যা বললেন আজমেরী ওসমান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫২ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

যা বললেন আজমেরী ওসমান

প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের নামে থাকা ফেসবুক পেইজে সাম্প্রতিক ইস্যুতে বক্তব্য এসেছে।

৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২টায় আজমেরী ওসমানের ওই ফেসবুক পেজে ছবির সঙ্গে লেখা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে চারবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব একেএম নাসিম ওসমান ছিলেন গণমানুষের নেতা। গরীব, দু:খি ও মেহনতি মানুষের প্রাণ। এরই ধারাবাহিকতায় পিতার আদর্শকে ধারন করে দু:স্থ, অসহায় সর্বসাধারণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে তারই একমাত্র পুত্র আজমেরী ওসমান। সেই সুবাধে সরাসরি কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না হলেও সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কাজে আপমর জনতার ভালবাসায় সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সম্প্রতি একটি মহল এ সুনাম ক্ষুন্ন করার লক্ষে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীণ।’

সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের ফ্ল্যাটে ব্লক রেইড চালিয়েছে পুলিশ। এসময় আজমেরী ওসমানের দুই সহযোগিকে আটক করা হয়েছে। এমন তথ্যে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃতপক্ষে পুলিশ তাদের কাজের স্বার্থে কাজ করছে। এতে সাধুবাদ জানানো আমাদের কর্তব্য। কিন্তু যতদূর জানা গিয়েছে যাদেরকে আজমেরী ওসমানের সহযোগী বলা হচ্ছে তারা আসলে জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা নেতৃত্ব দেয়। তাদের যে বিষয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে আজমেরী ওসমান অবগত নয়। কারণ আজমেরী ওসমান কখনো কোন মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়না। যারাই এধরণের কাজ করেছেন তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। অতিতে এগুলো সকলেই দেখেছেন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রকাশ করেছেন। তাই একটি কুচক্রিমহল যে অপপ্রচার করছে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এসব কর্মকান্ড কেউ করলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।’

এখানে উল্লেখ্য আমলাপাড়া এলাকার বাচ্চু মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী ও না পেয়ে মারধরের অভিযোগে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে শহরের আমলাপাড়া এলাকার মৃত হাজী আহসান উল্লাহর ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া নামে ব্যবসায়ী বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ওই মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলো গ্রেফতারকৃত সোনারগাঁও উপজেলার নাজির পুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে মোকলেছুর রহমান (৩৫) ও ফতুল্লা ইসদাইর এলাকার মো. ফকির চাঁনের ছেলে জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি শাহাদৎ হোসেন রুপু এবং পলাতক জুয়েল (৩০)।

বাদী বাচ্চু মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় ০১৭৩৯০৮৯৪৯২ থেকে আমরা মোবাইল নাম্বারে ফোন করে বলে, ‘চাচা আমাকে চিনতে পারছেন। আমি আজমেরী ওসমান বলছি। আমার একটা লোক আপনার কাছে যাবে তাকে আপনি ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে দিবেন। এবং তাকে আদর্শ মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে মিষ্টি খাওয়াইয়া টাকা দিয়ে দিবেন।’

কিছুক্ষণ পর মোকলেছ নামে একজন লোক আমার সঙ্গে কালি মন্দিরের সামনে দেখা করে। আমি তাকে মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য কালির মন্দিরের পাশে আদর্শ মিষ্টির দোকানে মিষ্টি খায়ানের জন্য ডাকলে সে মিষ্টি খাবে না বলে পরবর্তীতে গ্রামীন হোটেলে নিয়ে হালিম খাওয়ানোর জন্য বললেও হালিম খাবে না বলে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। আমি দোকান থেকে বের হলে মোকলেস আমাকে বলে আপনাকে হাজী সাহেব ডাকছে। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে মোকলেস সহ আরো অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জন আমার প্যান্টের কোমরের বেল্ট ধরে টানতে টানতে কালির বাজার মাংস পট্টি আফসু মহাজনের হোটেলের সামনে নিয়ে এলোপাথাড়ী ভাবে মারধর করে মাথা, কপাল সহ শরীরে বিভিন্ন জায়গায় নীলা ফুলা জখম করে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন দাবিকৃত ৬৫ হাজার টাকা না পেয়ে আজমেরী ওসমানের নির্দেশে সকল আসামিরা আমাকে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতে দিবে না বলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আজমেরী ওসমান ও জুয়েলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে আল্লামা ইকবাল সড়কের (কলেজ রোড হিসেবে পরিচিত) দেওয়ান মঞ্জিলের নিচ তলার অফিসে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত পৌনে ১টায় ওই অভিযান শেষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, রাত সোয়া ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ যৌথ ভাবে অভিযান চালায়। অভিযানের শুরুতে ডিবি পুলিশের ৮টি হাইস গাড়ি আল্লামা ইকবাল  রোডের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। সাধারণ যাত্রীদের রিকশা থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও মালবাহী ট্রাকও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরে সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনর নেতৃত্বে আরো দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পুলিশ প্রথমে দেওয়ান মঞ্জিলের নিচতলায় আজমেরী ওসমানের অফিসে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সহযোগি শাহাদৎ হোসেন ও মোখলেছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ভবনের ৫ম তলার বাসায় অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের অন্য একটি টিম কাদের ভবন নামে পাশের একটি ভবনেও অভিযান চালায়। পরে আজমেরী ওসমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চলে যায় পুলিশ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও