এখনো কমিটি নিয়ে স্নায়ু যুদ্ধ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৪ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

এখনো কমিটি নিয়ে স্নায়ু যুদ্ধ

দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের থানা কমিটির সম্মেলন নিয়ে সবার মাধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা ছিল। তবে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনেকটা আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগে একটি অংশ পকেট কমিটি করার অভিযোগ স্নায়ু যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও আসছে। যদিও সম্মেলনকে ঘিরে স্নায়ু যুদ্ধ আরো অনেক আগেই শুরু হয়েছে। তবে শেষদিকে এসে এর ভয়াবহতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

জানাগেছে, এ জেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি মূলত দুভাবে বিভক্ত রয়েছে। সেই বিভক্তির ফলে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু নেতারা সবাই নিজ নিজ মেরুর নেতাকর্মীদের কমিটিতে আনতে চাইছেন। এই লক্ষ্যে তাদের মধ্যে স্নায়ু যুদ্ধ অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে যা বন্দর থাকা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে। কারণ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অতিথিদের মধ্যে শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের দেখা মিলেছে। আর অন্য একটি অংশের দেখা মিলেনি।

বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আওয়ামীলীগের যেসব নেতারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের অভিযোগ, সম্মেলনের ব্যাপারে তাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের ইচ্ছানুযায়ী সম্মেলন করার জন্যই তাদেরকে বলা হয়নি।

এই সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, আদীনাথ বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। যারা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সেই সাথে মেয়র আইভী নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনকে একপেশে সম্মেলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, আমাদের দাওয়াত দেয়নি, তাই বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাওয়া হয়নি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ইচ্ছানুযায়ী সম্মেলন করার জন্যই আমাদের বলা হয়নি। তারা তাদের মতো করে লোক দিয়ে কমিটি করে দিয়ে আসবে। কিন্তু আমরা উপস্থিত থাকলে হয়তো সেটা সম্ভব হতো না। কারণ আমরা সবসময় সত্য কথা বলি। আর এজন্যই হয়তো আমাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয়নি।

ঠিক একই কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলেই সবকিছু করে। আমাদেরকে বলা হয় না। অথচ নিয়ম হলো, জেলা কমিটিতে যারা আছেন তাদের সবাইকে জানাবেন কথা বলবেন আলোচনা করবেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে কোন কিছুই করা হয় না। বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ব্যাপারে আমাদের জানানো হয়নি। এরকম আরও অনেককেই দাওয়াত দেয়া হয়নি।

জানা যায়, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উস্থিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।

বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বীরু, ইকবাল পারভেজ, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল সদস্য শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু সহ জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ। যারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও