এবার আলোচনায় ‘কালো তালিকাভুক্ত’ এমপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৫ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

এবার আলোচনায় ‘কালো তালিকাভুক্ত’ এমপি

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কালো তালিকায় নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী একজন এমপি আছেন- অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডারে এমন খববের পর দেখা দিয়েছে আলোচনা। রাজনৈতিক নেতা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এবং জেলা উপজেলা জুড়ে সর্বত্র এ আলোচনায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার একটি সংবাদ প্রকাশ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সহ নিজস্ব একটি টিমের মাধ্যমে সারা দেশের ২৭ জন প্রভাবশালী এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের অপকর্মের তদন্ত করছেন। ওই ২৭ জনের মধ্যে একজন নারায়ণঞ্জের এমপি। তবে সংসদীয় আসন কিংবা এমপির নাম প্রকাশ করেনি গণমাধ্যমটি।

ইনসাইডারের ওই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শুধু ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগই নয়; ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অপকর্মেরও তদন্ত করা হচ্ছে। এই তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রীরাও রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি নিজস্ব টীম এই কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলেছে, ইতিমধ্যে বিভিন্ন অপরাধ এবং অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ২৭ জন এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই ২৭ জন এমপির মধ্যে ঢাকার এমপি অন্তত তিনজন। এদের একজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শ্মশানঘাটের জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। আরেক এমপির বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের লালন পালনের অভিযোগ।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের প্রত্যেক এমপিই নিজ নিজ এলাকায় প্রভাবশালী। এমপি হলেও তারাই মূলত আওয়ামীলীগকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ভূমিদস্যূ চাঁদাবাজ সহ অপকর্মের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। তাদের যেমন ভালো কাজ রয়েছে তেমনি তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও আছে। এ অভিযোগ যেমন বিএনপি সহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা করে তেমনি নিজের দলের নেতাকর্মীদেরও অভিযোগ রয়েছে। নেতৃত্ব নিয়ে নিজ দলে বিভাজন নিয়ে দ্বন্দ্বও রয়েছে। এমন দ্বন্দ্বে গত নির্বাচনের আগে পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছে, অনেকে কারাগারে গিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে দলীয় ও নিজের অনুগত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার কিংবা মামলার অভিযোগ এসব এমপিরাই প্রশাসনের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন। সভা সমাবেশ করেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুশিয়ারী দিয়েছেন। এজন্যই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেই প্রশ্ন কে এ কালো তালিকার এমপি। কে প্রভাবশালী এমপি। সকলের মধ্যেই কৌতুহল কাজ করছে।

জানা গেছে, ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গঠিত। এগুলো হলো, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন, আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন, সোনারগাঁও উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এবং নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। এ ৫টি আসনের মধ্যে তিনটিতে (নারায়ণগঞ্জ ১,২ ও ৪ আসন) আওয়ামী লীগের এমপি ও দুটিতে (নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫ আসন) জাতীয় পার্টির এমপি।

ওই প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলেিগর সভাপতি যে ২৭ জন প্রভাবশালী এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তদন্ত করছে তারা আওয়ামীলীগের না জাতীয় পার্টির এ বিষয়টিও নিশ্চিত করে বলা হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জের ৫ এমপির মধ্যে যে কেউ একজন হতে পারেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও