যুবলীগেই কুপোকাত আওয়ামী লীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৬ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

যুবলীগেই কুপোকাত আওয়ামী লীগ

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে স্থানীয় ও জেলা আওয়ামী লীগে চরম পর্যায়ে বিরোধ চলছে। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জেলা পর্যায়ের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কমান্ড মানছে না। সেই সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও কোন কমান্ড মানছেন না। প্রতিহত করার যোষণা দিয়ে তারা প্রতিহত করা শুরু করে দিয়েছেন।

সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের কথা অনুযায়ী তৃণমূলের নেতারাই জেলা আওয়ামী লীগ ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিকে প্রতিহত করছেন। হেভিওয়েট নেতাদের মাঠে নামা ছাড়াই সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম দুজনে মিলেই আহবায়ক কমিটির নেতাদের ও তাদের সমর্থকদের প্রতিহত করে দিলেন।

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও সামসুদ্দিন খান আবু।

এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সেই সাথে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বিদ্রোহ করে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। ফলে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ।

যার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ১৫ আগষ্ট ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা নিহততের স্মরণে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শোক সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন। সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ- কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ মোল্লা বাদশা সহ অন্যান্য নেতারা।

শোক সভায় প্রধান অতিথি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিকে প্রতিহতের আহবান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, এখন আমার জীবনে আর কোন পদ-পদবী চাওয়া পাওয়া নাই। এখন আমি সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মুখে হাসি দেখতে চাই। আমি আশা করি আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে সেই নেতাকর্মীদের মুখে হাসি ফুটবে। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগকে ওরস্যালাইন আওয়ামীলীগ হতে দেয়া যাবে না। আপনারা সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ওরস্যালাইন মার্কা আওয়ামীলীগকে যেখানে পাবেন সেখানেই প্রতিহত করবেন।

এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর জামপুর ইউনিয়নের ওটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভার আয়োজন করেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। সেই কথা অনুযায়ী তারা উপস্থিতও হয়েছিলেন সম্মেলনস্থলে।

কিন্তু তাদেরকে প্রতিহত করার আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও কালাম সমর্থিত সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম। রফিকুল ইসলাম নান্নুও একই সময়ে একই স্থানে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার ঘোষণা করেন। ফলে ওটমা বিদ্যালয়ে দু’পক্ষের সভাকে ঘিরে সেখানকার নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বিদ্যালয়ে সভা করতে দু’দলই মারমুখী অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে প্রশাসন বিদ্যালয়ে সকল প্রকার সভা নিষিদ্ধ করে দেন।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরুর উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু রফিকুল ইসলাম নান্নু ও জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমের প্রতিহতের ঘটনায় তারা পেরে উঠতে না পেরে অবশেষে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিরুর বাড়িতে অবস্থান নেন এবং আবদ্ধ জায়গায়ই তাদেরকে সম্মেলন করতে হয়। কায়সার সহ হেভিওয়েট নেতাদের মাঠে নামা ছাড়াই রফিকুল ইসলাম নান্নু ও মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম দুজনে মিলেই তাদেরকে প্রতিহত করে দিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও