বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে এসপি হারুনের ১১ মাস

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে এসপি হারুনের ১১ মাস

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ যোগদানের পরেই বেশ আলোচিত হয়ে উঠেন। যোগদানের পর থেকেই আলোচিত এই এসপি হার্ডলাইনে অবস্থান করে একের পর এক বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বেশ প্রশংসিত হয়ে উঠেন। সেই প্রশংসার ফুলঝুড়িতে তাকে সিংহাম ও ফাটাকেস্ট উপাধি দেয়া হয়। তবে এবার তাকে একটি ঘটনায় বদলী করা হয়েছে। তাকে পুলিশ অধিদপ্তরের টিআর শাখায় বদলী করা হয়েছে। এতে করে তার বিদায় ঘণ্টা বেঁজে গেছে। সবশেষ ৭ নভেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ও দেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গত বছরের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেন। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জের জনসাধারণে প্রশংসিত হলেও বিএনপির নেতাদের মতে তিনি ছিলেন দলকানা। কেউ আবার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। আইন শৃংখলা পরিস্তিতির সাময়িক উন্নতি হলেও তার আচরণ ছিল বৈষম্যমূলক। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কাজ না করে তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি বেশি কাজ করেছেন।

এ বিষেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সরকারের আজ্ঞাবহুল হিসেবেই কাজ করেছেন। আমরা যখনই রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা জনগণের দাবী ধাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছি আমাদেরকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি আমাদের ঘরোয়া কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়েছে। উনার আমলেই আমাদের বিরুদ্ধে বেশি গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মোট কথা তিনি সরকারের আজ্ঞাবহুল হিসেবেই ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ আমাদের মিটিং করতে দেয় নাই, রাস্তায় দাঁড়াতে দেয় নাই। উনার আমলে আমরা ন্যায় বিচার পাই নাই। একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তার কাছ থেকে যেরকম আচরণ পাওয়ার কথা ছিল আমরা সে রকম আচরণ পাই নাই। তার আচরণ ছিল বৈষম্য মূলক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় নাই এটা সত্য। তবে উনার সময়েই কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারি নাই পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময়ে। নারায়ণগঞ্জে উত্তাপ ছিল না বিধায় হয়তো আমাদের বিরুদ্ধে মামলায় দায়ের করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা প্রতিউত্তর দেয়নি। তারপরেও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে টানা হেঁচরা করেছিল ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সাময়িক উন্নতি হলেও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ছিলেন দলকানা। উনি দলীয় পুলিশের মতোই আচরণ করেছেন। আমরা বারবার প্রতিকার চেয়েও রেহাই পায়নি। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দেয়া হয়নি। সার্বিক বিবেচনা তিনি একদিকে ভাল ছিলেন আবার অন্যদিকে খারাপ ছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও