২ বছরেও শুভ্র হত্যার বিচার না হওয়ায় ছাত্র ফেডারেশনের ক্ষোভ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:৩৮ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

২ বছরেও শুভ্র হত্যার বিচার না হওয়ায় ছাত্র ফেডারেশনের ক্ষোভ

গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখ রাতে বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তরুণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সংগঠক শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র। দুদিন নিখোঁজ থাকার পর ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূঁইগড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় তার মৃতদেহ আকষ্মিকভাবে ভেষে উঠে। পুলিশ ২ দিনের মাথায় এই হত্যাকান্ডে সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে এবং তারা পরবর্তীতে আদালতে জবানবন্দিমূলক স্বীকারোক্তি দেয়। মাত্র ৬০০ টাকা ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনতাইয়ের জন্য তারা শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র`কে হাত পা বেঁধে ডোবায় ফেলে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে পানিতে ডুবে শুভ্র`র মৃত্যু হয়।

শাহরিয়াজ শুভ্র বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ফতুল্লা থানার সংগঠক ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জের বহুল প্রচারিত দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে চাকরিরত ছিলেন। শাহরিয়াজ শুভ্র সরকারি তোলারাম কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষে (হিসাববিজ্ঞান বিভাগ) অধ্যায়নরত অবস্থায় খুন হোন।

২ বছরেও এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় বিচারব্যবস্থার উপর গভীর উদ্বেগ ও শংকা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শুভ দেব বলেন, শাহরিয়াজ শুভ্র বর্তমানের অনিরাপদ বাংলাদেশের প্রতীক। জীবনের মূল্য যে আজ ৬০০ টাকা কিংবা মোবাইল ফোনের চেয়েও কমে গেছে তার প্রতীক শাহরিয়াজ শুভ্র।

প্রশাসন ২ দিনের মাথায় যখন খুনিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিলো, তখন আমরা ভেবেছিলাম এবার বুঝি আর বিচারের দাবি নিভৃতে কাঁদবে না। আমরা যারা শুভ্র`কে হারিয়েছি তারা সঠিক বিচার পাবো। কিন্তু যতোই দিন যেতে থাকে ততোই রাষ্ট্রের ভেতরকার আসল চরিত্র উন্মোচিত হতে থাকে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খুনিরা ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিলো, খুনের দায় স্বীকার করলো, তবু কেন বিচারপ্রক্রিয়ার কাজ ২ বছরে এসেও সমাপ্ত হলো না! খুনিদের মধ্যে একজনের বিচারাধীন অবস্থাতেই জেলের ভেতর স্বাভাবিক মৃত্যু হলো। অথচ, এখনো মামলার চার্জশিট প্রদান করা হলো না! এক্ষেত্রে রাষ্ট্র যে খুনির বিচার করতে অনিচ্ছুক কিংবা অপারগ তারই প্রমাণ মিলে। খুনিরা হাতের কাছে থাকা স্বত্বেও রাষ্ট্র যখন তার বিচার করে না, তখন স্পষ্টত বুঝাই যায় এই রাষ্ট্র শেষমেশ খুনির পক্ষেই।

রাষ্ট্র একদিকে যেমন খুনিদের আশ্রয়দাতা, অন্যদিকে শুভ্র-ত্বকী-চঞ্চল`সহ- হাজারো স্বপ্ন হত্যার মূল হোতা।

তিনি বিচারবিভাগের সমালোচনা করে বলেন, আজ বিচারবিভাগ তার স্বতন্ত্রতা হারিয়ে সরকারের আজ্ঞাবহ হয়েছে। তাই সরকার প্রধানের নির্দেশ ছাড়া এখন আর কোন বিচার কাজ সম্পন্ন হয় না। আজ ৬৫ জেলার কোথাও কোন খুনের ঘটনা ঘটলেই ভিকটিম পরিবার সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আশা করতে থাকেন। মানুষ জানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এখন রাষ্ট্রের সকলবিভাগের প্রধান। সুতরাং, তার নির্দেশ ছাড়া সুষ্ঠ বিচার মিলবে না! ফলে, দিনদিন বিচার বিভাগ হয়ে উঠছে অকার্যকর, আর মানুষ হয়ে উঠছে আস্থাহীন। যা একটি স্বাধীন দেশের ভয়ংকর বেহাল দশারই প্রমান।

তিনি অবিলম্বে শুভ্র-ত্বকী-চঞ্চল`সহ- সকল নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন এবং সমাজের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। যাতে করে সমাজের ভেতর আর নতুন করে কোন খুনি-সন্ত্রাসীর উদ্ভব না হয়। নতুন করে আর কোন স্বপ্নের যবনিকা না হয়। এক্ষেত্রে ছাত্র-শ্রমিক-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একীভূত হয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও