লাইনচ্যুত সাখাওয়াতের হিরো সাজার চেষ্টা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৪ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

লাইনচ্যুত সাখাওয়াতের হিরো সাজার চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শুরু থেকেই লাইনচ্যুত হয়ে আসছেন নারায়ণগঞ্জের আইনাঙ্গন থেকে উঠে আসা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অনেকটা অপ্রত্যাশীতভাবে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতির পদ পেয়ে গেলেও তিনি কখনই মহানগর বিএনপির ব্যানারে একত্রে কর্মসূচি পালন করেনি। সবসময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সেই সাথে এবার লাইনচ্যুত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হিরো হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদা কর্মসূচি পালন করে পুলিশের বাধায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নিজেকে আলোচনায় আনার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল। আর সেই কর্মসূচির আলোকে এদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসার দাবীতে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। যেখানে বরাবরের মতোই অনুপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে সকালে অনুপস্থিত থাকলেও বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে মামববন্ধন কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

কিন্তু এদিন রহস্যজনক কারণে পুলিশ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসন খানকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনে বাধা দেন। নেতাকর্মীদেরকে ক্লাব মার্কেটে আটকিয়ে রেখে সীমিত সময়ের জন্য কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেন পুলিশ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কোন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেন না। যার ধারাবাহিকতায় সকালে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি এবং বিকেলে জেলা বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি পুলিশের বাধা ছাড়াই পালিত হয়েছে। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা হয়তো কর্মসূচি পালনে পুলিশের বাধায় বাধাপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেকে হিরো বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যদিও তার কাছে সন্তুষ্ট নয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাই। অতীতের অনেক কাজেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙ্গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সহজেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হয়ে যান। এর আগে ২০০৯ সালে শহর বিএনপির মূলধারার কমিটিতে ঠাঁই না পেয়ে বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিলেন সাখাওয়াত। যেখানে নুরুল ইসলাম সর্দারকে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান নিজে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।

এদিকে ২০১৭ সালের নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির নেতাদের সাথে কোন কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাকে। সবসময় তিনি দলীয় শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মতির বাইরে গিয়ে মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে থাকেন। সেই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নিজ স্বার্থের জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক কমিটিতেই প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে কমিটির বিদ্রোহী নেতারা তার আশ্রয় পশ্রয় পেয়ে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোতেও কোন্দল সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সবকিছুতেই তিনি নাটের গুরু হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও