এক হতে পারেনি যুবলীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

এক হতে পারেনি যুবলীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল ১১ নভেম্বর সোমবার। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জেলা ও শহর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকীতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর যুবলীগ এক হতে পারেনি। জেলা ও শহর যুবলীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদাভাবে তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করেছেন। ফলে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নেতারাও ছিলেন দুই ভাগে বিভক্ত।

৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা ও শহর যুবলীগের একটি অংশের উদ্যোগে সকাল পৌনে ১০ টার দিকে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যার মধ্যে ছিল ২নং রেলগেইট এলাকার আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন। এরপর পার্টি অফিসে গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন। এর আগে তারা শহওে একটি মিছিল। আর এই পুরো কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু ও জেলা যুবলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু। যারা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ শামীম ওসমানের বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।

এদিকে বেলা পৌনে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে তারা কেক না কেটে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জলের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির। যারা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রভাবশালী আওয়ামী নেতা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আলোচিত দুই মেরুর মধ্যে উত্তর মেরুর নেতৃত্ব দেন ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবার এবং দক্ষিণ মেরুর নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকার পরিবার। এই দুই পরিবারের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জের প্রায় প্রত্যেকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটিতেই প্রভাব বিস্তার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে তাদের রেষারেষিতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেক কর্মসূচিই আলাদা আলাদাভাবে পালিত হয়ে থাকে। সেই সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর যুবলীগও দীর্ঘদিন ধরে আলাদাভাবে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে।

জানা যায়, ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে আবদুল কাদির সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৈরি সময়ে ওই সম্মেলনে ছিল আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের অবস্থান। এছাড়াও সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা জাকিরুল আলম হেলালকে করা হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আর এই কমিটির হওয়ার পর খুব কম সময়ই তারা একত্রে কর্মসূচি পালন করতে পেরেছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহর যুবলীগেও একই অবস্থা চলছে। কমিটি হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জলের নেতৃত্বে শহর যুবলীগের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বেশির ভাগ সময়ই তাদের মধ্যে বিরোধ পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে সিটি কর্পোরেশন গঠনের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও মহানগর যুবলীগ কমিটি গঠিত হয়নি। শহর কমিটির পদে থাকা নেতারাই এখন স্ব-ঘোষিত মহানগর কমিটির পরিচয় দিয়ে আসছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও