প্রথমবারের মত বাধায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৬ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

প্রথমবারের মত বাধায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী

কমিটি গঠন নিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল। তাঁরা সবশেষ শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে সোনারগাঁয়ে সভা করতে গিয়ে বিদ্রোহীদের রোষানলে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন তাঁরা।

নারায়ণগঞ্জে এ প্রথমবারের মত তারা নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে অবরুদ্ধ হলেন। আর এ নিয়ে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। এর আগে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিয়ে এ দুইজনকে তেমন বেগ পেতে না হলেও সোনারগাঁও কমিটি নিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জে ছিলেন দুইজনই।

সূত্র বলছে, গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।

এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সেই সাথে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বিদ্রোহ করে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন।

যার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় গ্রেনেড হামলা নিহতদের স্মরণে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শোক সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিকে প্রতিহতের আহবান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, এখন আমার জীবনে আর কোন পদ-পদবী চাওয়া পাওয়া নাই। এখন আমি সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মুখে হাসি দেখতে চাই। আমি আশা করি আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে সেই নেতাকর্মীদের মুখে হাসি ফুটবে। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগকে ওরস্যালাইন আওয়ামীলীগ হতে দেয়া যাবে না। আপনারা সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ওরস্যালাইন মার্কা আওয়ামীলীগকে যেখানে পাবেন সেখানেই প্রতিহত করবেন।

এ অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইউনিয়ন সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক সভা করার জন্য উটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা করার ঘোষণা দেন। অপরদিকে উপজেলা যুবলীগের পক্ষে থেকে একই স্থানে একই দিনে আরেকটি বর্ধিত সভার আয়োজন করে। এ যুবলীগ মূলত কায়সার হাসনাতের অনুগামী।

সমাবেশ নিয়ে গত দুইদিন ধরে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর পেয়ে সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ দুই পক্ষের সভা নিষিদ্ধ করে।

সভা নিষিদ্ধ করার পর জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পক্ষে ডা. আবু জাফর চৌধুরীর সমর্থকদের করা মঞ্চ পুলিশ ভেঙ্গে দেয়। ওই সময়ে বিরুর বাড়িতেই অবস্থান নেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল। তখন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু সহ নেতাকর্মীরা ডা. বিরুর বাড়ীর চারদিকে অবস্থান নিয়ে বিরুর নেতাকর্মীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিরুর নেতাকর্মীদের মারধর, গাড়ী ভাংচুর ও ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে।

অপরদিকে উটমা স্কুলে সভা করতে না পেরে ডা. বিরু তার বাড়ীতে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি সভা করে যুবলীগের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে কঠোর হুশিয়ারী দেন। পরে তিনি তার বাড়ীর গেটে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও