এক হুমকিতেই কুপোকাত বাদল শওকত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

এক হুমকিতেই কুপোকাত বাদল শওকত

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের এক সভাতেই অনেকটা কুপোকাত হয়ে পড়েছেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল ও সেক্রেটারী শওকত আলী।

দীর্ঘ বছর ধরে কাশীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে আইউব আলীর নাম আসলেও সেখানে দুলাল হোসেন বৈধ সভাপতি দাবী করে ইতোমধ্যে সভাও হয়েছে। ওই সভা থেকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের কঠোরভাবে হুমকি ও হুশিয়ারী প্রদান করা হয়। শুক্রবার ২৯ নভেম্বর ওই হুশিয়ারীর পরেই নড়েচড়ে বসেছেন থানার নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কাশীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। কিন্তু আগামী ৭ ডিসেম্বরের থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে তিনি সহ অন্যরা সরব হয়ে উঠেছেন। আর এতে করে অনেকটা সাংগঠনিক জটিলতায় পড়েছেন থানা কমিটি।

এ অবস্থায় কাশীপুরের ৯টি ওয়ার্ডে কমিটিও গঠন হয়েছে পাল্টাপাল্টি। এসব নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের জটিলতা।

জানা গেছে, কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভিড়েন ওই সময়ের এমপি সারাহ বেগম কবরীর সাথে। ২০১৪ সালে কবরী এমপি নির্বাচিত হতে না পারায় তখন থানা আওয়ামী লীগ সভা করে দুলালকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন। কিন্তু কেন্দ্র সেটা গ্রহণ করেনি। ওই সময়ে অগঠনতান্ত্রিক পন্থায় আইউব আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেন থানা কমিটির নেতারা। কিন্তু ৫ বছর পর সেই দুলাল ও তার ঘনিষ্ঠজন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম শফিকুল ইসলাম শফি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

বিএম শফিকুল ইসলাম শফি বলেছেন, ‘নীতির কাছে কখনো মুজিব সৈনিকরা আপোষ করে না। করবেও না। কাশিপুরে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তা বৈধ। যদি আগামী ৭ ডিসেম্বর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কাশিপুরের বৈধ কমিটি থেকে কাউন্সিলর করা না হয়, তাহলে ওই দিন কিভাবে কাউন্সিল হয় তা  মুজিব সৈনিকরা দেখে নেবে। কারো পকেট কমিটি কেউ মেনে নেবে না। ফতুল্লা থানা কমিটিতে সুদিনের আওয়ামীলীগারদের ঠাঁই হবে না। আমরা দুর্দিনের আওয়ামীলীগ কর্মীদের সাথে নিয়ে পথ চলতে চাই। আগামী কাউন্সিলে হাইব্রিডদের প্রতিহত করা হবে।’

বিএম শফি বক্তব্যে আরো বলেন, বহু বছর আগে কাশিপুর বাংলা বাজার এলাকায় একটি জনসভায় এসেছিলাম। তখন এই এলাকায় মাত্র ২০জন আওয়ামীলীগ কর্মীকে পেয়েছিলাম। বিএনপি জামাতের ঘাঁটি ছিল এই এলাকা। আর এখন ঘরে ঘরে আওয়ামীলীগার। মাশা আল্লাহ। কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন থেকে যায় কোত্থেকে এলো এতো আওয়ামীলীগার। এরা কারা? যখন দেখি,যারা নিজেদের আওয়ামীলীগার বলে দাবী করছে তারা বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবিকে অপমান করেছে। আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা শামীম ওসমানের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। আজকে তারাই আওয়ামীলীগার!

তিনি আরো বলেন, কাশিপুরে যখন প্রথম জনসভায় এসেছিলাম তখন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে আমার বন্ধু ভাসানীকে ঘেরাও করা হয়েছিল। তখন আওয়ামীলীগের নাম মুখে নিতেও এই অঞ্চলের মানুষ ভয় পেতো। আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে মানুষ এখন আওয়ামীলীগের সদস্য হচ্ছে। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু কাশিপুরসহ ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে যাকে তাকে সদস্য করা হচ্ছে তা দুঃখজনক। কাশিপুরে দুলাল যে কমিটি করেছে তা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বৈধ। এই কমিটিকে বাদ দিয়ে অন্য কমিটির অনুমোদন মুজিব সৈনিকরা মেনে নেবে না।

সাংসদ একেএম শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে শফি আরো বলেন, ‘আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি,আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আপনার গোলামী করি আমরা। আপনার জন্য ভবিষৎতেও নিজেদের জীবন বাজী রাখবো। আপনি ফতুল্লার বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখুন তৃণমূলের মধ্যে কি ক্ষোভ চলছে। কতোটা নিষ্পেষিত আজকে ফতুল্লার আওয়ামীলীগের তৃণমুল আপনি একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন।

সভাপতির বক্তব্যে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দুলাল হোসেন বলেন, ‘আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু বিনিময়ে অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া কিছু পাইনি আমরা। থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল ভাইয়ের আশপাশে কিছু চাটুকার আছে। তাদেরকে নিয়ে তিনি যে কমিটি করলেন সেই কমিটির বিরুদ্ধে আমরা যখন সোচ্চার  হয়েছি। আমরা মনে করেছিলাম তিনি (সাইফ উল্লাহ বাদল) আমাদেরকে ডেকে এই বিষয়ে একটি সুরাহা করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কাশিপুরে আওয়ামীলীগের যে পাল্টা কমিটি করলাম তা কাশিপুরের জন্য দুঃখ জনক। আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা শামীম ওসমানের যে রাজনীতি করি, আমার বড় ভাই বাদল ভাইও তাঁরই রাজনীতি করেন। আমি বাদল ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে ডেকে  তিনি জেনো বর্তমান সমস্যার সমাধান করেন।’

এদিকে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ টুডেকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শওকত আলী বলেছেন, ‘কাউকে বহিষ্কার আমরা করতে পারি না। তবে সুপারিশ করতে পারি। সেটি অনুমোদন করবে কেন্দ্র। সে মোতাবেক দুলালের বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কারাদেশ নেই। হয়তো কোনো কারণে তার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসছি। সভাপতিকে (বাদল) বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আগামী থানা কাউন্সিলের আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও