১৩৯ হত্যার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য ফের তালিকা চাইলেন শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

১৩৯ হত্যার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য ফের তালিকা চাইলেন শামীম ওসমান

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনাবিধুর দিন। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দুর্গম চরাঞ্চল বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত বক্তাবলীতে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। মারা যান ১৩৯ জন। সেই ঘটনায় নিহতের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা এর আগে বলেছিলেন দেশের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। ৫ বছর পর সেই বিষয়ে তিনি আবারো কথা বলেছেন।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীনগর পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় ৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত বক্তাবলী পরগণায় ১৩৯জন শহীদদের স্মরণে দোয়া ও শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বক্তাবলীতে একটি অনুষ্ঠান করেছিলাম। সেই মিটিংয়ে সেই সময়ের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ আলী ভাইকে বলছিলাম বক্তাবলীর ১৩৯ জন শহীদদের তালিকা দেয়ার জন্য। আজও সেই তালিকা আমাকে দেয়া হয়নি। শহীদদের তালিকা হাতে পেলে হয়তো বা কিছু একটা করতে পারতাম। তাই আমি আমার ছোট বোন ইউএনও নাহিদা বারিককে বলবো তিনি যেন বক্তাবলীর চেয়ারম্যান শওকত ভাইয়ের সহযোগিতা নিয়ে শহিদদের তালিকা করেন। কিছু চাওয়া পাওয়ার জন্য এ তালিকা দরকার। বক্তাবলীর শহিদ পরিবার কি পেয়েছে আমি জানি না। তবে বঙ্গবন্ধুর দেয়া একটি চিঠি পেয়েছেন। এটি একটি মূল্যবান সম্পদ। জাতির পিতার চিঠিটা আপনাদের জন্য অনেক মূল্যবান সম্পদ বলে আমি মনে করি।’’

তিনি আরও বলেন, অনেকে আমাকে বলছেন ১৩৯ জন শহীদ পরিবারের জন্য সংসদে কিছু বলি। জাতীয় সংসদে কিছু বলতে হলে আমাকে সঠিক তথ্য নিয়ে তা উপস্থাপন করতে হবে। জানুয়ারীতে সংসদের প্রথম অধিবেশন। তাই এর মধ্যে বক্তাবলী পরগণার ১৩৯ জন শহীদদের তালিকা করে আমাকে দিন। যাতে করে আমি সংসদে উত্থাপন করতে পারবো এবং কাজ সফল করে নিয়ে আসবো। আমি চাই বক্তাবলী পরগণার ১৩৯ জন শহীদ পরিবার মূল্যায়িত হউক।

প্রসঙ্গত স্বাধীনতা যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একসাথে এত প্রাণের বিয়োগান্ত ঘটনা দ্বিতীয়টি আর নেই। স্বজন হারানো ব্যাথা ও কষ্ট নিয়েও শ্রদ্ধার সাথে প্রতিবছরই পালিত হয় এই দিবসটি। এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত অর্থবহ একটি দিন। ২৯ নভেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের উপুর্যপরি আক্রমনের মুখে পাক হানাদাররা পিছু হঠতে শুরু করে। এসময় তারা রাজাকার, আল বদর, শামস বাহিনীর পরামর্শে তারা ১৩৯ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে ধরে এনে লাইন ধরিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এতে নিহত হয় শাহিদ, ফারুক, অহিদ, মনির, শাহ আলম, রহমতউল¬াহ, শামসুল, আলম, সালামত, খন্দকার, সুফিয়া, আম্বিয়া, খোদেজা সহ ১৩৯ জন। পিছু হটার সময় হানাদার বাহিনী পেট্রোল ও গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী পার সংলগ্ন বক্তাবলী পরগনার, রাজাপুর ডিগ্রীর চর, মুক্তাকান্দি, গঙ্গানগর, রাম নগর, গোপাল নগর, রাধানগর সহ ২২ টি গ্রাম। এদিকে স্বাধীনতার পরবর্তি ৪৮ বছর ধরে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জবাসী বক্তাবলী দিবস পালন করে আসছে। একাত্তরের পর থেকে ১৩৯ জন নিহত হওয়া ও ওইদিন পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধের খবর জেনে আসছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। জেলার সকল স্তরের মুক্তিযোদ্ধারাও বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য আর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন সেই নির্মম ঘটনা

সবশেষ ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ১৯৭১ সালে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে পাক হানাদার বাহিনী নির্মতায় হত্যার শিকার ১৩৯ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকিৃতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

সেদিন অনুষ্ঠানে তিনি পরিবারগুলোর সদস্যদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন, ‘‘স্বাধীনতার ৪৫ বছরে পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এটা পরিতাপের বিষয়। তাই পরিবারগুলোর তালিকা করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: আলীর কাছে জমা দেওয়ার আহবান করছি। পরে সেই তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শহীদের পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হবে।’’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও