বিতর্কহীন মহানগর আওয়ামী লীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

বিতর্কহীন মহানগর আওয়ামী লীগ

সাম্প্রতিক বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ও বিতর্ক দেখা দিলেও বিতর্কহীন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। কমিটি গঠনের পর দুই একটি ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত তেমন বড় কোন ঘটনা ঘটেনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগে। সেই সাথে সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগও তুলতে পারেনি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তৎকালীন শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর ২০১৭ সালের মে মাসজুড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও পরবর্তীতে সেটার আর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা অনেকদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়ার্ড কমিটি দেয়ার জন্য।

সেই সাথে ২০১৮ সালের ৫ জুন মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় দলের ৭১ সদস্যের মধ্যে ৪৩ জনের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৩ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলের ৮ জন সদস্য জেলা কমিটিতে চলে যাওয়ায় ৮ জন নতুন, সাথে আরো ৪টি নতুন পদ যোগ করে ১২টি পদ এবং একজনকে পদোন্নতি দিয়ে ১৩ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এই মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগে কোন বিরোধ দেখা যায়নি। যদিও একটি অংশ প্রায় বেশির ভাগ সময়ই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে থাকেন না। তবে  এ নিয়ে তাদের মাঝে প্রত্যক্ষ কোনো বিরোধীতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এই কমিটি গঠনের ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ওই কমিটি গঠনের পর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।

সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থানা কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ দেখা দেয়। গত ১৩ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের ওই বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামীলীগের অন্যান্য থানা কমিটিগুলো আগষ্টের পরে ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়েই সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১৫ জুলাই এ কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটি মেনে নিতে পারেননি আওয়ামী লীগের একটি অংশ।

যার সূত্র ধরে এই কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মধ্যে ৩৮ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাক্ষাৎ ও জমা দিয়েছেন। যেখানে স্বাক্ষর রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের মতো প্রভাবশালী নেতাদের।

আর এই ঘটনার রেষ ধরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। আর এই বিভক্তির কারণে অনেক সময় দলীয় কর্মসূচিও পৃথক পৃথকভাবে পালিত হচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণ সভা জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ বয়কট করেছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও