দ্বন্দ্বে মহানগর, নিরবে জেলা বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

দ্বন্দ্বে মহানগর, নিরবে জেলা বিএনপি

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি বেশ ত্রাহিদশার মধ্যে রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি অনেকটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করেছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের অন্ত নেই। অন্যদিকে জেলা বিএনপির পুরো কমিটি ঝিমিয়ে পড়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে তাদের কোন সক্রিয়তার বালাই নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা দ্বন্দ্বময় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকলেও তাদেরকে মাঠের রাজনীতিতে অনেকটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দলের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব কিছুতেই কাটছেনা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির মাঠের রাজনীতি ভুলে ঘরের রাজনীতি চর্চা করে যাচ্ছেন। যেকারণে তাদের মাঠের রাজনীতিতে একেবারে দেখা যায়না।

১৬ আগস্ট দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একটি কর্মসূচীতে পুলিশের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছেন, বাধার অভিযোগ সত্য না। বরং পুলিশ সেখানে জনগনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিয়মিত টহল ও দায়িত্ব পালন করছিল। তবে জেলা বিএনপিকে মাঠে দেখা যায়নি। তারা বরং ঘরকুনো রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় জেলে প্রেরণ করা হয়। সেই থেকে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীনরা বেশ কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। তখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের চিত্র দেখা যায়। ওই সময় মামলার পাশাপাশি ভুতুড়ে মামলার হিড়িক পড়ে। যেকারণে প্রশাসন বেশ সমালোচিত হয়েছিল। আর পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতার কারণে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা জড় হতে পারেনি। যেকারণে কর্মসূচি পালনে ব্যর্থতার চিত্র দেখা যায়। এরপর থেকেই সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দলীয় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে ক্ষমতাসীন দলের চোখ রাঙানি ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতা কমে যায়। এতে করে নির্বাচনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠে। এর মধ্যে মহানগর বিএনপি বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে। তবে সক্রিয়তার পাশাপাশি দলটিতে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দলের চিত্র দেখা যায়।

মহানগর বিএনপিতে শুরু থেকেই সভাপতি আবুল কালাম ও সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দল রয়েছে। তাদের দুজনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরাও দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যেকারণে দুপক্ষকে পৃথক পৃথক ব্যানারে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে দুগ্রুপের মধ্যে বিষোদাগার ও অভিযোগের মধ্যে দিয়ে বাকযুদ্ধের নানা চিত্র দেখা গেছে। সেই দ্বন্দ্ব কোন্দলের পানি জেলার গন্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌছে গেছে। প্রায় সময় সেই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বরাবরের মত নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে জেলা বিএনপির কমিটি একেবারে থমকে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে জেলা বিএনপি নির্বাচন ইস্যুতে সক্রিয় হলেও নির্বাচনের পরে একেবারে সক্রিয়তা দেখা যায়।

এক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মী বলছে, জেলা বিএনপির নেতৃত্ব স্থানীয় নেতারা বিগত কয়েক বছরে সক্রিয় হতে পারেনি। মাঠের রাজনীতিতে সফল হওয়া তো দূরের কথা উল্টো ঘরকুনো রাজনীতি চর্চা করেছে। যেকারণে তারা বারবার যৌক্তিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। যেকারণে এই দলটির বিগত দিনের কমিটি বাণিজ্যের পাশাপাশি নানা অভিযোগ ছাড়াও নিষ্ক্রিয়তার তলানিতে থাকার ফলে বেশ সমালোচিত হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও