এবার জিকে শামীম নিয়ে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

এবার জিকে শামীম নিয়ে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সব থেকে আলোচিত নারায়ণগঞ্জ। ভালো কি মন্দ, বিভেধ কি সংঘাত, খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতি বিভিন্ন কারণেই গণমাধ্যমের শিরোনাম থাকে নারায়ণগঞ্জ। রাজনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন থেকে শুরু করে গুম, খুন, অপহরণ সহ বিভিন্ন কারণেই বার বার আলোচনায় উঠে আসে নারায়ণগঞ্জ। আর সব থেকে বেশি আলোচনায় আসে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। তবে এ আলোচনায় নতুন করে নারায়ণগঞ্জের নাম উঠে এসেছে যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের অফিসে র‌্যাবের অভিযানের পর থেকেই।

সব শেষ নারায়ণগঞ্জ আলোচনায় আসে সিদ্ধিরগঞ্জে সিআই খোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় মা ও দুই মেয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায়। কিন্তু এ আলোচনা শেষ না হতেই নতুন করে নারায়ণগঞ্জের নাম আসতে শুরু করেছে।

২০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর নিকেতন থেকে ৭ দেহরক্ষীসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জি কে শামীমকে আটক করে র‌্যাব। তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ, অস্ত্র ও বিদেশি মদ জব্ধ করা হয়।

জিকে শামীম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত সহ সভাপতি ছিলেন।

সোনারগাঁ সন্মানদী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের চরবুলুই গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি জে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে জি কে শামীম দ্বিতীয়। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। বর্তমানে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত ২ মাস আগে বাবার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ৩ তলা ভবন করেছেন। সেটার কাজ এখনও চলমান আছে। আর বাড়িটি দেখাশোনার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক আছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম। সবশেষ গত রমজান ঈদে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তবে রাতে থাকেননি। এছাড়াও গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাদের চলাফেরা খুব কম।

দোলোয়ার হোসেন বলেন, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগি কোন সংগঠনে তার নাম নেই। তিনি ঢাকায় যুবলীগের রাজনীতি করেন। কি পদে আছেন সেটা জানা নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, জি কে শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য না। জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাছাড়া গণমাধ্যমে জেলা কমিটি তালিকাও আছে। সেটা দেখলেই সত্যতা পেয়ে যাবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্য কোন সহযোগি সংগঠনেও তার কোন সদস্য পদ নেই।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের একজন সহ সভাপতি মারা যাওয়ার পর শূন্য পদের জন্য জি কে শামীমের নাম প্রস্তাব করা হয়।

এ বিষয়ে আব্দুল হাই বলেন, কোন নাম প্রস্তাব করা হয়নি। শূন্য পদ এখনও শূন্য রয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হাকার বসাকে কেন্দ্র করে হকারদের হামলায় মেয়র আইভী ও তাঁর সমর্থকদের আহত হওয়ার ঘটনায়। আর ঘটনা ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের মুখে মুখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের কাপ পর্যন্ত আলোচনায় ছিল শামীম ও আইভীর দ্বন্দ্ব। এখনও দুইজন দুজনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়াও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও সিনিয়র আইনজীবী সহ সাত জনকে আপহরণ ও একদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশ ও দেশের বাইরে আলোচনায় আসে নারায়ণগঞ্জ। এ ঘটনায় র‌্যাবের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগে আদালত রায় প্রধানের পর পুনরায় আলোচনায় আসে নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও ৫ খুন, ৪ খুন, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অধীনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদন, উন্নয়ন নিয়ে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যি, নীট শিল্প, গার্মেন্ট শ্রমিকদের দাবি নিয়েও আলোচনায় আসে নারায়ণগঞ্জ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও