৮১ সালের ছাত্র থাকলে বাড়ির ইট থাকতো না

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:২৬ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

৮১ সালের ছাত্র থাকলে বাড়ির ইট থাকতো না

নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজের নবীন বরণ উৎসবে এ কলেজের সাবেক ছাত্র ও ভিপি বর্তমানে এমপি শামীম ওসমান উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন ‘তোলারাম কলেজে টর্চার সেল রয়েছে’? উত্তরে উপস্থিতি সকলেই হাত তুলে না করেন।

এতে শামীম ওসমান বলেন, ‘‘আমার খুব কষ্ট লাগছে, আমি মেয়েদের কাছে বলব আমি জানি মেয়েরা সত্য কথা বলবা। আমি তোমাদের বিশ্বাস করি আমার মা হিসেবে আমার মেয়ে হিসেবে। মিথ্যা কথা যদি বলো তাহলে আল্লাহর কাছে ঠেকা থাকবা। তোলারাম কলেজে টর্চার সেল কোথায় আছে? যেখানে মানুষ পেটানো হয়। আছে না নাই?’’

তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘‘এবার ছেলেদের জিজ্ঞেস করি তোরারাম কলেজে টর্চার সেল আছে না নাই? যদি না থাকে তাহলে হাত তুলে দেখেও।’’

ওই সময়ে হাত তুলে সকলে না করেন। পরে শামীম ওসমান বলেন, ‘তাহলে আপনারা কারা যারা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলছেন যে তোলারাম কলেজে ছাত্রদের নির্যাতন করা হয়। শুধু শহীদ মিনারে না আপনারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বসে বলেছেন যে তোলারাম কলেজে টর্চার সেল রয়েছে। তোলারাম কলেজের প্রিন্সিপালকে আমি ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানাই যে তিনি সাথে সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন যে চলেন সমস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে চলেন আমার কলেজে। দেখান আমার কলেজের কোথায় একজন ছাত্র নির্যাতন হচ্ছে এবং করার জন্য কোনো ব্যবস্থা আছে এখানে। যদি করা হয়ে থাকে তাহলে আমি নিজে পদত্যাগ করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘‘তাহলে যারা বলছেন তাঁরা কি আফগানিস্তান থেকে এসেছেন। তা তো না। সুন্দরবনের জঙ্গলের কোনো জংলি পুরুষও তাঁরা না। তারা আমার চেয়েও জ্ঞানী মানুষ। সৎজন ব্যক্তি। নামের আগে পরে অনেট টাইটেল আছে তাদের। কারো নামে কবি, সাহিত্যিক, বিপ্লবী, কারো নামে অমুকটার সভাপতি অমুকটার সাধারণ সম্পাদক। বলছেন কেন? কার ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন আপনার বাচ্চার? তোলারাম কলেজকে যদি আপনি বিতর্কিত করেন, মহিলা কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজকে যদি আপনি বিতর্কিত করেন তাহলে কাকে বিতর্কিত করছেন আমাকে? কেন? এই কলেজের ছাত্ররা আমাকে বেশি ভালোবাসে এই জন্য? একটু ডাক বেশি দেয় এই জন্য? আপনি এত স্বার্থপর আপনি এত জঘন্য? আপনি এত নিচু মানসিকতার লোক যে আপনি আপনার সন্তানরে টাইটেল দিচ্ছেন যে খুনি মাস্তান।

শামীম ওসমান বলেন, ‘একবার চিন্তা করেন তো যদি এই সন্তানেরা ৮১সনের ছাত্র হতো আপনার বাড়ির ইট থাকতো কি না? এই সন্তানরা যদি যখন আমরা লেখাপড়া করেছি সেই ছাত্ররা হতো তাহলে বাড়ির ইট থাকার তো কথা না। বলতো যে এই আমাদের সন্ত্রাসী বললি কেন? ২০হাজার স্টুডেন্ট তোলারাম কলেজে, ১০হাজার স্টুডেন্ট মহিলা কলেজে, নারায়ণগঞ্জ কলেজের ১০-১৫হাজার আছে। যদি সবাই বের হয়ে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলে মিথ্যা কথা বললি কেন? কে আপনাদের রক্ষা করবে? আমাদের বাচ্চাদের আঘাত করবেন না, এতে আপনার বাচ্চা আঘাতপ্রাপ্ত হবে। ভুল থাকতে পারে সংশোধন করেন। আপনার সাজেশন থাকতে পারে সেটা বলেন।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি কলেজে একজন সংবাদকর্মীদের মারধরের পর বিভিন্ন সংগঠন তোলারাম কলেজকে টর্চার সেল রয়েছে দাবী করেন।



বুলেটের টার্গেটে শেখ হাসিনা
শামীম ওসমান বলেন, ‘‘একটা বুলেট টার্গেট করেছে। যার টার্গেট হচ্ছে শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ভালো ভালো কিছু মানুষের সাথে কথা বলেছিলাম। যারা দেশ নিয়ে কথা বলে কিন্তু রাজনীতিতে সক্রিয় না। আমি বললাম যদি জাতির পিতার মত জাতির পিতার কন্যা যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে কিছু করা হয় তাহলে দেশের কি হতে পারে? ওনারা আমাকে পরামর্শ দিলেন আমি ঘাবড়ে গেলাম। তাঁরা বললেন যে দেখ; যে পরিমাণ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বসে আছে, দেশ বিরোধী শক্তি আবার ফোনা তুলছে। আমার তো মনে হয় ৬৫হাজার গ্রামে গড়ে যদি প্রথম দিনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা স্বাধীনতার পক্ষের তিনজন করে হত্যা করা হয় তাহলে প্রথম রাতে ১লাখ ৯৫ হাজার জন মানুষ নিহত হবে। এবং তাদের প্লান এটা। এই প্লানটাকে সাকসেস করার জন্য তাদের একটা টার্গেট সেটার নাম হচ্ছে শেখ হাসিনা কে হত্যা করা। কেন? দোষ কি এই মহিলার? আজকে ভারত আমাদের পিছনে পরে যাচ্ছে। নেপাল ভূটান তো পেছনে পরেই আছে। জিডিপি ৮ এর উপরে যাচ্ছে আমরা একটা জায়গায় যাচ্ছি। এই জায়গাতো আমি ভোগ করব না। কিন্তু তুমি ভোগ করবা তোমার জন্য করা হচ্ছে। স্বপ্ন ওনার পিতার উনি বাস্তবায়ন করছেন এটাই তার অপরাধ। শেখ হাসিনা যদি চলে যায় দেশটা আফগানিস্তানের থেকেও খারাপ অবস্থায় চলে যাবে। সেই চেষ্টাই চলছে।

আবরার হত্যা
সম্প্রতি বুয়েটে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা সম্পর্কে শামীম ওসমান বলেন, ‘বেস্ট স্টুডেন্ট হচ্ছে যারা বুয়েট, মেডিকেল কলেজের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পায়। এই বুয়েটে কয়েকদিন আগে একটা ঘটনা ঘটল। একটি ছেলেকে মারা হয়েছে। যে মারা গেছে তার বাবা-মা বুঝেছেন তাঁদের কত কষ্ট। আমার কষ্টটা দুই জায়গায়। একটা হচ্ছে ছেলেটা মারা গেছে সেই জন্য কষ্ট। দ্বিতীয় কষ্ট হচ্ছে ওই ছেলেকে যারা মারলো ২০ জনের মত নাম এসেছে তাঁরাও তো বুয়েটের স্টুডেন্ট। এবং অনেককে দেখলাম তারা নিজেরা লজিং করে ছাত্র পড়িয়ে তারপরে লেখাপড়া করতো। তার মানে এই না যে বাবা-মায়ের বকে যাওয়া ছেলে মেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে তা না কিন্তু।

তিনি আরো বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি তৈরী করছি? আমরা চাচ্ছি কি? রেজাল্ট না মানুষ? আমরা কি চাই? জিপিএ-৫ নাকি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার জন্য সোনার মানুষ চাই? যে ২০টা ছেলে এখানে জড়িত হলো। তার বাবা মায়ের কি অবস্থা। ছেলেগুলোর জন্য ফাঁসির মঞ্চ অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেও তো বেস্ট অব দ্যা বেস্ট বুয়েটের স্টুডেন্ট। তাহলে দাঁড়াচ্ছে আমরা একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে নেমেছি। সেটা হচ্ছে কে কার আগে অসত্য কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করব সেই প্রতিযোগিতা।

শামীম ওসমান আরো বলেন, এই মুহূর্তে আমার মোবাইল খুললে মিনিমান ৩৮টা হত্যাকান্ডের রেজাল্ট আপনাদের দিতে পারবো। সারা বাংলাদেশের বলব না শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব হত্যা হয়েছিল সেগুলোর বিচার আমরা পাই নাই। এর আগেও ঘটনা ঘটেছে কত ছাত্র মরেছে। আমার কত বন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলি করে মেরেছে। যেগুলির একটারও বিচার আমরা পাই নাই। এই তোলারাম কলেজের ভিতরে ঢুকে ১৯৮১ সালে আবু আওয়ালকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সেটার বিচারও পাই নাই। কিন্তু বুয়েটে একটি হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। মারলো কারা? সবাই বলে ছাত্রলীগ। আমিও বলি ছাত্রলীগ মেরেছে। ঘটনার এজাহার হওয়ার আগেই ১০ জন ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। কারণ তাদেরকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা দিয়েছেন। কিন্তু সেটাকে ইস্যু বানিয়েও আন্দোলন করার চেষ্টা কেন?

ছাত্র আন্দোলন

গত বছরের আগস্টে রাজধানীতে বাসের চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থী মৃত্যুর পর সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জ সহ আশেপাশের জেলাতে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা।

ওই সময়ে শামীম ওসমান চাষাঢ়ায় এসে আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা ঘরে ফিরে যায়। সেই কথা স্মরণ করিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার কাছে খুব কষ্ট লাগে। আমাদের ছাত্রদের করুণ অবস্থা দেখলে। যখন সারা বাংলাদেশে ছাত্ররা মাঠে নেমে আসলো। আমি অবাক, বিস্মিত হয়ে দেখলাম সারা সড়কের কন্ট্রোল এদেশের ছাত্রসমাজের হাতে চলে এসেছে। তাঁরা লাইসেন্স চেক করছে, ফিটনেস চেক করছে। আমি আসতে চাইলে এসপি তখন বলল যে আপনি যেতে পারবেন না। আমি বললাম এতটাই কি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি যে আমি আমার সন্তানের কাছে যেতে পারব না। আমি কিন্তু গিয়েছিলাম। যাওয়ার পরে ১৫ মিনিটের মধ্যে আমার ছাত্ররা আমার সন্তানেরা আমার কথা শুনে পুলিশের কাছে পুলিশের গাড়ির চাবি ফেরত দিলেন এবং তাঁরা পড়ালেখা করতে ফেরত গেলেন এই বিশ্বাসে যে এই লোকটি আমাদেরকে সত্যি কথা বলেছে। বাংলাদেশে অন্য জায়গায় তখন অন্য চোখে দেখা হচ্ছিল আমি তখন তাঁদেরকে পজিটিভ চোখে দেখেছি।’

লোকাল পত্রিকা
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কিছু পত্রিকা আছে লোকাল পত্রিকা দেয়ালে ছাপে। এরা নাকি জামাত টামাতের পয়সা পায়, মন্ত্রী-মিনিষ্টারের পয়সা পায়। এত বড় একটা ছবি দিয়া লেখে শামীম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জে পাওয়া যায় না। আরে আমার চেহারাতো এত সুন্দর না। আমার বউ এর চেহারা দিলে তো ভাবতাম একটা সুন্দর মহিলা আছে আচ্ছা ঠিক আছে। আমার ছবি দিয়ে আমার নামে হেডলাইন করে যদি তোমার পত্রিকা চলে তো চালাও আমার কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু কিছু লয়েলিটি দেও। আমি বিভিন্ন পোজের, অ্যাকশনের ছবি দেই। পয়সা আমারে দেওনা কিছু। আরে আমারে না দেও তোলারাম কলেজের ১০টা গবির ছাত্রের পড়ার পয়সা দেও। এই ব্লাকমেইলিং পত্রিকা দিয়ে মানুষের কাছে সম্মানিত হওয়া যায় না। মানুষ এই ব্লাকমেইলার্সদেরকে সামনে হয়তো ভালো কথা বলে কিন্তু পিছনে বলে হলুদ সাংবাদিক। ‘ইয়েলো জার্নালিস্ট’ এটা একটা সাংবাদিকের জন্য গালি হয়। গালি হয়েন না। একটা পত্রিকা বের করেছেন ভালো করতে পারেন যে কি সমস্যা আছে সে সমস্যা তুলে ধরবেন। আমাকে এ্যাটাক করেন আরো যারা জনপ্রতিনিধি আছে তাদেরকে এটাক করেন যে অমুক জায়গায় পানি নাই। এ্যাটাক করেন যে চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত সড়কে মানুষ চলতে পারো না। সেই জায়গা আপনি জনমত তৈরী করেন। আপনার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল হব। আপনি সেটাাতো করছেন না। করছেন কার বউ কার সাথে চলে গেল কারটা কে খেয়ে ফেলল এই হচ্ছে আপানাদের কাজ।

ফেসবুক
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমারতো ফেসও নাই বুকও নাই। আমার ফেসবুক নাকি আছে একটা আমি শুনি কিন্তু আমি জীবনে ফেসবুক দেখি নাই। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সব কিন্তু ফেসবুকওয়ালা পার্টি। আর এগুলোর যে কানেকশন আছে যে এক ফেসবুক থেকে আরেক ফেসবুক। যদি আপনাকে নিয়ে লেখা শুরু করে। ‘ফেসবুক ফেসবুক ফেসবুক, মার মার মার, ধর ধর ধর, কে রাজাকারের ছেলে’ তখন কি করবেন? আপনি কি এই পোলাপানদের কি বোকা ভাবছেন? এই পোলাপানগুলো আমার আপনার থেকে অনেক স্মার্ট। আমার সামনে চুপচাপ বইসা আছে। কিন্তু সবগুলি এক একটা চিজ। ওরা জানে কোন জায়গায় বোতাম টিপ দিলে কোন জায়গায় কি হয়। মনে রাখবেন এদের মত বয়সি ছেলেরাইতো দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে কি হচ্ছে
শামীম ওসমান বলেন, ‘‘আসতে আসতে ভাবছিলাম যে এক কথা বলেই শেষ করব। শুধু যে ছেলেটা মারা গেছে সেই ছেলেটার জন্য শোক পালন করেই চলে যাব। মনে মনে ভয় হচ্ছিল আমার ভালো লাগছিল না। আমার বউকে বলছিলাম আমি বক্তব্য না দিয়ে তুমি দিয়ো। সে বলেছে কেন? আমি বলছি আমি বক্তব্য দিলে অনেক কথা বেরিয়ে আসবে এখন। আমর মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায় সত্য কথা। নারায়ণগঞ্জে কি হচ্ছে কে কি করছে জানি অনেক কিছু। কিন্তু আমি এই মুহূর্তে বলতে চাই না। বলা ঠিক হবে না। বউ বলল কন্ট্রোল করতে হবে নিজেকে। তাই কন্ট্রোল করলাম।

৯৯ পার্সেন্ট সম্ভাবনা ইলেকশন আর করব না
শামীম ওসমান বলেন, আমি কয়দিন পরে মাঠে নামতে চাই। আমার নামার লক্ষ্য হচ্ছে একটা জিনিস। আমি আরেকবার ইলেকশন নাও করতে পারি। নাইনটি নাইন পার্সেন্ট সম্ভাবনা আমি আর ইলেকশন করবো না। কিন্তু আমি কিছু করতে চাই নারায়ণগঞ্জের জন্য। আমরা কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চবটি থেকে ফ্লাইওভার করছি একটা। মুক্তারপুর ফেরী ঘাটে গিয়ে সংযোগ হবে। মদনপুর থেকে একটা রাস্তা যাচ্ছে। ডিএনডি প্রজেক্টটা করতে চাই। একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আসা হয়েছে। মানুষ পাচ্ছি না ভাল। বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর জন্য পয়সা পেয়েছি, কিন্ত ভাল ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো ভিসি, রেজিস্টার পাচ্ছি না। আমার কথা হলো ছাত্র ১ হাজার ১০ হাজার দরকার নেই। ৩শ’ ছাত্র নিব। এরাই যেন বাংলাদেশের ভাল ছাত্র হয়। লাভের জন্য ইউনিভার্সিটি না। এগুলো করতে পারলে বিদায় নিব।

শামীম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করলো বিদায় নিবি কেন? আমি বললাম, আমি ওইভাবে বিদায় নিতে চাই। বললো তোর জীবনের লক্ষ্য কি। আমি বললাম, আমার লক্ষ্য একটাই, আমি কসম খেয়ে বলছি, আমি একথাটা উনাকে বলেছি। আমার জীবনের লক্ষ্য একটাই, যদি আমি মরে যাই, মানুষ যাতে একটু কাঁদে। আর যদি বলি, আমি রাজনীতি থেকে চলে গেলাম, নারায়ণগঞ্জবাসী আমার এই করার ছিল, এর বেশি আমি পারবো না। আমি রাজনীতিকে ব্যবসা এবং ধান্ধা হিসেবে নেই নাই, আমি বহুরূপী না, আমি বহুরুপী রাজনীতি করি না। দিনের বেলা রাতের বেলা একটা, ওই কথা বলার লোক আমি না। যা বলবো পরিস্কারভাবেভাবে বলবো। সেজন্য যখন বিদায় নিব, আমি চাই, আমি যখন বলবো আমাকে বিদায় দেন, মানুষ যাতে বলে, না তুমি যাবা না, তুমি আমাদের ছেড়ে যাবে কেন। ওইটাই আমি চাই ওইটাই আমার জীবনের আমার জীবনের স্বার্থকতা। ওইটা করতে গেলে আমি একা পারবো না, তোমাদের সাহায্য চাই। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষকদের, কে কোন দল আমি দেখতে চাই না। ভাল মানুষ খুঁজে আনতে চাই, ভাল মানুষ ছাড়া ভাল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব না। তাহলে বঙ্গবন্ধু একথা বলতেন না, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না।

তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহের সভাপতিত্ব ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি, কলেজের উপাধ্যক্ষ ও প্রফেসর শাহ মো. আমিনুল ইসলাম, রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. নাজমুল হুদা, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, মহানগর কৃষকলীগের সেক্রেটারী জিল্লুর রহমান লিটন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও