এসপি হারুনের আমলে যেমন ছিল বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৪ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

এসপি হারুনের আমলে যেমন ছিল বিএনপি

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে হারুন অর রশিদের যোগদানের পর পরই বেশ আলোচিত হয়ে উঠেন তিনি। হারুন অর রশিদ যোগদান করেই একের পর এক নারায়ণগঞ্জের রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে গিয়ে জনসাধারণেও প্রশংসিত হয়েছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর নারায়ণগঞ্জে থাকার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে বদলী করে দেয়া  হয়েছে। তবে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা প্রশান্তির ঘুমেই ছিলেন। যদিও তাদেরকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোন মামলা দায়ের করা হয়নি কিংবা কোন ধরনের হয়রানিও করা হয়নি। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা নিরাপদেই তারা জীবন যাপন করে আসছিলেন।

জানা যায়, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে গত বছরের ২ ডিসেম্বরে যোগদান করেন। জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধানে কঠোর অ্যাকশনে যান তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন অপরাধীদের বিরুদ্ধে তিনি ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। তার অ্যাকশন থেকে রেহাই পায়নি কেউই। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বড় বড় রাঘব বোয়ালরাও হারুন অর রশিদের অ্যাকশনে আটকা পড়ে যান। দিন দিন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও অ্যাকশনের মাত্র না কমিয়ে বরং বাড়িয়েই চলেছিলেন। সেই সাথে বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে হারুন অর রশিদের এই ভূমিকায় জনসাধারণে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন। যা অন্য কোন পুলিশ সুপারের বেলায় পরিলক্ষিত হয়নি।

একই সাথে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারাও অনেকটা শান্তিতে ছিলেন। তাদেরকে হয়রানি করা কিংবা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা এর কোনটিও হয়নি পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময়ে। একটা সময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক মামলায় জর্জরিত থাকলেও হারুন অর রশিদের সময় তারা ছিলেন মামলা বিহীন। তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের এই অ্যাকশন ছিল যারা বিভিন্ন জনস্বার্থহীন কাজ করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে। যারা বিভিন্ন সময় জনসাধারণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করে থাকেন তাদের বিরুদ্ধে। যার সূত্র ধরে বিএনপির কর্মসূূচি পালন করতে না দেয়ার পিছনে এটা একটা কারণ ছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। অথচ ক্ষমতা হারানোর পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ২ হাজার ৩৯৪ টি। আর এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭২ জন নেতাকর্মীকে। ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় একের পর এক রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় নারায়নগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েন ঘরছাড়া। তাদের বিরুদ্ধে আনা হয় গায়েবী ককটেল কিংবা প্রেট্টোল বোমা বিস্ফোরনের অভিযোগ। যেসব মামলায় আসামী হয়েছেন প্রবাসী কিংবা মৃতব্যক্তিরাও। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময় সেটা পরিলক্ষিত হয়নি।

এর আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সোনাকান্দা স্টেডিয়ামে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে আসার পথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহর কাঁচপুরে আটকা পড়েছিল। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের একটি পক্ষ সড়কে কাঠের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পুরো সড়ক অবরোধ হয়ে পড়ে। পরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে নিয়ে যান। পরে সমাবেশ শেষে আবার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গাড়ি বহর বন্দরের সোনাকান্দা এলাকা হতে কাঁচপুর পর্যন্ত পৌছে দেওয়া হয়।

ওই সমাবেশে আরও উপস্থিত হয়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী ও নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে এমপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ সহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়েছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও