নিয়ম রক্ষায় মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

নিয়ম রক্ষায় মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি

গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হচ্ছে। অনেকদিন ধরে আটকে থাকা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি সর্বশেষ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আর এই কমিটিতে থাকবে না রদবদল। আগের কমিটিই নতুন করে ফের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। তবে এই কমিটি হবে খুবই স্বল্প সময়ের জন্য। পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের পর পরই স্বল্প সময়ের মধ্যেই মহানগরের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা হবে। আর ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন করে আবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন বিএনপির একটি সূত্র।

সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। কমিটি গঠনের অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির কমিটি অপূর্ণাঙ্গই রয়ে গেছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটির ঘোষণার প্রায় দুই বছর এক মাস পর গত ২৭ মার্চ রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু এই কমিটি নিয়ে মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। পরদিনই ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রে একের পর এক নালিশ ও জোরালো লবিং করা হয়। কমিটি ঘোষণার আগে বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে আরেকবার যাচাই বাছাই করার কথা জানান কয়েকজন নেতা। এদের মধ্য অন্যতম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

জানা যায়, গত ২৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গণমাধ্যমে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালেই কমিটির পদে আসা কয়েকজন ব্যাপারে সুস্পষ্ট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন সহ সভাপতি পদে থাকা বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার সহ আরো কয়েকজনের নাম। তাছাড়া কমিটিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা সহ আরো কয়েকজনের নাম প্রটোকল ভেঙ্গে উপরে আছে নজরে এনে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিষয়গুলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও জানানো হয়। তিনি নালিশপ্রাপ্ত হয়ে কমিটি আপাতত ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত জানান।

আর এসব আবেদনের কারণেই বিএনপির পল্টন অফিসের দপ্তর বিভাগ থেকে কমিটির ঘোষণার পর্বটি স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই কমিটির শুরুতে ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটা কমিয়ে ১৫১ সদস্যে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক কেন্দ্রে ১৫১ সদস্যের কমিটি পাঠানো হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় ১৫১ সদস্য কমিটি নিয়ে মহানগর বিএনপি নেতাদের আপত্তি থাকলে কেন্দ্রীয় বিএনপি আপাতত সেটা আমলে নিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়েই জমা দেয়া কমিটিই স্বল্প সময়ের জন্য আসছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে যে কমিটি জমা দেয়া হয়েছিল অল্প সময়ের জন্য সেই কমিটিই অনুমোদন দেয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের পর পরই মহানগর বিএনপির নিয়ন্ত্রণে থাকা ২৭ টি ওয়ার্ডের কমিটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গঠন করা হবে। ২৭ টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরই মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নির্ধারিত সময়ের জন্য নতুন করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি দিন দিন একটি নিস্ক্রীয় সংগঠনে পরিণত হয়। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে কর্মসূচি পালন করা তো দূরের কথা এমনকি রাজপথের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেননি তারা। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গতি ফিরাতে পারছেন না। দলীয় আন্দোন সংগ্রামে নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারছেন না তারা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও