আমি ঘণ্টা বাজাবো : শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৩১ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

আমি ঘণ্টা বাজাবো : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বেসরকারী স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’ এর ‘৩০০ সেকেন্ড’ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযান সহ রাজনীতিক নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক বছর আগে অনুরোধের কথা জানান তিনি। শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সঞ্চালনায় ‘৩০০ সেকেন্ড’ অনুষ্ঠানে একমাত্র অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের মুখে রাজনীতিক নানা অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে।

জয় : সবাই আপনাকে ভয় পায় কেন ?

শামীম ওসমান : সবাই ভয় পেলে তো বারবার নির্বাচনে জয়যুক্ত হতামনা। এবং তিন পুরুষ ধরে নির্বাচিত হতাম না। বাংলাদেশের মধ্যে যে কটা পরিবার আছে তার মধ্যে আল্লাহর হুকুমে আমরা একই ঘরের একই মায়ের তিন ভাই এমপি হয়েছি। তো ভয় হয়তো পেতে পারে যারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাজাকার, আলবদর, আল-শামস রয়েছে তারা ভয় পেতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না জনগণ আমাকে ভয় পায়।

জয় : লোকে বলে আপনার বাবা আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত প্রাণ পুরুষ ছিলেন, নেতা ছিলেন। জাতির জনকের সাথে সুসম্পর্ক ছিল। এতোটাই গভীর সম্পর্ক র্ছিল যে আজকে তার সন্তান হিসেবে আপনি অনেক এডভানটেজ (সুবিধা) নেন রাজনৈতিকভাবে, সেটা কি সত্যি ?

শামীম ওসমান : একদম ট্রু (সত্যি) না। একচুয়েলি (প্রকৃতপক্ষে) আমার বাবা থেকে নয় আমার দাদার থেকে আমাদের বাসায় প্রথম আওয়ামীলীগের প্ল্যান (পরিকল্পনা) হয়, বায়তুল আমানে। সেই এডভানটেজ (সুবিধা) নেই নাই। আমার বাবা কিন্তু আমার রাজনীতিক গুরু ছিলেন। তার কাছে আমি রাজনীতি শিখেছি, কিভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। বাট (কিন্তু) আমি কিন্তু আমার বাবার পরিচয় দিয়ে আসিনি। আমি আমার নিজের পরিচয় দিয়ে এসছি। আমি যখন কলেজে নেতৃত্ব পর্যায়ে আসি তার দেড় বছর পর সবাই জানতে পারে আমি এই পরিবারের ছেলে। এটা আমার বাবার শর্ত ছিল। আমি যখন ঢাকায় সুযোগ পাওয়ার পর তোলারাম কলেজে ভর্তি হই তখন আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি একটু দামি কাপড় চোপড় পড়ি। কলেজে প্রথম দিন যাচ্ছিলাম তখন আমার বাবা ডেকে নিয়ে এসে আমার বড় বোনকে বলে ও যে যাচ্ছে তুমি ওর টেক কেয়ার করোনা কেন? তো আমার মাথায় এতোগুলো তেল দিয়েছিলেন এবং আমাকে দুই সেট কাপড় দিয়ে ছিলেন। তুমি এই কাপড় পড়ে কলেজে যাবা এবং বলেছিলেন, যেদিন তোমার পরিচয় কেউ জানবে এই কলেজে সেদিন আমি কলেজ থেকে নিয়ে যাব। আমি বলেছিলাম কেন ? আমি তখন কষ্ট পেয়েছিলাম আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। তখন আমার বাবা বলেছিলেন, আমি জানি আলটিমেটলি তুমি পলিটিক্সে যাবা। আর তোমার কলেজে যারা পড়াশোনা করে তাদের ৯০ পার্সেন্ট হচ্ছে লোয়ার ক্লাস ও মিডেল ক্লাস। তো তুমি এভাবে চল যে তোমার ক্লাসের সবচেয়ে নিরীহ ছেলেটা তোমাকে তার বন্ধু হিসেবে বেছে নেয়। এবং আমার পলিটিক্যালি ফাস্ট লিসেন (শিক্ষা) ছিল কিন্তু ওই টাই।

জয় : আমারা শুনেছি আপনি নিয়মিত নামাজের বাইরেও নামাজ পড়েন, এটা আসলে কি সত্যি নাকি শোনা কথা ?

শামীম ওসমান : দেখেন আমিতো পড়ি আমার জন্য। যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাকে সন্তুষ্ট করাটা আমার কাজ। সো আমি এই পথটা বেছে নিয়েছি এবং শান্তি পাই।

জয় : শুদ্ধি অভিযান চলছে, আপনি কি ভীত ?

শামীম ওসমান : কিন্তু এই অভিযানের এক বছর আগেই দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছি যে, আপা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) এইবার যেটা করবেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। আমি বিশ্বাস করি এ দেশের মানুষ পদ্মা সেতু চায়, রুপপুর প্রকল্প চায়, হাতিরঝিল চায়, রাস্তা-কালভার্ট চায়, পুল, স্কুল চায়। কিন্তু মানুষ সুশাসন চায়। এই সুশাসনটার জন্য উনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিজের ঘর থেকে শুরু করেছেন। আমার বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ হয়, আমি যদি অভিযুক্ত হই তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

জয় : সম্রাট ধরা পড়ল, জিকে শামীম, খালেদ ধরা পড়ল। লোক কিন্তু ভেবেছিল সবচেয়ে আগে ধরা খাবেন ? ক্যাসিনো কোথায় লুকিয়ে ফেললেন ?

শামীম : যদি মনে করি হরিনের মত চালাক হব, জঙ্গলের ভিতরে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে বলবো আমাকে কেউ দেখে নাই। এটা বোঝাা ঠিক হবেনা। আমিতো জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বারবার এবং অনেক টক শো তে চ্যালেঞ্জ করে বলেছি, আমার বিরুদ্ধে কেউ একটা অভিযোগ প্রমাণিত করুন। যে শাস্তি দিবে মাথা পেতে নিব। আমি ফেরেস্তা না মানুষ দোষে গুনে মানুষ। কিন্তু যদি প্রমাণ করতে পারতো আমি বলেছি পার্লামেন্ট থেকে হাতে চুড়ি পড়ে বের হব। কিন্তু কেউ করেননি, চ্যালেঞ্জ নেননি। কিন্তু যেটা করেছেন একটা পারসেপশন তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেন।

জয় : শুনেছি, আপনার বয়স যখন ৬০ হবে তখন আপনি অবসর নেবেন?

শামীম ওসমান : আমি এমন চিন্তা করছি। যদি দেখি দেশের অবস্থা ভাল থাকে। আমি ছোট্ট ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ, আমার উপর কিছু লায়াবেলিটি (দায়িত্ব) দাড়িয়ে গেছে। যখন ডাকি এক দিনের দুই দিনের নোটিশে দেড় লাখ দুই লাখ লোক চলে আসে, তাদেরকে তো ফেলতে পারবোনা। আমি কিছু উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই। হয়তো আমার এই উদাহরণটা কোন কাজেই লাগবেনা। কিন্তু আমার ভেতরে সেটিসফেকশন (সন্তুষ্টি) থাকবে আমি এটা করেছিলাম। কেউনা কেউতো ঘণ্টা বাঁজাতে হবে। আমি ঘন্টা বাজাবো।

জয়: একজন শামীম ওসমান আপনার কাজে এক কথায় জানতে চাই, সে কি ?

শামীম ওসমান : আমি এখন পর্যন্ত সাকসেছফুল (সফল) ম্যান (মানুষ) না। বাট আই এম ট্রাইন টু বি এ সাকসেসফুল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও