এসপি হারুন বদলী হতেই জয়নালের বাতিল অস্ত্র ফেরত পেতে আবেদন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

এসপি হারুন বদলী হতেই জয়নালের বাতিল অস্ত্র ফেরত পেতে আবেদন

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলী হওয়ার এখনও সপ্তাহ পেরোয়নি। এর মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের অনেক কিছু পরিবর্র্তন হয়ে যেতে শুরু করেছে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত বিতর্কিত জাতীয় পার্টি নেতা আল জয়নাল আবেদীন অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন। অথচ এই অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার অভিযোগে। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময়ে সেই জয়নাল আবেদীন কিছুটা নিরব থাকলেও হারুন অর রশিদের বিদায়ের সাথে সাথেই জয়নাল ফের সক্রিয় হয়ে উঠছেন।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর্কিত জয়নাল আবেদীন লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দিতে যান। আর ওই অস্ত্র জমা দিতে গিয়ে তিনি পুলিশ কমকর্তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়েন ওই সময়ে থানার ওসি কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও বেশি সময় তাকে কারাভোগ করতে হয়নি।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময়ে বিতর্কিত জয়নাল আবেদীন অস্ত্রের লাইসেন্সে ফিরে পেতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তার অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়নি। তবে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বদলী হওয়ার পরই ফের নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। গত ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে বদলী করা হয়। তার বদলী হওয়ার দুই দিন পরই অর্থ্যাৎ গত ৫ নভেম্বর তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সময়ে নারায়ণগঞ্জে বিতর্কিত রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নে কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে তিনজনের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছিল পুলিশ। ফলে এ তিনজনের অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন জাতীয় পার্টির বিতর্কিত নেতা জয়নাল আবেদীন। তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করেছিল সদর থানা পুলিশ। স¤প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ওই প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জয়নালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পজেটিভ ছিল না। সে কারণেই তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের পক্ষে পুলিশের আপত্তি ছিল। ফলে পুলিশও নিজেদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের অস্ত্রের লাইসেন্সে আপত্তি জানিয়েছেন। গত ডিসেম্বর জয়নাল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়ে লংকাকান্ড ঘটায়। সেদিন তার অস্ত্রের ছোড়া গুলিতে থানার ভেতরে আতংক সৃষ্টি হয়। সদর মডেল থানার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ছিল, অস্ত্রটি পুনরায় নবায়ন করা হলে লাইসেন্সধারী সুযোগ পেলে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারেন। তাই অস্ত্রটি নবায়ন না করা খুবই জরুরি।

বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত জাতীয় পার্টি নেতা আল জয়নালের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানার একজন এএসআইকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় জয়নালকে থানায় আটক করা হলেও পরদিন ছাড়া পায়। ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় সদর মডেল থানায় ওই ঘটনা ঘটে। এ জয়নালের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় পৃষ্ঠপোশক হিসেবে মামলা আছে।

এছাড়াও ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত বিতর্কিত জাপা নেতা আল জয়নালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল আল জয়নাল সহ ৩ আসামীর বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে এস এম মালেহ রোডের বাসিন্দা আহমেদ জুবায়ের বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। একই সাথে মামলায় ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত রয়েছে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল কালীরবাজারে ২২ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয় আল জয়নালকে। কালীরবাজার স্বর্ণ ব্যাবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি রহমতউল্লাহ ফারুক বাদী হয়ে সদর থানায় ওই মামলার দায়ের করেন। পরে সে জামিনে মুক্তি পায়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও