আওয়ামীলীগের ত্যাগীরা উজ্জীবিত, বিতর্কিতরা আতঙ্কে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আওয়ামীলীগের ত্যাগীরা উজ্জীবিত, বিতর্কিতরা আতঙ্কে

সম্প্রতি আওয়ামীলীগ দলটি চমক দেখানো অ্যাকশন দেখিয়ে দলকে নতুন করে চাঙ্গা করে তুলছে। দলটির হাইকমান্ডের ঘোষণায় পুলিশ প্রশাসন কড়া অ্যাকশনের মধ্য কেন্দ্রীয় নেতারা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এতে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিতর্কিতদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে দলের অবমূল্যায়িত ও ত্যাগী নেতারা বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। তারা বলছেন, আওয়ামীলীগ তার প্রকৃত রুপে ফিরে এসেছে। কতিপয় বিতর্কিতদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এখন ক্লিন ইমেজধারীরা নেতারাই শুধুমাত্র দলে জায়গা পাবে। এতে রাজনীতি প্রকৃত ছন্দ ফিরে পাবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কযেকজন নেতার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই ছাত্রলীগের পদ হারান শোভন-রাব্বানী। এরপর যুবলীগকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর আটক হন খালেদ। পরের দিন যুবলীগের নেতা জি কে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।

২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে রাজধানীর নিকেতনে তার কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শামীম নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় নিয়ে আসতেন। তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর, সর্টগান, মাদক, বিদেশি অর্থ জব্ধ করা হয়। জি কে শামীমের অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

ওই দিন রাতের বেলা কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও হলুদ রঙের ইয়াবা সহ ক্লাবের চেয়ারম্যান শফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার সহ তার ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। এসময় ক্যাসিনোতে থাকা ১৪২ জন সহ জুয়ার খেলার সরঞ্জাম ও মাদক জব্ধ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। আমি করব। জানি এগুলো কঠিন কাজ। কিন্তু করব। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা আসবে। তারপরও আমি করবই।

আওয়ামীলীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এরুপ বক্তব্যের পর পুলিশ প্রশাসনের কড়া অ্যাকশনে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে করে দলের বিতর্কিতরা ঝরে পড়ছে। আবার অনেকে বিতর্কিত কর্মকা- ছেড়ে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে ত্যাগী নেতারা উজ্জীবিত হয়ে উঠছে।

ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলছেন, আওয়ামীলীগের কতিপয় বিতর্কিত নেতাদের কারণে পুরো দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। আর তাদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়িত হয়ে এসেছে। কারণ এসব বিতর্কিতরা টাকা ও লবিং করে বিভিন্ন পদ পদবি হাসিল করে নেয়। এতে করে ত্যাগীরা অবমূল্যায়িত হয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়। আর তাতে দু দিক দিয়ে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। একদিকে ত্যাগী নেতারা ব্যাকফুটে চলে যায়। অন্যদিকে বিতর্কিতরা পদ হাসিল করে নেয়। তবে এখন শুদ্ধিকরণ অভিযানের মধ্য দিয়ে বিতর্কিতরা প্রশাসনের জালে আটকা পড়ছেন। যেকারণে ত্যাগীরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে রাজনীতিতে কামব্যাক করছেন।

অন্যদিকে দলের বিতর্কিত নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর তাতে কেউ ছাড় পাচ্ছেনা। তাই বিতর্কিতরা আতঙ্কিত হয়ে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও