কামালের দাবী ঘুনে ধরা পোকাদের কাজ, মামুন বললেন নোটিশ পেলে জবাব

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

কামালের দাবী ঘুনে ধরা পোকাদের কাজ, মামুন বললেন নোটিশ পেলে জবাব

নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দায়ের করেছেন বিএনপির দুইজন নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি উল্লেখ করে মামলাটির আবেদন করা হয়।

ওই মামলাটি নিয়ে টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদ।

মামলার প্রতিক্রিয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেখানে আজকে প্রতিহিংসার বিচারে কারাগারে বন্দি। দলের দুঃসময় চলছে, এই সময়ে পদ-পদবী নিয়ে দলকে যারা কাঠগড়ায় দাঁড় করায় সেখানে আর বুঝতে বাকি থাকে না তারা কারা। সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য দলের ভিতরে থাকা ঘুনে ধরা পোকা আজকে তারাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, দলের উচ্চপর্যায়ে তাদের দাবি তারা জানাতে পারতো। বিভিন্ন ভাবে তারা দাবি উপস্থাপন করতে পারতো মহাসচিব সহ দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কাছে। সেটা না করে তারা যে কাজটি করেছে এটি অতন্ত্য গর্হীত কাজ, এ বিষয়ে আমি অতন্ত্য মর্মাহত।

মামলার প্রস্তুতি নিয়ে এটিএম কামাল বলেন, শিঘ্রই মালার বিষয় নিয়ে আমরা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে বৈঠক করবো। দলের মহাসচিবের দিক নির্দেশনা নিয়েই আমারা আইনগত ভাবে তা মোকাবেলা করবো।

মামলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, মহানগর বিএনপির কমিটি হয়েছে সেই কমিটিতে তাদেরকে রাখা হয় নাই বলে তারা সংক্ষুব্ধ হয়েছে। মামলার বিবরণে আমি দেখলাম তাদের আর্জিটা হলো তারা দীর্ঘ দিনের পুরনো কর্মী, তাদেরকে কেন রাখা হয় নাই। তাদেরকে যদি রাখা হতো তাহলে তারা ক্ষুব্ধ হতো না। এখন তাদেরকে কেন রাখা হয়নি এটা সাংগঠনিক বিষয়। মহানগর বিএনপিতে যারা দায়িত্বে রয়েছে তারা এটার জাবাব দিতে পারবে। জেলা বিএনপির বিরুদ্ধে মূলত তাদের কোন অভিযোগ নাই। সেই হিসেবে আমি মনে করি তাদেরকে রাখলে তারা খুশি হতো। তারা থাকতে চায়, দল করতে চায়, নেতৃত্বে থেকে তারা দল করতে চায়। এটা তাদেরকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু মামলাটা না করে তারা যদি আমাদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দারস্থ হতো তাহলে ভাল হতো। কারণ আদালত এক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না, এটা আদালতের বিষয় না।

মামলার প্রস্তুতি নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, আমারা এখনো মামলার নোটিশ পায়নি। নোটিশ পেলে তার উত্তর দিব।

উল্লেখ্য মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগত হিসেব পরিচিত মামলার বাদী গুলজার হোসেন জানান, দলের জেলা কমিটিতে অল্প কজন স্থান পেলেও মহানগরের কমিটিতে ১০টি ওয়ার্ডের কোন নেতাই পদ পদবি পাননি। আমাদেরকে পদ পদবি যেন দেয় হয় সেজন্যই এ মামলা।

গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও