নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৭ ব্যর্থতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৭ ব্যর্থতা

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৮ সালের ৫ জুন। দীর্ঘ এক বছর অতিক্রম হলেও ব্যর্থতা ছাড়া আর কোন সুসংবাদ বা সফলতার সংবাদ দিতে পারেনি সংগঠনটি। তবে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথম থেকে কিছুটা আস্থা দলের নেতৃত্বের প্রতি রাখলেও এখন আর সেই আস্থা রাখতে না পেরে অনেকেই বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।

এর মধ্যে জেলা ছাত্রদলের ৭ টি বিশাল ব্যর্থতা রয়েছে যার কারণে কর্মীরা এখন আর নেতাদের কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।

জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারা
গেল বছরের ৫জুন জেলা কমিটি অনুমোদন করেছিলেন কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসান মিন্টু। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছে মশিউর রহমান রনিকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে খাইরুল ইসলাম সজীবকে। এতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে সোহেল মিয়াকে।

এতে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ, সহ সভাপতি আরিফুর রহমান মানিক, যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল মামুন, মেহেদী হাসান, মঈনুল ইসলাম রবিন, নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত, রাকিব হাসান রাজ, রফিকুল ইসলাম রফিককে পদায়ন করা হয়েছে।

কিন্তু দীর্ঘ ১ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও দলের নেতাদের নিয়ে জেলা কমিটি পূর্নাঙ্গ করতে না পারার কারণে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উপর থেকে এখন আস্থা হারিয়ে ফেলেছে দলের নেতাকর্মীরা। তাই এখন নেতারা কমিটি পা পদ পরিচয়ের আশ্বাস দিলেও আর সে ফাঁদে পা দিচ্ছেন না জেলা নেতারা।

থানা কমিটি করতে না পারা
দলের নেতাকর্মীদের জন্য দলীয় পরিচয়ই একটি মাত্র পাওয়া। দলীয় কর্মীরা এই পরিচয়ের আশায় দিনের পর দিন দলীয় কর্মসূচীগুলো পালন করে থাকেন। তবে দলের নেতাকর্মীরা থানা পর্যায় থেকে এতদিন ধরে রাজনীতি করে মামলা হামলার জেল জুলুমের শিকার হয়েও যখন দলীয় পরিচয় পাননি বা জেলার নেতারা তাদেরসেইপরিচয় দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তাতে নেতাকর্মীরা তাদের উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন। এক বছরে থানা কমিটি নিয়ে একটি খসড়ায় করতে পারেনি নেতারা কিংবা কোন থানা পর্যায়ের নেতাদের একত্রিত করে একটি দলীয় কর্মীসভাও করতে পারেনি সংগঠনটি।

কর্মীসভা করতে না পারা
দলের জেলা কমিটি হবার পর দলীয় সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি কর্মীসভা করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল। দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন থানার ও কেন্দ্রীয় নেতারাও এতে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তবে নেতাকর্মী ও কেন্দ্রের ক্ষুব্দতায়ও টনক নড়েনি জেলা ছাত্রদলের।

খালেদার মুক্তিতে একক কর্মসুচী পালন করতে না পারা
দলের জেলা কমিটি হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত দলীয় কোন একক কর্মসূচী দলীয় চেয়ারপারসন কারাবন্দি অসুস্থ বেগম খালেদার মুক্তির দাবিতে পালন করতে পারেনি। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোতেও ছিলনা সরব অংশগ্রহণ। দলীয় সর্বোচ্চ নেত্রীর মুক্তিতেও যারা কর্মসূচী পালন করেত পারেনি তাদের কাছে স্বাভাবিক কর্মসূচী আর প্রত্যাশাও করেনা তৃণমূল।

কর্মী সৃষ্টি করতে না পারা
যেখানে একের পর এক জেলা থানা মহানগর ও ওয়ার্ড কমিটি দিয়ে দলে নতুন নতুন কর্মী ও নেতৃত্ব সৃষ্টি করছে ছাত্রলীগ সেখানে জেলা ছাত্রদলের সেই পুরোনো কর্মীরাই পরিচয় পায়নি। দলে নতুন কর্মী সৃষ্টি হবাতো দূরের কথা পুরাতন কর্মীরাই এখন নিজেদের মত করে দল থেকে দূরে সরতে শুরু করেছেন।

কর্মীদের ক্ষোভ দূর করতে না পারা, নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে না পারা
দলের একের পর এক কর্মসুচী কিংবা বিভিন্ন ইস্যূ থাকলেও সেগুলো নিয়ে মাঠে নামা কিংবা নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে তাদেরকে নিয়ে মাঠে নামার ব্যাপার অথবা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের সাথে কোনরুপ যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল। বরং কমিটির সভাপতি সাধারন সম্পাদকের আন্তঃকোন্দল, একে অপরকে দোষারোপ নানা কারণে যোগযোগ বৃধির পরিবর্তে আরো কমেছে যোগাযোগ।

খালেদার সুস্থতা কামনায় একটি দোয়া অনুষ্ঠান করতে না পারা ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করতে না পারা
দলের অসুস্থ কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এককভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের একত্র করে একটি দোয়া অনুষ্ঠান করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল। শুধু তাই নয়, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত একাধিক দোয়া অনুষ্ঠানগুলোঅ তারা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

দলের এসব ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে দলের সাধারন নেতাকর্মীরা জানান, যেখানে দলের একজন সাধারণ কর্মী ১০-১৫ বছর রাজনীতি করেও দলীয় একটি পরিচয় পায়না সেখানে দলের জেলার সভাপতি রনি একাধারে জেলার সভাপতি, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতেও ছিলেন। এখন তিনি জেলায় নেতাকর্মীদের পরিচয় না দিয়ে এখন কেন্দ্রে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে গেছেন। এসব নেতাদের দিয়ে জেলার থানার নেতাতাই যখন কিছু আশা করতে পারেনা তখন তাদের নিয়ে কেন্দ্র কিই বা আশা করতে পারবে আর সারা দেশের নেতাকর্মীরা বা কি পাবে। এসব ব্যর্থতার কোন উত্তরই নেই তাদের কাছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও