননি। তিনি একাধারে ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি।পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। জিয়ার আমলে অসংখ্য নির্যাতন সহ্য করেন এই নেত্রী। ধমেননি কখনো। এরশাদ আমলে এমন কোন জুলুম নেই যা` তিনি সহ্য করেননি। সংসদ নির্বাচনে তাঁর জয়কে কি ভাবে ছিনতাই করা হয়েছিল তা` স্বচক্ষে দেখেছি। তিনি শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয় ঢাকার রাজপথেও ছিলেন সন্মুখ সমরে। এরশাদ সরকারের পুলিশ কাঁদানি গ্যাস মারে তাঁকে লক্ষ করে। একটি সেল এসে তাঁর মাথার উপর আঘাত করে। সেই আঘাত তাঁর জীবন প্রদীপকে আস্তে আস্তে ধ্বংশ করতে থাকে। এরই মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে জাতীয় নেতার সন্মান অর্জন করেন। সারাদেশ তাঁকে সন্মান করতেন ভক্তিভরে। ২০০৪ সালে জাতির পিতার কন্যাকে হত্যা করার জন্য তারেক- বাবর- খালেদা জিয়ার পিশাচরা যে গ্রেনেড হামলা করে, সেই হামলায় তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় একুশটি স্প্রিন্টার।সেই আঘাত হতে তিনি আর আরোগ্য লাভ করতে পারেননি। তিলে তিলে সেই আঘাতের পাশবিকতা আর আমাদের অবহেলায় তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেননি কখনো। কিন্তু দল বলি,আমরা বলি;- কেউ ছিলেননা তাঁর এই জ্বালাতনময়ী জীবন পাশে। সেই আঘাতের চিকিৎসা নিতে গিয়েই তিনি আমেরিকায় মারা যান। আমরা হতভাগা, আমরা অকৃতজ্ঞ। তাই তাঁর মরদেহটি শত চেষ্টা করার পর ও আমরা কতিপয় ছোট্ট কর্মীরা বাংলাদেশে আনতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। যেই নেত্রীটি সারাজাতির কাছে নারায়ণগঞ্জের অগ্নিকন্যা হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠেছিলেন প্রবল পরাক্রমশালী সাহসী নেতৃত্ব দেবার কল্যাণে তাঁর লাশ পরে আছে মার্কিন মল্লুকে। আর আজ তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে কোন কর্সসূচী নেই কোথাও। একটা ছোট- খাঁটো মিলাদ ওতো কোথাও অনুষ্ঠিত হবে বলেও আমরা অবহিত নই। আমাদের ক্রন্দনের মূল্যইবা কতটুকুন? তাই মহান মা`বুদের কাছে ফরিয়াদ;- হে রাহমানির রাহিম, আপনি এই মহিয়সী অগ্নিকন্যাকে বেহেস্ত নসিব করুন। আমিন। ছুম্মা আমিন।’’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও