ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বাদল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বাদল

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে একক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন থানা কমিটির সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল। কাশীপুর ইউনিয়নে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান বাদল বিগত দিনের রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলমান সভাপতিকে কথিত অব্যাহতি দেন।

পরবর্তীতে বহুল সমালোচিত বিতর্কিত আইউব আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে পকেট কমিটি গঠন করেন। তবে এর সবকিছুই যে অবৈধ সেটা এখন ক্রমশ প্রতীয়মান ও প্রমাণিত হচ্ছে।

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, গত ৫ বছরেও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সভা তেমন হয়নি। এবার সম্মেলন উপলক্ষ্যে সভা হয়। সেটা হয়েছিল ফতুল্লার পঞ্চবটিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। তবে এটায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম হয় না বললেই চলে। বড় ধরনের কোন অনুষ্ঠান থাকলেই কেবল নিয়ম রক্ষার সভা হয় এতে।

অনেক নেতাকর্মী জানান, ফতুল্লায় ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বাদল। এবার কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে সেটা প্রকাশ পেয়ে গেছে। আর এ নিয়ে দলের ভেতরে চলছে চরম অসন্তোষ। যদিও বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এ বাদলকে পোহাতে হয়েছিল রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার। তখন শামীম ওসমান কানাডা ও আমেরিকায় থেকে বাদলের মাধ্যমেই বিভিন্ন এলাকাতে সভা সমাবেশে মোবাইলে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

বিগত বিএনপির সময়ে কার্যত শামীম ওসমানের রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাদল। রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁকে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছিল তখন খবরও রটে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারাহ বেগম কবরী মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর পক্ষেই মাঠে নামেন। তবে কবরী এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আর বাদলকে অবমূল্যায়নেরও অভিযোগ উঠেছিল। গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল বাদলের সহযোদ্ধা ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শওকত আলীকে।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমান এমপি হওয়ার পরেই বাড়তে থাকে বাদলের প্রভাব। অনৈতিকভাবে কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে মূলা ঝুলিয়ে রাখে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় বিতর্কিত আইউব আলীকে যার বিরুদ্ধে আছে বিস্তর অভিযোগ। এরই মধ্যে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন তিনি সেটাও বিনা ভোটে।

দীর্ঘ বছর ধরে কাশীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে আইউব আলীর নাম আসলেও সেখানে দুলাল হোসেন বৈধ সভাপতি দাবী করে ইতোমধ্যে সভাও হয়েছে। ওই সভা থেকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতাদের কঠোরভাবে হুমকি ও হুশিয়ারী প্রদান করা হয়। শুক্রবার ২৯ নভেম্বর ওই হুশিয়ারীর পরেই নড়েচড়ে বসেছেন থানার নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কাশীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। কিন্তু আগামী ৭ ডিসেম্বরের থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে তিনি সহ অন্যরা সরব হয়ে উঠেছেন। আর এতে করে অনেকটা সাংগঠনিক জটিলতায় পড়েছেন থানা কমিটি।

এ অবস্থায় কাশীপুরের ৯টি ওয়ার্ডে কমিটিও গঠন হয়েছে পাল্টাপাল্টি। এসব নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের জটিলতা।

জানা গেছে, কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভিড়েন ওই সময়ের এমপি সারাহ বেগম কবরীর সাথে। ২০১৪ সালে কবরী এমপি নির্বাচিত হতে না পারায় তখন থানা আওয়ামী লীগ সভা করে দুলালকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন। কিন্তু কেন্দ্র সেটা গ্রহণ করেনি। ওই সময়ে অগঠনতান্ত্রিক পন্থায় আইউব আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেন থানা কমিটির নেতারা। কিন্তু ৫ বছর পর সেই দুলাল ও তার ঘনিষ্ঠজন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক বিএম শফিকুল ইসলাম শফি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

দুলাল হোসেন বলেন, ‘আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু বিনিময়ে অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া কিছু পাইনি আমরা। থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল ভাইয়ের আশপাশে কিছু চাটুকার আছে। তাদেরকে নিয়ে তিনি যে কমিটি করলেন সেই কমিটির বিরুদ্ধে আমরা যখন সোচ্চার হয়েছি। আমরা মনে করেছিলাম তিনি (সাইফ উল্লাহ বাদল) আমাদেরকে ডেকে এই বিষয়ে একটি সুরাহা করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কাশিপুরে আওয়ামীলীগের যে পাল্টা কমিটি করলাম তা কাশিপুরের জন্য দুঃখ জনক। আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা শামীম ওসমানের যে রাজনীতি করি, আমার বড় ভাই বাদল ভাইও তাঁরই রাজনীতি করেন। আমি বাদল ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে ডেকে তিনি জেনো বর্তমান সমস্যার সমাধান করেন।’

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শওকত আলী বলেছেন, ‘কাউকে বহিষ্কার আমরা করতে পারি না। তবে সুপারিশ করতে পারি। সেটি অনুমোদন করবে কেন্দ্র। সে মোতাবেক দুলালের বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কারাদেশ নেই। হয়তো কোনো কারণে তার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসছি। সভাপতিকে (বাদল) বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আগামী থানা কাউন্সিলের আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও