অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোণঠাসা ত্যাগী নেতারা

|| দৈনিক সমকাল হতে নেওয়া ০৪:১৭ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোণঠাসা ত্যাগী নেতারা

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে ত্যাগী এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এই অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ তালিকা অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বহিস্কার এবং তাদের দলে ভেড়াতে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর প্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধান, নাসিক ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইস্রাফিল প্রধান, নাজিম উদ্দিন নাজু, হারুন অর রশিদ, সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রওশন আলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুল হেকিম, নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল (সিরাজুল ইসলাম মন্ডল গত তিন বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন)। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এসএম আসলামের ছোট ভাই স্বপন মন্ডল, সিদ্ধিরগঞ্জের তাঁতী দল নেতা সেলিম মজুমদার, আনিছ, থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আশিক, নজরুল ইসলাম, আলী আকবর, জেলা তরুণ দলের আহ্বায়ক টিএইচ তোফা, বিএনপি নেতা ইউনুছ মিয়া, চান মিয়া, থানা যুবদলের নেতা আয়নাল হক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, সাবেক যুবদল নেতা আবুসহ আরও অনেকে।

সাবেক কাউন্সিলর জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, `আমি কখনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগ করতাম। বাবাও আওয়ামী লীগ করতেন। বড়ভাই মজিবর রহমান মন্ডল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।`

মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এস এম আসলামের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি স্বপন মন্ডল বলেন, আমি কখনই বিএনপি কিংবা অন্য দল করিনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ২০১৪ সাল থেকেই সক্রিয় আছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, হাইব্রিড নেতাদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। আগামীতে কোনো কমিটিতে যেন তারা প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজর রাখছি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বিএসসি বলেন, ২০০৯ সালের পরে যারা দলে ঢুকেছে তারা অনুপ্রবেশকারী এবং তারা কোনো পদ পাবে না। তবে অনেকেই জীবন বাঁচাতে বিএনপিতে গিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ বিএনপিতে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগ করত, তারা অনুপ্রবেশকারী নয়। সরাসরি বিএনপি থেকে যারা এসেছে তারাই অনুপ্রবেশকারী।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। হাইব্রিডরা আমাদের দলে মিশে নানা ধরনের সুবিধা নিচ্ছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং পদ-পদবির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।

বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, যারা দল ছেড়ে চলে গেছে তারা আমাদের দলের জন্য মঙ্গলজনক ছিল না। আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানে তারা যদি বাদ পড়ে কিংবা বহিস্কৃত হয় সেক্ষেত্রে আমরাও তাদের আর বিএনপিতে ফিরিয়ে নেব না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও