বাবরী মসজিদের জমিতে মন্দির : বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৭ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

বাবরী মসজিদের জমিতে মন্দির : বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ ও সেক্রেটারী সুলতান মাহমুদ তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে বলেন, মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করে হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের রায় দেওয়া হয়েছে। এ রায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে।

৯ নভেম্বর শনিবার প্রেরিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ১৯৮৪ সালে বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের দাবী তোলে। অথচ মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির নির্মাণের কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্মতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই। এই রায় ঐতিহাসিক ও ন্যায় বিচারের দৃষ্টিকোন থেকে নয়, বরং বর্তমানের উপর দাঁড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরাতন ক্ষতকে উসকে দেওয়া হলো।

নেতৃদ্বয় বলেন, ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস গৌরবময় ও সমৃদ্ধ। ভারতের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুসলমানেরা অগ্রনায়ক ও পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আজ ২৮ বছরের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হচ্ছে। এতে সমাজে শুধু হতাশা ও অস্থিরতাই তৈরী হবে। তবে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় প্রতীকসমূহ রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ।

বিবৃতিতে তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব ও সকল শান্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং ধৈর্য, দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মুকাবেলা করার জন্য ভারতের মুসলমানদের প্রতি আহবান জানান। তাছাড়াও নেতৃত্ব ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ থেকে রেহাই পেতে মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবক্যে সকলকে প্রার্থনা করার আহবান জানান।

প্রসঙ্গত উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বিরোধীপূর্ণ বাবরি মসজিদের জমি মন্দির নির্মাণে হিন্দুদের দিতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রামের জন্মভূমি ট্রাস্ট এখন জমিটির অধিকারী হবে। আর নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে মুসলমান সম্প্রদায়কে শহরেই আলাদা একখন্ড পাঁচ একরের জমি বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শনিবার ভারতের প্রধান বিচারক রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানক বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে এ রায় দিয়েছেন। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে গত কয়েক দশকে দুই সাম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বিরোধপূর্ণ জমি।

সেখানে হিন্দুদের দেবতা রামের জন্মভূমি বলে দাবি করা হয়েছে। ১৯৯২ সালে মসজিদটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। তখন দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও