ফোরাম নিয়ে মুখোমুখি বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

ফোরাম নিয়ে মুখোমুখি বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পর পরই সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ফোরামের কমিটিগুলো গঠনের ব্যপারে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি নিয়েও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্যপদ ফরম বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এই সদস্যপদ ফরম বিতরণ ও পরর্বর্তী ফোরামের কমিটি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিএনপিন্থী আইনজীবীরা। এরই মধ্যে কয়েকবার তাদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে গেছে।

সূত্র বলছে, গত ৩ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনকে আহ্বায়ক এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও আইনজীবী ফজলুর রহমানকে সদস্য সচিব করে ১৭৯ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এই আহ্বায়ক কমিটির ২য় সদস্য হিসেবে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের হেভিওয়েট আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

এদিকে এই আহবায়ক কমিটি গঠনের পর গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে যুগ্ম আহবায়কদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ঢাকা বিভাগের অন্তুর্ভুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কমিটি হালনাগাদের লক্ষ্যে সদস্য ফরম বিতরণ, পূরণ ও সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্তে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে সমন্বয়কারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

যার ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বপালন কারী ও জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে ক্ষণে ক্ষণে তর্ক বিতর্কের ঘটনাও ঘটেছে। ৩১ অক্টোবর বিকেলে এসকল ঘটনা ঘটে। আর এ নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিএনপির সাধারণ আইনজীবীরা। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে ক্ষণে ক্ষণে তর্ক বিতর্কের ঘটনাও ঘটেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা না দেয়ার জের ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থাপক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লার সাথে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লাকে ধাক্কা দেন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর তিনি মারধর করতে উদ্যত হন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই খোরশেদ আলম মোল্লাকে লাঞ্চিত করা হয়। পরে অন্যান্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ না দেয়ায় তিনি রেগে যান ও অন্যদের সাথে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হন। পরবর্তীতে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ দেয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

তার আগে সদস্য সংগ্রহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মঞ্চ করা নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক ও উচ্চ বাক্যলাপের বিনিময় হয়। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা চান তাদের চেম্বারের সামনে মঞ্চ তৈরি করতে। এদিকে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষানী ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খাক টিপু চান অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, অ্যাডভোকেট অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলুর চেম্বারের সামনে মঞ্চ তৈরি করতে।

আর এ বিষয়টি উভয় পক্ষে মাঝে চরম তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কথার প্রতি উত্তর দিলে সরকার হুমায়ুন কবির সিরাজী রাসেলের দিকে তেড়ে যান। একই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথেও শরীফুল ইসলাম শিপলু সহ অন্যান্য আইনজীবীরা তর্ক বিতর্কে লিপ্ন হয়ে যান। পরবর্তীতে অন্যান্য নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির শান্ত হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যপদ ফরম নিয়ে তালবাহানার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। ৩ নভেম্বর রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার জজ কোর্টের বারান্দায় অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লার টেবিলে এই ঘটনা ঘটে। অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং বারী ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

আর এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ৪ নভেম্বর সকাল থেকেই নিজ অনুসারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান সহ অন্যান্য আইনজীবী ও বহিরাগত ক্যাডারদের জাকির খানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত পারভেজ মল্লিক সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় শোডাউন দিতে থাকেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সকলকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়ার উপর হামলা করেন। তাকে আহত করে যান জেলা আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর টেবিলে। সেখানে গিয়ে আব্দুল হামিদ ভাষাণীর উপর হামলা করেন। কিন্তু সেখানে মার দিতে গিয়ে তাদেরকেও পাল্টা মার খেতে হয়েছে। পরে অন্যান্য আইনজীবীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি শোডাউন দিতে থাকেন। যার প্রেক্ষিতে পুরো আদালতপাড়াজুরেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও আবারও নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন খান জাকির খানের ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আবারও অরাজকতাা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও