এক সাখাওয়াতে হেরে গেলেন কালাম কামাল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

এক সাখাওয়াতে হেরে গেলেন কালাম কামাল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালতের রায় বাদীর পক্ষেই গিয়েছে। আদালত মহানগর বিএনপির কমিটির কার্র্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন।

আর এতে করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে হেরে গেলেন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল সহ পুরো কমিটি। আদালয়ের রায়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে পেরে উঠতে পারেনি।

যদিও মামলায় সরাসরি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নেতাকর্মীদের মতে, মামলায় পরোক্ষভাবে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দায়ের করেছিলেন বিএনপির দুইজন নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি উল্লেখ করে ওই মামলার আবেদন করা হয়। গত ১২ নভেম্বর আদালতে শুনানী শেষে আদালত পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কেন কমিটি অবৈধ হবে না জানিয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ১৩ নভেম্বর আদালত থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ বিবাদীদের হাতে দেওয়া হয়।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে। গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলন। আর দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তার বিভিন্ন সভা সমাবেশে ও মিছিল মিটিংয়ে এই দুই নেতার দেখা মিলে।

এদিকে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও আদালতে জেলা কমিটিকে বাদ দিয়ে আলাদাভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটিকেই অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছে মামলার বাদী। আর এ নিয়ে গত ২০ নভেম্বর আদালতে শুনানীও হয়েছে। আদালত আগামী ২৮ নভেম্বর আপত্তি দাখিলের জন্য বলেছিল।

যার সূত্র ধরে ২৮ নভেম্বর আপত্তি দাখিলের শুনানীর ভিত্তিতে আদালত মহানগর বিএনপির কার্যক্রমের উপর অন্তবর্তকালিন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই আদেশের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রম নিষেধ হয়ে গেল। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল সহ পুরো কমিটিই অচল হয়ে পড়েছে। তারা নামে মাত্র পদে থাকবেন কিন্তু কোন কাজ করতে পারবেন না। আর এ বিষয়টি সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের জন্য হারই বলা চলে। তাদের এই হারে জয়ী হয়েছেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

বিএনপি নেতাদের মতে, এই মামলার পিছনে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের হাত রয়েছে। কারণ যে দুইজন মামলার বাদী হয়েছেন, তারা এত আইনের মারপ্যাঁচ বুঝে না। আর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও চেয়েছিলেন এই দুইজনকে যেন জেলা ও মহানগর বিএনপিতে মূল্যায়ন করা হয়। যেহেতু তাদের চাহিদা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়নি সে কারণেই গোলজার খান ও নূর আলমকে দিয়ে পরোক্ষভাবে মামলা করিয়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে অিকপটেই স্বীকার কেেরন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুুরোধেই তিনি মামলার আইনজীবী হয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও