কামাল ও সাখাওয়াতের তির্যক আবেগঘন পাল্টাপাল্টি মন্তব্য

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৯ বুধবার

কামাল ও সাখাওয়াতের তির্যক আবেগঘন পাল্টাপাল্টি মন্তব্য

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান। একে অপরকে বিএনপির রাজনীতি থেকে বিদায় করার অভিযোগ তুলছেন। দীর্ঘদিনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এটিএম কামালের ফেইসবুক একাউন্টে ‘এটিএম কামালকে হটাতে চান সাখাওয়াত’ শীর্ষক সংবাদ পোস্ট করেন। ওই পোস্টের নিচে কমেন্টে জবাব দেন সাখাওয়াত। এসময় তিনি কমেন্টে বলেন, ‘ভাই আমি সব সময় আপনার ব্যাক্তিগত, পারিবারিক ও রাজনৈতিক সফলতা কামনাই করি। ভবিষ্যতেও করবো ইনশাল্লাহ। ভাই আমি আপনাকে হটাতে যাব কেন? আমি তো মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ চাইনি। আমি কেন্দ্র অথবা নারায়ণগঞ্জে কারো নিকট ইচ্ছাও পোষণ করিনি। উপরন্তু মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটিতে আমাকে ১নং সহ সভাপতি কেন্দ্র থেকে দেয়া হলেও আপনি ও সভাপতি মিলে যে পূর্নাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন সেখানে তো আমার নামই বাদ দিয়েছেন। তাহলে আমি কিভাবে কাকে হটাতে গেলাম?’

তাঁর এমন মন্তব্যের বিপরীতে পরদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। উভয়ের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটে ওঠায় মহানগর বিএনপির উভয় পক্ষের সমর্থকদের মাঝে দ্বান্দিক অবস্থা বিরাজ করছে।

এটিএম কামাল বুধবার ফেইসবুকে তার কমেণ্টের জবাবে লিখেন, ‘‘সাখাওয়াত হোসেন খান, আপনার কমেন্টস ও শুভ কামনা এবং আমার পরিবারের প্রতি আপনার সহমর্মিতার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা ভাই। আমি কিন্তু বলিনি আপনি আমাকে হটাতে চান, এটা একটা পোর্টালের প্রতিবেদন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও তার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে ড্যামেজ করে অনেক নিউজ আপনার ওয়ালে আমি দেখেছি যা আপনি শেয়ার করেছিলেন, এবং সেগুলোও আমাকে মর্মাহত করছিল। বার বার আপনাকে অনুরোধ করা সত্বেও মহানগর বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হয়ে সবার সাথে কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেননি। উল্টো মহানগর বিএনপি’র ব্যানারে আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করেছেন যা দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী। কোন কারণে যদি আপনার মনে হয় এই কমিটি স্বীয় দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ তাহলে আপনি কেন্দ্রে অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু সংগঠনের ব্যানারকে এভাবে আলাদা করা কতটুকু নৈতিক হয়েছে ভেবে দেখবেন। আমরা কখনোই আপনাকে বাদ দিতে চাইনি, আপনি নিজেই নিজেকে আলাদা করেছেন বারবার, যা আপনার বিভক্ত কর্মকান্ডে প্রমানিত। ব্যক্তিগতভাবে আমি ও আমার পরিবার আপনার কাছে ঋনী, গত এক যুগে নয়বার গ্রেফতার হয়েছি, অসংখ্য বার রাজপথে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় সারে তিনবছর কারাগারে ছিলাম, বিশেষ করে শেষবারে যখন প্রায় আটমাস আমি কারবন্দী, সেমময় আমার জামিনের জন্যে আপনি বারবার চেষ্টা করেও পারছিলেন না। তখন আমার স্ত্রী আপনার চেম্বারে গিয়ে আপনার হাতে একটি খাম দিয়েছিল হাইকোর্ট থেকে বেইল করানোর জন্য। আপনি তা বিনয়ের সাথে ফেরৎ দিয়ে বলেছিলেন, কামাল ভাই আমার ভাই, তার জন্য আপনার চিন্তা করতে হবেনা। যা কিছু করতে হয় আমিই করবো। আপনি আপনার কথা রেখেছিলেন। আপনি স্বউদ্যোগে হাইকোর্ট থেকে আমার জামিন করিয়েছিলেন। আমি ও আমার পরিবার সবসময়ই আপনি সহ আদালতে যারা আমাকে আইনি সহযোগীতা দিয়ে দুঃসময়ে পাশে দাড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমরাও আপনার পরিবারের শুভকামনা করি। আমৃত্যু আল্ল¬াহর নিকট আপনাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করবো। ভালো থাকবেন ভাই, তবে শেষে একটি কথা বলছি, দলের স্বার্থে ভেবে দেখবেন। নেত্রী কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাসিত, দলের এখন চরম দুঃসময়, এখন ঐক্যবদ্ধ্য থাকার বিকল্প নেই। আপনি কি বলবেন আমি নিজেইতো কেন্দ্রে একাধিকবার জানিয়েছি। ডজন ডজন মামলায় আমি পরিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, দীর্ঘদিন করাবাস ও বেশ কয়েকবার রাজপথে পৈশাচিক নির্যাতনে দিনের পর দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও সম্পুর্ন সুস্হ হতে পারছিনা। পুলিশী নির্যাতনের ক্ষত মাথা থেকে পা পর্যন্ত বয়ে চলছি। যন্ত্রনায় রাতে ঘুম হয়না, ভাঙ্গা শরীর নিয়ে রাজপথে বা করাগারে থাকার যোগ্যতাও আর আগের মত নেই। যুদ্ধের ময়দানে আহত সৈনিকরাতো সবার বোঝাই হয়ে যায়। দল ও পরিবারের বোঝা হতে চাইনা, তাই চলে এসেছি, দলের স্বার্থে যদি আমাকে বাদ দিতে হয় দিন। আমাকে একবার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেছিল সম্মেলনের মাধ্যমে তৃনমূল কর্মীরা। মহানগরের সাধারন সম্পাদক করেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজ পরিবেশ পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করছে এই সেচ্ছা নিার্বসনে। আজ একারনে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় অনেক দায়ীত্বশীল নেতাই প্রবাসে অবস্থান করছেন। স্হায়ীভাবে থাকতে এখানে আসিনি প্রয়োজনে এসেছি, সময় সূযোগ মত ঠিকই ফিরে আসবো। তবে দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। দলের স্বার্থে জীবনকে তুচ্ছ করেছি, পদতো সেখনে কোন মানেই রাখেনা। তবে তোষামোদ বা কারোর করুনায় কিছু চাইনা, এরচেয়ে চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।’

তাঁর এমন আবেগঘন লেখায় উভয়ের দ্বৈরথের চিত্র অনেকটাই প্রশমিত হয়ে আসে। যা কিছুদিন পূর্বেও বেশ আলোচিত ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলো।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিবাদ যদি একে অপরকে সরিয়ে দেবার পাঁয়তারায় রূপান্তরিত হয় তবে এর কুফল ভোগ করতে হবে পুরো দলকে। ব্যাক্তিগত সুবিধার উদ্ধে উঠে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য দিলে এমন বিতর্ক তৈরী হওয়া সম্ভব ছিল না। এই বিতর্ক অব্যহত চলমান থাকলে পুরো মহানগর বিএনপির কমিটিই বিতর্কিত কমিটি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও