নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সহ্য হয় না

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সহ্য হয় না

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুইজন প্রভাবশালী নেতা হচ্ছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমান। এদের দুইজনেরই পরিবারে রয়েছে রাজনৈতিক ইহিতাস ও ঐতিহ্য। এদের মধ্যে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে প্রায় সবসময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরোধ চলে। আর সেই সূত্র ধরে তাদের সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শক্তিশালী দুই গ্রুপেই রয়েছে বিপ্লবী চরিত্র। যারা বিভিন্ন সময় কঠোর ভাষায় প্রতিপক্ষের জবাব দিয়ে থাকেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পরিবার হচ্ছে আলী আহমেদ চুনকা পরিবার। আর সেই পরিবারের বর্তমান হাল ধরছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেক কিছুই তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। বর্তমানে ডা. সেলিনা হায়াৎ। আইভী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর তাকে রাজনৈতিকভাবে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। যে কোন বিষয়ে মেয়র আইভীর পক্ষে তারা কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে থাকেন।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পরিবার হচ্ছে ওসমান পরিবার। আর এই পরিবারের অন্যতম কর্ণধার হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনিও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেক কিছুই নির্ধারণ করে থাকেন। বর্তমানে শামীম ওসমান মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর তাকে রাজনৈতিকভাবে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীরেগর সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন। তবে এদের মধ্যে আবু হাসনাত শহীদ বাদল ও খোকন সাহা মাঝে মাঝে এদিক সেদিক হয়ে থাকেন। আর বাকীরা সবসময় যে কোন বিষয়ে শামীম ওসমানের পক্ষে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে থাকেন।

জানা যায়, গত ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়। আর ওই স্মারকলিপির প্রতিবাদ জানান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। গত ২০ জুন জেলা আওয়ামীলীগের সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সের্লিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া নিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে একজন রাজাকারের সন্তান স্মারকলিপি দিয়েছে। আর সেখানে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এটা কখনই কাম্য নয়। আমি এই ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

আর এই বক্তব্যের পাল্টা কাউন্টার বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী। তিনি বলেন, মেয়র আইভীরও উচিত হয়নি এই বিষয়ে বক্তব্য দেয়া। তার সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তিনি আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারেন না।

এদিকে শোক দিবস উপলক্ষ্যে গত ১৫ আগস্ট জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা শেষে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে আলোচনা সভায় অংশ নেন। ওই সময়ে এমপি শামীম ওসমানের পক্ষেও স্লোগান ধরা হয়। ‘নারায়ণগঞ্জের মাটি শামীম ওসমানের ঘাঁটি’ স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে ‘একটা একটা দালাল ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর, একটা একটা রাজাকার ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান ধরা হয়। আর এই স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল কাদির ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

যিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। আব্দুল কাদির টেবিল চাপড়ে বলতে থাকেন, আমি এমনি এমনি এখানে আসি নাই। ছাত্রলীগ যুবলীগ করেই আসছি। কাদের দালাল বলা হচ্ছে। কাদের কল্লা কাটবে। আবদুল কাদিরের ওই ধমকের পরেই থেমে যায় স্লোগান। পরে তাকে বোঝানো হয় মূলত রাজাকারদের বিরুদ্ধেই স্লোগান দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে ২০১৮ সালের হকারের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সংঘর্ষের ঘটনাতেও আব্দুল কাদির ও জাহাঙ্গীর আলম গুরুত্বর আহত হয়েছিলেন। এছাড়াও জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন নিয়ে শামীম ওসনমানের বক্তব্যের সরাসরি কাউন্টার দিয়ে থাকেন।

অন্যদিকে শামীম ওসমানের পক্ষেও যে কোন বিষয়ে প্রায় সবসময় কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে থাকেন শাহ নিজাম, জাকিরুল আলম হেলাল, শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু ও মো: জুয়েল হোসেন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ডাকা বিশাল সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সমাবেশে যোগদান করেছেন নেতাকর্মী সমর্থকদের বিশাল বহর নিয়ে। সেই সাথে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে শামীম ওসমানে পক্ষে বেশ কড়াভাবে জবাব েিদয়ছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও