প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনায় রফিউর রাব্বি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনায় রফিউর রাব্বি

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, ভিন্ন মতকে নিষ্ঠুরভাবে দমনের একটি উদাহরণ হচ্ছে আবরার হত্যা। সরকার ভিন্ন মতকে একেবারেই গ্রহণ করতে চায় না। ভিন্ন মতকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করার ইচ্ছা যাদের থাকে তাঁরাই হচ্ছে স্বৈরাচার। তাঁরা কখনই ভিন্ন মতকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

১১ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রাব্বি আরো বলেন, ভারতের সাথে যে চুক্তি করা হয়েছে। প্রথমত সেই চুক্তি জনগনকে তো না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এককভাবে কিভাবে করেন এটা প্রথম প্রশ্ন। তিনি নিজেকে সবচেয়ে বড় দেশ প্রেমিক দাবি করেন। তাঁর চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক বাংলাদেশে নাকি কেউ নাই, তাঁর দ্বারা বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হতে পারে না। তাহলে কি কারণে জনগনকে না জানিয়ে তাঁদের সামনে উপস্থাপন না করে জনগনকে অন্ধকারে রেখে এতগুলো চুক্তি করা হলো? সেখানে বাংলাদেশের কোন স্বার্থটা জড়িয়ে আছে আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে চাই।

রাব্বি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘তাঁরা (ভারত) যদি কিছু পানি চায় তাহলে কি আমরা পানি দেব না?’ একটা দায়িত্বশীল রাষ্ট্র প্রধান কিভাবে একথা বলতে পারেন? যার ন্যূনতম  দেশের প্রতি দায়িত্ব থাকে কি করে তিনি এই কথা বলেন? যেখানে আমরা বছরের পর বছর, যুগের পরে যুগ ভারতের কাছ থেকে পানি পাই না। ফারাক্কার জন্য কি না করতে হয়েছে আমাদের। সমস্ত ইতিহাস আমাদের রয়েছে। পানির জন্য কি করি নাই ভারতের সাথে। ভারত পানি না দেওয়ার জন্য কি কি ফন্দি হাজির করেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাথে নাকি কেন্দ্রের সমন্বয়হীনতা। আর আমাদের দেশের সরকার বলেছে হ্যাঁ ঠিক ঠিক। কি কারণে আমাদের ন্যূনতম স্বার্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাঁদেরকে পানি দেওয়ার অনুমতি দিয়ে আসলেন? কি কারণে?

তিনি আরো বলেন, তাঁরা (সরকার) বলছে যে গ্যাস আমরা আমদানি করি সেই গ্যাস সারা দেশে দেয় সেই গ্যাস ভারতকে দিবে। অথচ আমদানিতে যেমন সরকারের ভর্তুকি তেমনি রপ্তানিতেও সরকারের ভর্তুকি। সরকারের ভর্তুকি মানে সেই টাকা জনগনের টাকা। আপনারা (সরকার) গ্যাস আমদানি করে ভারতকে দিবেন তাহলে ভর্তুকি কার টাকায় দিবেন? সেই টাকা কি আপনার মন্ত্রীর টাকা, নাকি আপনার পূর্বপুরুষের টাকা? এইটা জনগনের টাকা। এর হিসাব জনগন অবশ্যই আপনার কাছে চাইবে। জনগনকে হিসাব দিয়ে আপনাকে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রাব্বি বলেন, আপনি সুন্দরবন উজাড় করে দিচ্ছেন। আর আপনি বলেন আপনার হাতে এই দেশ কখনো অরক্ষিত না। এই দেশের কোনো ক্ষতি হবে না। এই দেশের ১৮কোটি মানুষ তাঁরা কি চোখে টিনের চশমা পড়ে থাকে? আপনি জানেন আপনাকে জনগন ভোট দিতে চায়না? আপনাকে ভোট দিতে চায় না বিধায় আপনি ভারতে গিয়েছেন তাদের সমর্থনের জন্য। ভোট কেন দিতে চায় না তা বিশ্লেষন না করে ভিন্ন মত পোষনকারীদের পেটোয়া বাহিনী, গু-া বাহিনী নিয়ে বসছেন। যখন এই পেটোয়া বাহিনী, গু-া বাহিনী দানব হয়ে আপনাকে খেতে চায় তখন আপনি দৃশ্যমান বিচারের ঘটনা ঘটান। এবং প্রধানমন্ত্রীর এই চরিত্র তার ঘরের লোকজন দলের লোকজন প্রশাসনের লোকজন জানে।

বুয়েটের ভিসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিসি ছাত্রদের অভিভাবক। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রকে ৬ঘন্টা পিটিয়ে, ছেলেটা প্রশ্রাব করে, তিনবার বমি করে, তাকে হত্যা করা হয়, তার পরেও তাঁকে দেখতে যাওয়া হয় না। এদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেখে আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা কিভারে রাখবো?

নারায়ণগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই অবস্থা নারায়ণগঞ্জের। তোলারাম কলেজে টর্চার সেল রয়েছে। এখানে যে ভাইস প্রিন্সিপাল রয়েছে সে একইভাবে ছাত্রলীগের কথায় এবং ছাত্রলীগের যে পোটোয়া বাহিনী সেই শামীম ওসমানের কথায় ওঠবস করে। এবং এখানে নির্যাতন করা হলে সেও চোখে দেখে না। কেন? কারণে নির্যাতন করেছে তো ছাত্রলীগ, শামীম ওসমানের গু-া বাহিনী। সুতরাং এর বিরুদ্ধে তো বলা যাবে না, এগুলো দেখাও যাবে না।

তিনি বলেন, আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। এই খুনি জল্লাদের চেহারার যে রাষ্ট্র, আমরা সেই রাষ্ট্রের পরিবর্তন চাই। আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্রের জন্য এই ভাবে পিটিয়ে হত্যার বিরুদ্ধে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের দেশ স্বাধীন হয় নাই।

রাব্বি বলেন, আবরার হত্যার সাথে যারা জড়িত, সাগর-রুনি হত্যার সাথে যারা জড়িত, তনু হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের বিচার কেন হচ্ছে না আমরা জানি। প্রধানমন্ত্রী যখন দেখেন তাঁর গতি টালমাটাল। তখন তিনি বিচার করেন। যখন নাকি উচ্চ আদালত থেকে এদেরকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সবই যদি আদলত করে তাহলে আমরা আছি কেন? সুতরাং এই আদেশ তাঁর পছন্দ হয় নাই, বিচার করার নির্দেশ তার পছন্দ হয় নাই। সব যদি আপনিই করবেন তাহলে ডজন ডজন মন্ত্রী পোষার দরকার কি? মন্ত্রণালয় পোষার দরকার কি? এগুলোতো আমাদের টাকাতেই বসান। আপনি যখন বলতে চান এর অর্থটা কি এক নেতা এক দেশ? অর্থাৎ স্বৈরশাসক হিসেবে আপনি নিজেই নিজেকে ঘোষণা করছেন। আমরা স্বৈরশাসনের অবসান চাই। আজকে এমন এক অবস্থা তৈরী হয়েছে এরশাদের স্বৈরশাসনকেও হার মানিয়েছে। এই সরকারের শাসনামল, আওয়ামীলীগের শাসনামল এরশাদের সৈরশাসনকেও হার মানিয়েছে। দুঃসময়ে জনগন তাঁর ষোলআনা ঠিকই আদায় করে নিয়েছে। একই ভাবে আমাদের সকল দাবি আদায় করে ছাড়বো। স্বৈরশাসনের পতন ঘটাবো। নতুন যে রাজাকার তৈরী হয়েছে, নতুন যে আলবদর বাহিনী তৈরী করেছে সরকার। আমরা তার অবসান ঘটিয়ে আমাদের ভূখ-কে এবং পরবর্তি প্রজন্মকে নিরাপদ করব।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও