বিধি বহির্ভূত কমিটিতে সায় ছিল কালাম ও কামালের!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৭ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

বিধি বহির্ভূত কমিটিতে সায় ছিল কালাম ও কামালের!

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এক নেতার দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর এই কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পিছনে দায়ী করা হয়েছে বিধি বহির্ভূত কমিটি। কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে নিয়মের অনুরণ করা হয়নি। এই বিধি বহির্ভূত কমিটি হওয়ার পিছনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালেরও সায় ছিল। তাদের সমর্থনের খেসারত হিসেবে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। যা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মহানগরেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে নেতাকর্মীদের আপত্তির ভিত্তিতে সেই কমিটি স্তগিত হয়ে যায়। এরপর সেই কমিটিতে অনেক যোজন বিয়োজন করে ৩০ অক্টোবর বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার দুই সপ্তাহ পরেই গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আর এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।

এই মামলার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির র্কার্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ২৮ নভেম্বর বাদী পক্ষের আইনজীবীদের অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আবেদনের প্রেক্ষিতে বেলা ১১ টায় একদফা এবং দুপরে আরেক দফা সহ মোট দুই দফায় শুনানী শেষে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালত এই আদেশ দেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৪ এর ক অনুচ্ছেদে বলা আছে সরকার নির্ধারিত ও নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত এলাকা নিয়েই কমিটি গঠিত হবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মহানগরের আওতাধীন ১ হতে ১০ নং ওয়ার্ডকে মহানগরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকা নিয়ে গঠনতন্ত্র অনুসারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠিত ও পরিচালিত। এই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ থানার ৮টি ওয়ার্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্গত ১০ টি ওয়ার্ড এবং বন্দর থানাধীন ৯টি ওয়ার্ড অর্থাৎ সর্বমোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠিত। পৌরসভা থাকাকালীন নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি একইভাবে গঠিত হতো এবং পূর্বে ১নং বাদী বর্ণিত মহানগর কমিটির সভাপতি ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর হতে উপরোক্তভাবেই মহানগর বিএনপি গঠিত। বাংলাদেশের অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি একই পদ্ধতিতে গঠিত ও পরিচালিত হয়।

মূলত নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন নারায়ণগঞ্জ থানার অন্তর্গত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১-১০ নং ওয়ার্ডগুলোকে বেআইনীভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর এর অন্তুভুক্ত হতে কর্তন করে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তুর্ভুক্ত বর্ণিত ইউনিয়নগুলো যেহেতু নারায়ণগঞ্জ মহানগরের অন্তুর্ভুক্ত এবং বর্ণিত ইউনিয়নগুলো যেহেতু নারায়ণগঞ্জ জেলার বহির্ভূত সুতরাং জাতীয়তাবাদী দলের গঠনতন্ত্রের বহির্ভূত ভাবে জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ মহনগরের কমিটি ঘোষণা করায় বিগত ৩০ অক্টোবর বেআইনীভাবে ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রার্থী হয়ে বাদীপক্ষ অত্র মোকদ্দমা দায়ের করিল।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের এই পুরো পক্রিয়াতেই সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের সমর্থন ছিল। তাদের জ্ঞাত হওয়া ও সমর্থনের ভিত্তিতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিধি বহির্ভূত কমিটি গঠনকালে তারা বাধা দিলে হয়তো দলের ক্রান্তিলগ্নে মহনগর বিএনপির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি হতো না। মহানগর বিএনপিকে কোন সমালোচনার পাত্র হতে হতো না। আর এজন্য দায়ী হচ্ছেন নারাণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও