আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী হতে রাতের আঁধারে টাকার খেলা!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:১৩ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী হতে রাতের আঁধারে টাকার খেলা!

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আজ ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার বন্দরের মদনপুর বাস স্ট্যান্ডে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তবে এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে কোন প্রতিযোগী নেই। মোটামুটিভাবে আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে গেছে সভাপতির পদটি।

সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে চলছে অনেক প্রতিযোগীতা। বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য অনেকেই মুখিয়ে রয়েছেন। আর এই পদটি দখলের জন্য এক রাতের আঁধারেই হয়েছে কোটি টাকার খেলা। সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীরা কোটি টাকার বিনিময়ে সাধারণ সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন জানা গেছে। যে কোন উপায়েই হোক প্রত্যেকেই চাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদকের পদটি দখলের জন্য।

সূত্র বলছে, ২০০৪ সালে এম এ রশিদকে সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে বন্দর থানা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুরশীদ আলম সাগরকে বাদ দিয়ে আবেদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর পরেও সেই কমিটি আর নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার দীর্ঘ দিনের প্রতিক্ষা ভেঙ্গে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

জানা যায়, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনেও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে চলমান সভাপতি এম এ রশিদের থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এম এ রশিদের জন্য সভাপতির পদটি আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। শুধুমাত্র ঘোষণাটুকু বাকী রয়েছে। ফলে এই সভাপতি পদ অন্য কোন নেতা আগ্রহ দেখান নি। প্রতিযোগিতার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেউ আর প্রতিযোগিতা করার সাহস পাননি।

তবে সাধারণ সম্পাদককে কেন্দ্র করে রয়েছে অনেক প্রতিযোগী। সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমেই হোক কিংবা অন্য যে কোনো উপায়েই হোক এই পদটি দখলের জন্য এক রাতে আঁধারে কোটি টাকার খেলা হয়ে গেছে। বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটি যেন তাদের জন্য সোনার হরিণ হিসেবে রূপ নিয়েছে। সোনার হরিণ খ্যাত এই সাধারণ সম্পাদক পদ দখলের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন মহানগর শ্রমিক লীগের সদ্য পদত্যাগী সভাপতি কাজিমউদ্দিন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ সালাম ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম কাশেমী। সেই সাথে চলমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবেদ হোসেন ও খুরশীদ আলম সাগরও কিছুটা আলোচনায় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি দখলের কাজিম উদ্দিন প্রধান মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজিম উদ্দিন শ্রমিকলীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত ১ নভেম্বর কেন্দ্রীয়য় শ্রমিকলীগে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন তিনি। পরে ২ তারিখ কেন্দ্র পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে একটি চিঠি দেয়। যে কোনো উপায়েই হোক কাজিমউদ্দিন প্রধান চাচ্ছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দখলের জন্য।

গত ২৪ নভেম্বর বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দা সমাজ কল্যান মাঠে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে একটি সভায় কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেছিলেন, আমি পূর্বেও বলেছি এখন বলছি কলাগাছিয়া ইউনিয়নবাসী অনেক অবহেলিত। আমাদেরকে দেখার কেউ নেই। আমরা অনেক পিছিয়ে পরেছি। আমি কলাগাছিয়া ইউনিয়নবাসী তথা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অধিকার ফিরেয়ে দেওয়ার জন্য সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি।

এর আগে ২০১৮ সালে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, মিটার টেম্পারিং, বাইপাস লাইন দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তিতাস গ্যাস কোম্পানির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। কয়েকজন সিবিএ নেতার সহযোগিতায় ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছিলেন। যাদের মধ্যে তিতাস গ্যাস এর সিবিএর সভাপতি কাজীম উদ্দিন প্রধানের নাম উঠে এসেছিল।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছিল, তিতাস গ্যাস কোম্পানি সিবিএর কতিপয় নেতার সহযোগিতায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ, মিটার টেম্পারিং, বাইপাস লাইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিতাস গ্যাস এর সিবিএর সভাপতি হাজী কাজীম উদ্দিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুর্নীতিবাজদের সহযোগিতা করে আসছিলেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা নিয়ে মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এমএ সালাম জানান, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাজিমউদ্দিন কখনোই বন্দরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলনা বলে তিনি দাবি করেন। কাজিমউদ্দিনকে বিগত দিনে কখনোই বন্দরের আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি। সালাম নিউজ নারায়ণগঞ্জতে আরো দাবি করেন, কাজিম উদ্দিন তিতাসে একসময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টি হয়ে এরপর শ্রমিকলীগে যোগ দেন। কেউ কেউ তাকে উৎসাহিত করে তাকে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে দাড় করিয়েছে। তারা টাকার খেলার মাধ্যমে টাকা দিয়ে ভোট কিনে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। সকল ভোটাররাই তার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানেন। ভোট হলে তার মতো হাইব্রীড অনুপ্রবেশকারী নেতা জয়ী হতে পারবে না। আমি হুট করে রাজনীতিতে আসি নাই। পয়সা দিয়ে ভোট কিনতে চাইনা।

ধামগড় ইপি চেয়ারম্যান তথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাসুম আহমেদ বলেন, সকল কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে আমি বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবো আশা করি।

তবে সকলেই চাইছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি যেন তার দখলেই থাকে। আর কার হাতে ধরা দেয় সেই সাধারণ সম্পাদক পদ সেটাই এখন দেখার বিষয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও