আদালতপাড়ায় কলঙ্কিত বিএনপি, শান্ত করছে আওয়ামী লীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

আদালতপাড়ায় কলঙ্কিত বিএনপি, শান্ত করছে আওয়ামী লীগ

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপিন্থী আইনজীবীদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। সেই সাথে তারা পরস্পরের সাথে মারামারিতেও লিপ্ত হয়েছেন যা নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার আইনজীবীদের জন্য একটি কলঙ্কজনক বিষয়। আর তাই সেই কলঙ্কজনক ঘটনা এড়াতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের শান্ত করার লক্ষ্যে ছুটে আসতে হয়েছে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদেরকে। আওয়ামী লীগপন্থী প্যানেলের নির্বাচিত বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়ার হস্তক্ষেপে আদালতপাড়া শান্ত হয়ে আসে।

জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বপালন কারী ও জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। উদ্বোধন শেষে ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অ্যাডাভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে সদস্য ফরম তুলে দেন এবং এই কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেন। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন খান সে সকল সদস্য ফরম নিজের কাছে রেখে দেন।

পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যপদ ফরম নিয়ে তালবাহানার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে লাঞ্চিত করেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের শার্টের কলার চেপে ধরেন ও চপেটেঘাত করেন এবং সেই বারী ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এরপর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সমর্থিত বিকেলজুড়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গন শোডাউন করেন। অ্যাডভোকেট বারী ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর টেবিলে তাদেরকে খুজে আসেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে এদিন আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকলেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া ত্যাগ করেন।

এরপর দিন সোমবার পূর্বের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে তাদের সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী ও বহিরাগতদের নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন।

যার সূত্র ধরে এদিন সকালেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার প্রধান ফটক কয়েক গজ দূরে দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়াকে মারধর করেন এবং কোর্ট ছিড়ে ফেলেন সাখাওয়াত হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অন্যানা।

পরবর্তীতে সাখাওয়াত হোসেন ও আনোয়ার হোসেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর টেবিলে যান মারধর করার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে বেশি সুবিধা করতে পারেনি। মার দিতে গিয়ে তাদেরকেও মার খেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।

আর এসকল ঘটনায় দুইপক্ষের আইনজীবীদের মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুইপক্ষের সমর্থিত আইনজীবীরা নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়াজুড়ে শোডাউন দিতে থাকেন। যার পরিপেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া সাধারণ আইনজীবী ও সাধারণ মানুষজনের মাঝে একটি আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার জন্য একটি কলঙ্কজনক বিষয়।

আর এ বিষয়টি নারায়য়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়ার কানে পৌছে। যারা আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা যা করছেন এটা নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার জন্য কলঙ্কজনক বিষয়। আমাদেরকে বাহির থেকে মানুষ ফোন করে বলছে, আদালতপাড়ায় নাকি মারামারি হচ্ছে। যা শুনতে খুবই লাগে। যদি আপনাদের কিছু করতে হয় অন্য কোথাও গিয়ে করেন, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কিছু করতে পারবেন না।

একই সাথে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের ঘটনাস্থল থেকে সড়িয়ে দেন এবং প্রত্যেক আইনজীবীদের যার যার টেবিলে যাওয়ার কথা বলেন। অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়ার এই উদ্যোগের ফলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার পুরো পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। এরপর এদিন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি আইনজীবীদের মধ্যে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও