বিএনপির কমিটি স্থগিত খলনায়ক সেই শাহআলম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বিএনপির কমিটি স্থগিত খলনায়ক সেই শাহআলম

গত সংসদ নির্বাচনের পরেই পদ থেকে সরে গেছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা শাহআলম। শিল্পপতি এ নেতা পদ ছাড়লেও গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের আশায় দলের ভেতরেই বড় ধরনের ক্ষতি করে গেছেন যেটার ফলাফল এসেছে ২৮ নভেম্বর। এদিন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। কারণ মহানগর বিএনপির কমিটির উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে যে কারণ দেখিয়ে এ আদেশ সেই কাজটি করে গিয়েছিলেন শাহআলম নিজেই।

বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৪ এর ক অনুচ্ছেদে বলা আছে সরকার নির্ধারিত ও নিবাচন কমিশন নির্ধারিত এলাকা নিয়েই কমিটি গঠিত হবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মহানগরের আওতাধীন ১ হতে ১০ নং ওয়ার্ডকে মহানগরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি আলাদা আলাদ ভাবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবং গঠনতন্ত্রের বর্ণিত বিধান অনুযায়ী উভয় সংগঠনের অধিক্ষেত্র ও পূর্ব থেকেই বিদ্যমান যা উভয় দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহও গঠিত ও পরিচালিত। নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তবাদী দলের অধিক্ষেত্র সহ পাঁচটি থানা যথা ফতুল্লা, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও বন্দর থানার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে বন্দর উপজেলা এবং এই পাঁচটি উপজেলার অন্তর্গত সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যা তত্ত্বাবধায়ন করেন জেলা কমিটি।

বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জে শিল্পপতি শাহআলম আগে থেকেই ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত। এক সময়ে তার অনুগামীরা দাবী করতো গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের মাসের একটি বড় অংশের টাকার যোগান দেন শাহআলম।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি সিন্ডিকেট হয়েছিল। তাদের কথামত হয় জেলা বিএনপির কমিটি। নির্বাচনে মনোনয়ন বাগাতে আসনকেন্দ্রীক কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন শাহআলম। সে কারণে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের সময়ে মহানগরের আওতাধীন ১ হতে ১০নং ওয়ার্ডকে জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে কল্যান পাটির নেতা শাহ আলমকে মনোনীত করেন। পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মনির, সাধারন সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টুসহ সকল নেতাকর্মী শাহআলমকে নির্বাচিত করার জন্য ঝাপিয়ে পড়েন। ওই সময় আওয়ামীলীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সাথে পরাজিত হয় শাহ আলম। তার পর পরবর্তীতে এমপি হওয়ার লোভে ফতুল্লা থানা বিএনপিকে তার নিজের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার পরিকল্পনা করে। একপর্যায়ে বিএনপির কিছু আগাছাদের পরামর্শে থানা বিএনপির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেয়। এমনকি তিনি সভাপতি হওয়ার পর মনিরুল আলম সেন্টুকে সাধারন সম্পাদক করার চিন্তা করলেও মনের ভিতর চিন্তায় মাথায় নিয়ে সেন্টুকে মাইনাস করে আজাদ বিশ্বাসকে সম্পাদক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর শুরু হয় প্রতিটি ইউনিয়নে কমিটি ভেঙ্গে তার নিজের পছন্দকৃত এবং যারা তার কথামত চলবে তাদেরকে অর্ন্তভুক্ত করা শুরু করে। তার পর থেকেই বিএনপি ধ্বংসের ধাবিত হয়।

বর্তমানে জেলা বিএনপি কমিটি গঠনে শাহআলমের অনেকটাই হাত রয়েছে। তার পছন্দকৃত নেতা কুতুবপুরের লুৎফর রহমান খোকা, এমএ আকবর, নজরুল ইসলাম পান্নাকে জেলা কমিটির অর্ন্তভুক্ত করান। কিন্তু ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশিপুর ও বক্তাবলী ইউনিয়নের কাউকে জেলা কমিটিতে রাখা হয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও