সাখাওয়াতের নাটকীয়তায় কাবু কালাম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪০ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

সাখাওয়াতের নাটকীয়তায় কাবু কালাম

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও পুলিশের বাধা ঢিঙিয়ে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে পুলিশের চোখ রাঙানি কমার ফলে বিএনপির অনেক সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে। দলের অনেকেই এটাকে লাইনচ্যুত বললেও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে রাজনীতিতে হিরো হওয়ার প্রচেষ্টাকে অনেকে নাটকীয়তা বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে দলটির সভাপতি ও সেক্রেটারী দুজনের একজনও দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারছেনা। এমনতি তাদের অনুপস্থিতিতে বরাবারের মত বেশ সমালোচিত হচ্ছে। এতে করে সাখাওয়াতের নাটকীয়তাও কাবু করছে সভাপতি আবুল কালাম ও সেক্রেটারী এটি এম কামালকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি ও অনিহার ফলে মহানগর বিএনপি নিষ্ক্রিয়তার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারছেনা। সেই সুযোগে দলটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সাখাওয়াত হোসেন খান পৃথক ব্যানারে নাটকীয়তা করে সকলের কাছে হিরো বনে যাচ্ছে। যদিও প্রথম দিকে এই নাটকীয়তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও ধীরে ধীরে সব স্পষ্ট হতে থাকে। কিন্তু সেসব নাটকীয়তার পরেও দলটির সভাপতি সেক্রেটারী নিষ্ক্রিয়তার ফলে তার কাছে পরাস্ত হচ্ছে।


জানা গেছে, দীর্ঘদিনে ক্ষমতার স্বাদ থেকে দূরে থাকা বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের ১০ মাস অনেক ত্রাহিদশার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয়েছে। সেসময় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। সেসময় দলীয় কর্মসূচি পুলিশি বাধার মুখে নেতাকর্মীরা থমকে যায়। নেতাদের অনেকে মামলায় ভয়ে কর্মসূচি বিমুখ হয়ে পড়ে।

তবে সেসময় মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে পৃথক ব্যানারে পুলিশি বাধার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করে বরাবরের মত হিরো হতে চেয়েছেন। তবে তার সেই চেষ্টা এক পর্যায়ে তাকে বেশ আলোচিত করে তুলে। আর তাতে পৃথক হয়ে ও বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে কর্মসূচি পালনের কারণে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের তাকমা ঘুচে যায়।

অন্যদিকে দলের সভাপতি ও সেক্রেটারী সহ অন্য নেতারা দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখলেও দলীয় কর্মসূচিতে অনিয়মিত ছিলেন, কিছু কর্মসূচিতে নামমাত্র উপস্থিতি দেখা যায়। এতে করে সাখাওয়াতের সেই নাটকীয়তার কাছে দলের সভাপতি ও সেক্রেটারীকে পরাস্ত হতে হয়।

জানা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল। আর সেই কর্মসূচির আলোকে এদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসার দাবীতে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। যেখানে বরাবরের মতোই অনুপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে সকালে অনুপস্থিত থাকলেও বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে মামববন্ধন কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

কিন্তু এদিন রহস্যজনক কারণে পুলিশ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসন খানকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনে বাধা দেন। নেতাকর্মীদেরকে ক্লাব মার্কেটে আটকিয়ে রেখে সীমিত সময়ের জন্য কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেন পুলিশ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কোন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেন না। যার ধারাবাহিকতায় সকালে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি এবং বিকেলে জেলা বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি পুলিশের বাধা ছাড়াই পালিত হয়েছে। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা হয়তো কর্মসূচি পালনে পুলিশের বাধায় বাধাপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেকে হিরো বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যদিও তার কাছে সন্তুষ্ট নয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাই। অতীতের অনেক কাজেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০০৯ সালে শহর বিএনপির মূলধারার কমিটিতে ঠাঁই না পেয়ে বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিলেন সাখাওয়াত। যেখানে নুরুল ইসলাম সর্দারকে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান নিজে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এছাড়াও কিছু বিতর্কিতদের তার সাথে কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ২০১৭ সালের নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির নেতাদের সাথে কোন কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাকে। সবসময় তিনি দলীয় শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মতির বাইরে গিয়ে মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে থাকেন। সেই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নিজ স্বার্থের জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক কমিটিতেই প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে কমিটির বিদ্রোহী নেতারা তার আশ্রয় পশ্রয় পেয়ে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোতেও কোন্দল সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সবকিছুতেই তিনি নাটের গুরু হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকেন।

সূত্র বলছে, সাখাওয়াতের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিতর্কিতদের নিয়ে নাটকীয়তা সত্ত্বেও দলটির সভাপতি আবুল কালাম ও সেক্রেটারী এটি কামাল কোন কুল কিনারা করতে পারছেনা। কারণ আবুল কালাম বরাবরের মত নিষ্ক্রিয় থেকে কর্মসূচি পালন ব্যর্থ হয়ে বেশ সমালোচিত হচ্ছেন। অন্যদিকে এটি এম কামাল প্রবাসে অবস্থান করে সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে সাখাওয়াতের নাটকীয়তার কাছে তারা পরাস্ত হচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাখাওয়াত রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও