পুলিশের বাঁশিতেই দাঁড়াতে পারেনি জেলা বিএনপি, তবুও ব্যানার আগলে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

পুলিশের বাঁশিতেই দাঁড়াতে পারেনি জেলা বিএনপি, তবুও ব্যানার আগলে

পুলিশের বাঁশিতেই দাঁড়াতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা। কর্মীদের আগেই নেতারা তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত বলে বিদায় কর্মীদের সরিয়ে দেন। যেখানে নেতাদের চেয়ে কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিই ছিল সব থেকে বেশি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতারা জানান, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। যার ধারাবাহিকতায় ১৮ নভেম্বর সোমবার বিকেল পৌনে ৩টা থেকে চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় গলির ভিতরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতারা জড়োর হতে থাকে।

ওইসময় জেলা বিএনপির সহ সংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে পুলিশ বাঁশি বাজাতে শুরু করেন। বাঁশি বাজাতে বাজাতে নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলেন। ওইসময় কর্মী সমর্থকেরা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডা শুরু করলে কর্মসূচির ব্যানার খুলে দাঁড়িয়ে যান জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ সহ সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সম্পাদক এমএ আকবর, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পান্না সহ ২০ থেকে ২৫জন কর্মী সমর্থক। ব্যানারের ভাজ খুলে দাঁড়ানোর আগেই পুলিশের বাঁশি শুরু করে ব্যানার কেঁড়ে নেয়। বাঁশি বাজাতে বাজাতে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়।

এসময় সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ বলেন, ‘বাঁশি বাজাবেন না। এমনিতেই চলে যাচ্ছি। আমাদের কর্মসূচি এখানেই সমাপ্ত।’

কিন্তু কর্মী সমর্থকেরা তখনও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পরে মামুন মাহমুদ সহ নেতারা তাদের থামিয়ে নিজেরাই সরিয়ে নিয়ে যায়। তাও নিরবে বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে নয় ভাষা সৈনিক সড়ক দিয়ে হেঁটে চলে যায়। কর্মী সমর্থকদের স্লোগান দিতেও মানা করেন নেতারা।

কর্মসূচির আধা ঘণ্টা আগে থেকেই বালুর মাঠের গলিতে অবস্থান নেয় পুলিশ। আর জেলা বিএনপির নেতা এমএ আকবর সহ অন্যান্য নেতারা পুলিশের সঙ্গে দেখা করেন। সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালনের আশ্বাস দেন। কিন্তু নিজ থেকেই পুলিশের কাছে গিয়ে নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার জন্য উৎসাহী করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মসূচিতে আসা কর্মী সমর্থকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কর্মী বলেন, ‘আজ একই সময়ে যখন জেলা ও মহানগর বিএনপি এক সঙ্গে কর্মসূচি ডেকেছে সেহেতু নেতাকর্মীদের উপস্থিত ছিল। কিন্তু এমন একটি কর্মসূচি নেতাদের কারণে মাটি হয়ে গেল। তারাই আগে থেকে পুলিশকে গিয়ে আমন্ত্রণ দেয় বাধা দেওয়ার জন্য। আমরা কর্মীরা যখন কর্মসূচি পালনে এগিয়ে যাই তখন তারাই আমাদের সরিয়ে নিয়ে আসে। এজন্য আগে নেতাদের মনের ভয় আগে দূর করতে হবে। তবেই অনুষ্ঠান সফল করা সম্ভব।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও