নারায়ণগঞ্জে জিকে শামীমের আলিশান বাড়িতে এখন সুনশান নীরবতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৩ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

নারায়ণগঞ্জে জিকে শামীমের আলিশান বাড়িতে এখন সুনশান নীরবতা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে জি কে শামীম। তিন ছেলে নাসিম, শামীম ও হোসাইনের মধ্যে শামীম ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান। বাবা ছিলেন হরহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলেই রাজনীতি করেন, যার মধ্যে বড় ছেলে নাসিম জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত আর মেঝ ছেলে শামীম যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

শামীম ছোটবেলা থেকেই ছিলেন কিছুটা মেধাবী। সোনারগাঁ বারদী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এসএসসি ও পঞ্চমীঘাট কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাশ করেই ঢাকায় লেখাপড়া করতে সোনারগাঁ ত্যাগ করেন। ঢাকায় গিয়ে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তার।

জানা যায়, ঢাকায় প্রথমে একটি মেসে থাকতেন শামীম। সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজের বাড়ি গাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক বনে যায় সে। বাসাবো ও সবুজবাগ এলাকায় বেড়ে উঠা তার। নিজস্ব কর্মী বাহিনী থেকে সন্ত্রাসী বাহিনীও তৈরী হয় তার। সোনারগাঁতে বাড়ি থাকলেও এখানে থাকতেন না সে। বাবার বাড়িকে নতুন করে বিল্ডিং করে তৈরী করেন তিনি। পুরো তিনতলা বাড়িটিতে তিনি একা থাকার জন্যই তৈরি করেছেন, এখানে কোন ভাড়াটিয়াও দেয়া হয়নি। ভেতরে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল ব্যবস্থাও।

প্রায় ১০ শতাংশ জমির উপর তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। বাড়িটিতে দামি দামি আসবাবপত্র ও কোটি টাকার মালামালসহ এখানে একজন কেয়ারটেকার থাকেন শুধু। তবে দুদিন আগেই সে ছুটি নিয়ে সদর দরজা তালা দিয়ে চলে যায়। এখন সুনসান নীরবতা এই বাড়িটিতে।

জানা যায়, গত রমজানের ঈদে সর্বশেষ বাড়ি এসেছিলেন শামীম। তিনটি গাড়িতে করে সাথে ৬ জন গানম্যান নিয়ে বাড়ি আসেন তিনি। এ ছাড়াও সাথে আরো কয়েকজন আসেন ঢাকা থেকে। ঈদের দিনটি এখানে কাটিয়ে আবার ফিরে যান ঢাকায়। এরপর আর আসেননি এখানে। তবে বাড়ি আসার সময় সাথে অস্ত্রসহ ৬ জন গানম্যান নজর কাড়ে এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী জানান, তারা তার সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। শুধু জানেন ঢাকায় বড় ব্যবসা ও আওয়ামীলীগ করে। এখানে তেমন আসেন না। বাড়িটির ভেতরে অনেক সুন্দর তবে তিনি এখানে থাকেন না। ভেতরে অনেক দামি দামি আসবাবপত্রও রয়েছে।

তারা জানান, বাবার রেখে যাওয়া ১০ কানি (৩০০ শতাংশ) জমি ছাড়া এখানে আর তাদের কোন সম্পত্তি নেই। তবে শামীম নিজে এই বাড়িটি অনেক খরচ করে করেছেন এবং ভেতরে অনেক দামি দামি আসবাবপত্র কিনেছেন।

তার ভাতিজা সন্মান্দি ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার জানান, চাচা তো যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। শেষ ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। কেয়ারটেকার চলে গেছে দুদিন আগে তালা দিয়ে তবে কোথায় গেছে জানিনা।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়ধারী জি কে শামীমকে শুক্রবার তার গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে বিপুল অস্ত্র-মাদক ও টাকাসহ আটক করা হয়।

শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয় জি কে বিল্ডার্সে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর, সর্টগান, মাদক, বিদেশি অর্থ জব্ধ করা হয়। জি কে শামীমের অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, জি কে শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও কেউ না। তবে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কমিটিতে রাখার জন্য জি কে শামীমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। আর এই নামের প্রস্তাবক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। এ নিয়ে ওই বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে চরম বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে কোন সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে দিয়েই বর্ধিত সভার সমাপ্তি করা হয়েছিল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও