শামীম ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আতংক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৯ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

শামীম ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আতংক

বর্তমান সময়ের আলোচিত ঘটনা হলো কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের গ্রেফতারের ঘটনা।

যদিও যুবলীগ বলছে, জি কে শামীম যুবলীগের কেউ না, সে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগও বলছে, জি কে শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কেউ না।

তবে যুবলীগ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে এই টেলাটেলি থাকলেও জিকে শামীমের গ্রেফতারে আতঙ্কে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেকেই।

কারণ জিকে শামীমের বাড়ি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায়। সেই সাথে জি কে শামীমের সাথে দেশের রথ মহারথিদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেকের সাথে জি কে শামীমের সম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক বিষয়। তবে এই সম্পর্কের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ের জন্য ক্ষতিকর। ইতোমধ্যে জি কে শামীমের সাথে সম্পর্ক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেকে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেছে। আর এই ফাঁসের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেকেই আতঙ্ক রয়েছে। কখন না জানি কার সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যায়।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকা নিকেতন থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীমকে ৭ দেহরক্ষী সহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে নিকেতনে শামীমের ব্যাবসায়ীক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার এই গ্রেফতারের পর পরই যুবলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু দাবী করছেন জি কে শামীম যুবলীগের কেউ নয়, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলও বলেন, জি কে শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কেউ নয়। আব্দুল হাই বলেন, তিনি জি কে শামীম নামে কাউকে চিনেনই না।

অথচ তারাই ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সহ সভাপতি পদে পদায়ন করার ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতিবাদের মুখে পদায়ন করা আর সম্ভব হয়নি।

তবে এই বিষয়টিকেই পুরোপুরিভাবে অস্বীকার করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। সেই সাথে গণমাধ্যমে বিবৃতিও দেন তাদের সাথে জি কে শামীমের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু তাদের এই অস্বীকারের একদিনের মাথায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিকে শামীমে সাথে সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের সম্পর্কের ছবি ফাঁস হয়ে যায়। ফলে তাদের অস্বীকারের ঘটনা শেষ পর্যন্ত গিয়ে মিথ্যায় পরিণত হয়।

এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক ছবি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন। কারণ একসময় জি কে শামীমের সাথে সম্পর্ক রাখা কিংবা তার সাথে ছবি তোলাটা দোষের কিছু না হলেও সাম্প্রতিক সময়ের জন্য এই সম্পর্ক জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। ফলে একসময় জি কে শামীমের সাথে সম্পর্ক থাকলেও আপাতত আওয়ামী লীগের কেউই চান না সেই সম্পর্ক ফাঁস হোক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রমের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। সন্মানদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাঁদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম।

তিনি সবসময় ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী প্রটেকশন নিয়ে চলেন। সবার হাতেই থাকে শর্টগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। শামীম ছোটখাটো মানুষ হলেও তার ক্ষমতার দাপট আকাশসমান।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিংবা যুবলীগের পার্টি অফিস, বিয়ে বাড়ি কিংবা বন্ধুর বাড়ি, যেখানেই তিনি যান, সঙ্গে থাকে অস্ত্রধারী প্রটোকল বাহিনী। ভারী অস্ত্র নিয়ে ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী আগে-পিছে পাহারা দিয়ে তাকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জি কে শামীম।

বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। এই বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার। শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। এবং নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও