কুস্তি খেলার মঞ্চে বিএনপি নেতারা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৯ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

কুস্তি খেলার মঞ্চে বিএনপি নেতারা

গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মধ্যে চলছে টান টান উত্তেজনা। সেই সাথে তাদের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে এবং চলছে শক্তি প্রদর্শন। যে যার সুযোগ সুবিধা মতো একে অপরকে পাচ্ছেন তাকেই মারধর করছেন নিজেদের দলের আইনজীবীরা। আর তাদের এসকল কর্মকান্ডে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়া যেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের জন্য একটি রেসলিং (কুস্তি খেলা) মঞ্চ হিসেবে পরিণত হয়েছে। তবে এই রেসলিং মঞ্চে চরম বিরক্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ আইনজীবীরা। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে নানা সমলোচনা করে বেড়াচ্ছেন তারা।

জানা যায়, জেলা আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ফরম বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের হাতে ৪’শ ফরম তুলে দেন। একই সাথে তিনি বলেন, সদস্য পদ ফরম বিতরণ ও সংগ্রহের যারা দায়িত্বে আছেন তারা সবাই মিলে এসব সদস্য পদ পূরণ করাবেন।

কিন্তু ওই দিন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অন্যদেরকে সদস্য ফরমগুলো না দিয়ে নিজের কাছেই রেখে দেন। সবশেষ সদস্যপদ নিজের কাছে রাখার ব্যাপারে তালবাহানা শুরু করলে অন্য আইনজীবীরা ক্ষেপে গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হেসেন খানকে লাঞ্ছিত করেন। পরবর্তীতে প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে সাখাওয়াত হেসেন খানের সমর্থিতরা আদালতপাড়া শোডাউন করলেও এদিন আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পায়নি।

কিন্তু এরপর দিন গত ৪ নভেম্বর পূর্বের শত্রুতার জের ধরে ঠিকই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন। এদিন সকাল থেকেই নিজ অনুসারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান সহ অন্যান্য আইনজীবী ও বহিরাগত ক্যাডারদের জাকির খানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত পারভেজ মল্লিক সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় শোডাউন দিতে থাকেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সকলকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়ার উপর হামলা করেন। তাকে আহত করে যান জেলা আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর টেবিলে। সেখানে গিয়ে আব্দুল হামিদ ভাষাণীর উপর হামলা করেন। কিন্তু সেখানে মার দিতে গিয়ে তাদেরকেও পাল্টা মার খেতে হয়েছে। পরে অন্যান্য আইনজীবীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি শোডাউন দিতে থাকেন। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বহিরাগতদের নিয়ে আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। যার প্রেক্ষিতে পুরো আদালতপাড়াজুরেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিনকার জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম আর চালু হয়নি।

এদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ৫ নভেম্বর ফের অ্যাডভোকেট সাখাওয়া হোসেন খান বহিরাগতদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। সারাক্ষণই তিনি বহিরাগতদের সাথে সাথে নিয়ে ঘুরেছেন। যা সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

এরপর ৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরকে মারধর করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া এদিনও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। সেই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান শোডাউন অব্যাহত রেখেছেন।

গত কয়েকদিন ধরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের এসকল ঘটনায় চরম মাত্রায় বিরক্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ আইনজীবীরা। কেউ কেউ আবার বলাবলি শুরু করছেন, ক্ষমতায় না থেকেই তারা এত মারামারি করছেন, ক্ষমতায় আসলে না জানি তারা কি করবেন। আর এজন্যই তারা ক্ষমতায় আসতে পারেন না। তাদের ক্ষমতায় না আসাই ভাল। তারা নারায়য়ণগঞ্জ আদালতপাড়াকে রেসলিং মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে। আইনজীবীদের মধ্যে এরকম ঘটনা কখনও কাম্য নয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও