শামীম ওসমানের বিচক্ষণতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৩ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

শামীম ওসমানের বিচক্ষণতা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সর্বদা নেতাকর্মীদের চিন্তায় বিমূড় থাকেন। যেকারণে তার বিশাল কর্মী বাহিনীরা দুঃখে-সুখে তাকে ঘিরে থাকেন। আর সব ধরনের সমস্যার বিষয়ে তাকে অবহিত করে থাকেন। সবশেষ সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর সোচ্চার হন তিনি। মাঠেও নামেন শামীম ওসমান।

এদিকে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বদলী হওয়ার সংবাদে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এছাড়াও চারদিকে আলোচনা সমালোচনা কমতি নেই। যেকারণে এমপি শামীম ওসমান তার নেতাকর্মীদের এসপি হারুন অর রশিদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য না করার সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। এতে করে বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। দলের বর্ষীয়ান নেতারা এই বার্তার আলোকে শামীম ওসমানের রাজনীতিক পরিপক্কতাকে প্রশংসার চোখে দেখছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে নেতিবাচক মন্তব্য অবশ্যই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মুখে শোভনীয় নয়। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসনের উপর অভিযোগের আঙুল উঠলে সেই কলঙ্কের তিলক ঘুরে ফিরে ক্ষমতাসীন দলের সরকারের উপর পড়ে।

অন্যদিকে একজনকে ঘিরে নেতিবাচক মন্তব্যের ফলে পুরো ডিপার্টমেন্ট প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে যার প্রভাব পরবর্তীতে নেতাকর্মীদের উপর পড়তে পারে। এরুপ নানা শঙ্কা থেকে এমপি শামীম ওসমানে সেই বার্তা নেতাকর্মীদের নিরাপদে রাখতে বলে মনে করা হচ্ছে। যেকারণে এমপি শামীম ওসমানের এই বার্তার ফলে তিনি বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, ৪ নভেম্বরসন্ধ্যায় শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে ঘণ্টাব্যাপী শামীম ওসমানের সঙ্গে ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নেতাকর্মীরা বলেন, ‘বিগত ১১ মাস ধরে আমরা বেশ চাপে ছিলাম। কোন কারণ ছাড়া শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে হয়রানি করা হয়েছে। অহেতুক মামলা দেওয়া হয়েছে। কোন কাজে থানায় যেতে পারি নাই। ওসিরাও আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছে। ক্ষমতায় থাকার পরেও আমরা ছিলাম নির্যাতিত।’

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘মূলত সোমবার সকালেই জানানো হয় বিকেলের বৈঠকের বিষয়টি।’ বৈঠকে এমপি শামীম ওসমান আমাদের অতি উৎসাহী কিছু না করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

‘পুলিশ সুপারের চাকরি কোন জেলাতেই স্থায়ী না। তারা কিছু সময়ের জন্য আসেন। ডিসি এসপি সহ সরকারী কর্মকর্তারা আমাদের মেহমান। তারা আসে আবার চাকরির প্রয়োজনেই চলে যান। পুলিশ সুপারও এসেছিলেন। সরকার তাকে মনে করেছিল নারায়ণগঞ্জ দিতে, দিয়েছিল। এখন আবার মনে করেছে বদলী করতে বা অন্যত্র স্থানান্তর করতে করেছে। এটা নিয়ে আমাদের কোন মাতামাতি, ফেসবুকে স্ট্যাটাস, গণমাধ্যমকে বক্তব্য প্রদান, নেতিবাচক কিছু বলবেন না। এখন এসব নিয়ে আমাদের চিন্তা করার সময় নাই। আগামীতে আওয়ামী লীগের সম্মেলন সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। পুলিশ সুপারের বদলী নিয়ে অন্য কোন পুলিশ কর্মকর্র্তাকে খোঁচাখুচি করার প্রয়োজন নাই।’’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন শামীম ওসমান জানিয়েছেন বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা।

তিনি আরো জানান, শামীম ওসমান এও বলেছেন ‘দেশে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। সেটা নিয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। পুলিশের কিছু কারণে হয়তো আমাদের অনেক ছেলে নেতাকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন কিন্তু সেটা নিয়ে এখন ক্ষোভ জানাতে গেলে আমাদের দলের সুনাম নষ্ট হবে। তাই এখন সেগুলো দরকার নাই। অনেকেই খেলছেন। আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে খেলেছেন। পর্দার আড়ালের খেলোয়াড়রাও চিহ্নিত হয়ে আছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগার তারা এমন ষড়যন্ত্র হয়রানির শিকার হতে হতেই পোক্ত হয়েছেন। সুতরাং এসব নিয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর কিছু নাই।’

এখানে উল্লেখ্য যে, গত রোববার ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বদলি করা হয় জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে। একটি সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশের মধ্য দিয়ে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে বদলী হয়ে আসেন হারুন অর রশিদ। আলোচিত এই এসপি রাজনীতিকদের কারো কারো জন্য তিনি অভিশাপ হলেও নগরবাসী তাকে আশীর্বাদ হিসেবেই গ্রহণ করেছিল। তিনি একের পর এক অভিযান চালিয়ে আলোচনায় চলে আসেন।

তখন চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, জুয়ারী, মাদক ব্যবসায়ী সহ বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের কাউকে ছাড় দেননি। যেকারণে প্রশংসার ধারবাহিকতায় তাকে সিংহাম ও ফাটাকেস্ট উপাধি দেয়া হয়। তবে এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের সাথে তার বেশ বৈরি সম্পর্ক তৈরি হয়। এর জের ধরে এখন এসপি বদলীয় হওয়ার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। আবার অনেকে চায়ের কাপে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলছে।

দলের নেতাকর্মী সূত্র বলছে, আওয়ামীলীগের মূল দল সহ সহযোগি সংগঠনে বিভিন্ন বয়সের নেতাকর্মী রয়েছে। এসব নেতাকর্মীদের মধ্যে যুবক, তরুণ অনেক নেতাকর্মী রয়েছে। ক্ষমতায় থেকেও নিজ দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি অনেকে মেনে নিতে পারেনি। যেকারণে দলের অনেক নেতাকর্মী এসপির বদলী হয়ে যাওয়া সংবাদে নানা আলোচনা করছে। তবে এসব আলোচনা যেন সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্যে পরিণত না হয় সেজন্য এমপি শামীম ওসমান সতর্ক করে বার্তা দিয়েছেন। এই বার্তার ফলে নেতাকর্মীরা এরুপ কাজে অগ্রসর হতে প্রশ্রয় পাবে না; যেকারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ কার্যত অর্থে একটি বিতর্কিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাচ্ছে। যদি নেতাকর্মীরা নেতিবাচক মন্তব্য করতো তবে নেতাকর্মীরাই উল্টো সমালোচনা সহ পুলিশ প্রশাসনের নজরে পড়তে পারতো। তাই এমপি শামীম ওসমানের এই বার্তার জন্য তার প্রশংসায় সিক্ত নেতাকর্মীরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও