আর কত দিন মৃত্যুর আতঙ্ক নিয়ে আমাদেরকে ঘুমাতে হবে (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ৮ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার

আর কত দিন মৃত্যুর আতঙ্ক নিয়ে আমাদেরকে ঘুমাতে হবে (ভিডিও)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।

৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুমাইয়া সেতু সহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনগুলোর নেৃতৃবৃন্দ।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য ঘটনা দিনের পর দিন রাতের পর রাত আমরা দেখছি। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চিন্তা করতে হয় আমি ঠিক থাকবো কি না। রাতে কোনো সন্ত্রাসীর হাতে আমার কোনো ভাই বা বোন নির্যাতিত হবে কি না সেই আতঙ্কে ভোর হয়। আর কত দিন এই আতঙ্ক নিয়ে আমাদেরকে ঘুমাতে হবে?

তিনি আরো বলেন, প্রতি রাতে আমাদের বাবা মায়েরা ভাবে যে আমার ছেলে মেয়েরা নিরাপদ কি না। এই ভাবনার বিষয়টা এখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত চলে গেছে। অথচ আমরা যদি দেখি যে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলনে মায়েরাই আন্দোলনের জন্য পাঠাতো। আজকে এমন এক আতঙ্ক তৈরী হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় বলে দেয় তুমি কোন কথা বলবা না। তুমি তোমার মত পড়ালেখা করবা।

তিনি বালেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা পড়ালেখা করে। যারা কয়েকদিন পরে আমার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ আজকে তাদের অবস্থা কি। এই চিত্র শুধু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের না। এই চিত্র দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমরা ধিক্কার জানাই এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে। যাদের কারণে মেধাবীদের জীবন দিতে হচ্ছে। আমাদের দাবি একটাই আবরারের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এবং কঠোর থেকে কঠোর শাস্থির ব্যবস্থা করতে হবে।

এসময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুমাইয়া সেতু বলেন, আজকে আমরা প্রথম এখানে দাঁড়াইনি। প্রতি মাসেই কোনো না কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে হয় এখানে নয়তো প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়াতে হয়। আমাদেরকে এর আগেও দাঁড়াতে হয়েছে যখন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে হাফিজুর হত্যা হয়েছিল। আমাদেরকে দাঁড়াতে হয়েছে যখন অভিজিত খুন হয়েছিল। আমাদেরকে দাঁড়াতে হয়েছে যখন বিশ্বজিতকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমাদেরকে দাঁড়াতে হয়েছে যখন নারায়ণগঞ্জের আরেক মেধাবী সন্তান ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। আজকে সেই লাশের মিছিলে আরেক জনের নাম যুক্ত হলো।

তিনি আরো বলেন, এই লাশের মিছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই লাশের মিছিলে সংখ্যা আস্তে আস্তে বেড়েই চলেছে। আজকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আবরারের নাম। আমরা এর আগেও বাইকে বলেছিলাম যদি সকলে মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি, বিশ্বজিৎ, হাফিজুলের খুনিদের ফাঁসি দিতে পারি তাহলে আজকে আবরার মরতো না। তনু, নুসরাত, ত্বকী কিংবা আবরাররের লাশের মিছিলগুলো বৃদ্ধি পেতো না। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভিসিকে অপসারণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। সকলে মিলে যদি প্রতিবাদ করি তাহলে আর নতুন কাউকে জীবন দিতে হবে না।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাত আটটার দিকে আবরার ফাহাদকে শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠান তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৭-৮ জন নেতা। তাঁরা আবরার ফাহাদের মুঠোফোন চেক করে শিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খোঁজেন। একপর্যায়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে তাঁকে পেটাতে শুরু করেন তাঁরা। পরে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই কক্ষে গিয়ে আবরারকে আরেক দফায় পেটান। এতে তাঁর মৃত্যু হলে রাতে লাশ সিঁড়ির নিচে রেখে যায়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও