মহানগরে ভর করে জেলা ছাত্রদল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মহানগরে ভর করে জেলা ছাত্রদল

বিএনপির আন্দোলন সংগ্রানের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত হচ্ছে তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। তবে এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারছে না। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন মশিউর রহমান রনি। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামেই তার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। সবশেষ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচিতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি।

জানা যায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল জাতীয়বাবাদী ছাত্রদল।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সব জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবং ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সব থানা, পৌর ও কলেজগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে ছাত্রদল। গত সোমবার রাতে ছাত্রদল নেতা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারির সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ঘোষিত এই কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করলেও সেটা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাথে সমন্বয় করে। যেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিই ছিল বেশি। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে খুবই কম। একই সাথে কর্মসূচি পালনে জেলা ছাত্রদলের ছিল বিভক্তি। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীব আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছেন। যেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পদধারী অনেক নেতাই উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সব থানা, পৌর ও কলেজগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে ছাত্রদল। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ছাত্রদলের কর্মসূচি পালিত হলেও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির নিজ থানা ফতুল্লায় ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। আর এভাবেই একের পর এক কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচিতে মশিউর রহমান রনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৫ জুন মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও খাইরুল ইসলাম সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যের নারায়ণগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসান মিন্টু এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।

১২ সদস্যের কমিটিতে আরও রয়েছেন সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান অনিক, যুগ্ম সম্পাদক ইসমাঈল মামুন, মাইনুল ইসলাম রশিদ, নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত, রাকিব হাসান রাজ, রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্র দলের কমিটি ঘোষণা হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সূত্র বলছে, জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিজস্ব কোন্দল ও একক আধিপত্য রাখতে গিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। নিজেরা নিজেরাই কমিটি নিয়ে একাধিকবার জড়িয়ে পড়েন দ্বন্দ্বে। এ নিয়ে কমিটির বাকি নেতারা অনেক বার চেষ্টা করেও নেতাদের এক করতে সফল হননি। কমিটি হবার এক মাসের মধ্যেই জেলার পূর্ণাঙ্গ করতে উঠেপড়ে কাজ করলেও সভাপতি রনির জন্য তা করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল।

কিছুদিন আগে জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করেই থানা নিয়ে ঝুঁকেছিলেন সভাপতি রনি। এ নিয়ে অন্যান্য পদধারী নেতাদের একত্রিত করে জেলার সাধারণ সম্পাদককেও কমিটি দিতে জোর করে তাকে নিয়ে কমিটির ব্যাপারে কাজ শুরু করেন। তবে এটিও নিছক নেতাকর্মীদের সাথে আরেকটি ছলনা, কারণ এই কমিটিও তিনি দেননি একাধিকবার সময় দিয়েও। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাউন্সিলকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জেলার সকল ইউনিট কমিটি করবেন বলে নেতাকর্মীদের আশা দিয়ে ঘুরিয়েছেন। ঈদ রমজানে নেতাকর্মীদের কোন ধরনের খোঁজ খবর তিনি নেননি। ঈদের পর জেলার অধীনের কোন থানায় তিনি সফর করেননি, কারো খবর রাখেননি কিন্তু ঈদের পর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দিয়ে যাচ্ছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও