শামীম ওসমান অনুগামীদের বিরুদ্ধে দোষ মিলেনি!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৮ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

শামীম ওসমান অনুগামীদের বিরুদ্ধে দোষ মিলেনি!

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যারা এমপি শামীম ওসমান অনুগামী তাদের বিগত দিনের পারফরম্যান্স সহ রাজনৈতিক অবস্থান জানা হচ্ছে। একটি সংস্থা ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তারা দুই একজন ছাড়া বেশীরভাগ নেতাদের বিরুদ্ধে কোন দোষ বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পায়নি।

ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্ব শেষে করেছেন তারা। এর আগে গত সংসদ নির্বাচনের আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতি শামীম ওসমানের হাতে নিরাপদ।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, নারায়ণগঞ্জ শহর যুবলীগের কমিটিতে আছেন সভাপতি পদে শাহাদাত হোসেন সাজনু ও সেক্রেটারী পদে আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল। ওই সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সাজনু যুবলীগের সভাপতি হলেও রাজনৈতিক দাপট বিগত দিনে তেমন প্রয়োগ করেনি। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি মূলত ঠিকাদারী ব্যবসা করেন। এমপি শামীম ওসমানের লোক হলেও সে প্রভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে তেমন দাপট খাটায়নি তিনি। অনেকটা স্বচ্ছ রাজনীতিক হিসেবেই তিনি পরিচিত।

ওই প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, সাজনু মূলত আওয়ামী লীগ পরিবার থেকেই উঠে এসেছেন। তাঁর প্রয়াত বড় ভাই গোলাম সারোয়ার ছিলেন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা ও পরবর্তীতে শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আরেক ভাই জাকিরুল আলম হেলাল এখন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ছিলেন এক সময়ে সরকারী তোলারাম কলেজের নির্বাচিত জিএস।

হেলাল ও সাজনুর ভাগ্নে জুয়েল হোসেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। এক সময়ে তোলারাম কলেজ কেন্দ্রীক রাজনীতি করতেন। তবে সংস্থাটির প্রতিবেদনে এ কমিটির সেক্রেটারী কাউন্সিলর সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু তথ্য সংযোজন হয়েছে। সম্প্রতি ডিবির অভিযানে ফেনসিডিল সহ গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় পরোক্ষ ইন্ধন, এলাকাতে প্রভাব বিস্তার করতে মাদক ব্যবসায়ীদের লালন, ভূমি সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনায় ন্যায় বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিরও অভিযোগ আছে।

জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে ভূইগড়ে রূপায়ন আবাসন এলাকা সহ আশেপাশে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলা হয়। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মারধর ও হুমকি প্রদানের মামলার বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে। এখানে বলো হয়েছে, রূপায়নে নাজিম চেয়ারম্যানের ইশারা ও অনুমতি ছাড়া কিছুই হয় না। সেখানে একটি পত্রিকা বিক্রি করতে হলেও নাজিমউদ্দিনের অনুমতি প্রয়োজন। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল বাহিনী। এছাড়া লিংক রোডে চলাচল করা ইজিবাইকের একটি অংশও তিনি নিয়ন্ত্রন করেন যেখানে ব্যাপক চাঁদাবাজী ঘটে।

সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিসকে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলা হলেও রাজনৈতিক কারণে তিনি এখনো তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করেনি। তিনি এক সময়ে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সেক্রেটারী ছিলেন। সকলের সঙ্গেই সু সম্পর্ক রেখে রাজনীতি করছেন চেঙ্গিস বলা হয় প্রতিবেদনে। কৃষক লীগের সঙ্গে চেঙ্গিসের জীবন সম্পৃক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গরুর খামার, মাছ চাষ চেঙ্গিসের একটি বড় অধ্যায়।

মহানগর কৃষক লীগের সভাপতি হিসেবে জুয়েল ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। আর সেক্রেটরী জিল্লুর রহমান লিটন দীর্ঘদিনে রাজনীতিতে থাকলেও বিগত দিনে তেমন কোন প্রভাবের বিষয়টি নজরে আসেনি।

প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত সম্পর্কেও কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। শামীম ওসমানের রাজনীতির একটি বড় অংশ নিজাম নিয়ন্ত্রন করছেন বলা হয় প্রতিবেদনে।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জেলার সভাপতি আজিজুর রহমানকে মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা নেতা উল্লেখ করা হলেও মহানগরের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের বিরুদ্ধে তোলারাম কলেজে দুই দফা একজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করার সমালোচনা করা হয়। তবে এছাড়া ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আর তেমন কোন অভিযোগ তোলা হয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও