লড়াকু বিএনপির সেক্রেটারীদ্বয়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার

লড়াকু বিএনপির সেক্রেটারীদ্বয়

বিএনপির ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে নারাণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির ভূমিকা কখনও সন্তোষজনক ছিল না। প্রায় সকল আন্দোলন সংগ্রামেই জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকে খুবই নগন্য। এমনকি জেলা ও মহানগরের সভাপতিদ্বয়ও প্রায় কর্মসূচিতেই অনুপস্থিত থাকেন। তবে এই নিস্ক্রিয় অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদকদ্বয় সবসময় লড়াকু ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রায় সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা সহ পুলিশের হামলা মামলারও শিকার হয়েছেন বহুবার। তারপরেও তারা কখনও পিছপা হননি। জেলা ও মহানগর বিএনপির সবশেষ কর্মসূচিতেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের চুক্তিকে দেশের `স্বার্থবিরোধী` উল্লেখ করে তা বাতিল দাবি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী গত ১২ অক্টোবর শনিবার ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর এবং ১৩ অক্টোবর রোববার দেশের সব জেলা সদরে জনসমাবেশ করার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর নারাণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় তারা সফল হতে পারেননি। পুলিশের এক ধমকিতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সড়ে যাননি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তিনি কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্রিফিং দিয়ে তারপর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এটিএম কামাল বলেন, ভয় পেলে চলবে না। গ্রেফতার করলে করুক আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। রাজনীতি ফুলের বিছানা না। জীবনে বহুবার কারাবরণ করেছি। গ্রেফতার মোকাবেলা করেই আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।  যারা ভয় পান তারা রাজনীতি ছেড়ে দেন। এখন ভয় পাওয়ার সময় না। এখন প্রতিবাদ করার সময়। এখন আমাদের সন্তানদের হত্যার প্রতিবাদ জানানোর জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে আমাকে প্রতিবাদ করতে হবে। এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি আমাকে মরতে হয়, যদি আবরারের মতো আমাকেও খুন করা হয়, আমি সেটা হাসিমুখে বরণ করে নিব।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদও লড়াকু ভূমিকা পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালন উপলক্ষ্যে ১৩ অক্টোবর রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে সমবেত হয়েছিলেন। যেখানে প্রতিবারের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান অনুপস্থিত ছিলেন। তবে নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্ত পুলিশ তাদেরকে দাঁড়াতেই দেয়নি।

নেতাকর্মীদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে পুলিশ বাহিনী। নেতাকর্মীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। ফলে তাকে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হতে হয়। একজন অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে।  তারপরেও তিনি নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে বিগত দিনগুলোতে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মূহুর্তেও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে দীর্ঘদিন কারাবরণ, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সেই সাথে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও কারাবরণ ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও