শামীম ওসমান শুনেও শুনে না, দেখেও দেখে না

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:০৩ এএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

শামীম ওসমান শুনেও শুনে না, দেখেও দেখে না

সারা দেশে যতজন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিবর্গ আছে তাদের মধ্যে প্রথম সারিতেই উঠে আসে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের নাম। তিনি মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় কোন বড় নেতা না হলেও দেশ জুড়ে তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। কারণ তাঁরই নির্বাচনী এলাকাটিকে শিল্পনগরী হিসেবেই বেশ পরিচিত। যেখান থেকে দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ যোগ হয়। অর্থনীতির দ্বিতীয় চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয় ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল। আর এ অঞ্চলের প্রভাবশালী এমপি হলেও কার্যত তার এলাকায় দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, নদী দখল, ভূমিদস্যূ, চাঁদাবাজী সহ বিভিন্ন অপকর্মকাণ্ডই বেশি চলছে যেখানে শামীম ওসমানের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

দুই বছর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনের সময়ে যখন শামীম ওসমান চাষাঢ়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তখন ফতুল্লা থেকে একের পর এক খালি ট্রাক শহরে ঢুকছিল। দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে আবার চলেও যায়। তখন শামীম ওসমান এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তদন্তও করতে বলেছিলেন। কিন্তু মাইকের সেই বক্তব্যেই শেষ হয়ে যায় শামীম ওসমানের নির্দেশ আদেশ অনুরোধ আহবান। এটার পেছনের কারণও আর বের করা যায়নি। যদিও তখন শামীম ওসমান বলেছেন এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কিন্তু সেই শামীম ওসমানকে আর সেই ষড়যন্ত্র উদঘাটন করতে দেখা যায়নি। তবে শামীম ওসমান বার বার দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বার বার দেন। বার বার তিনি বক্তব্যে এ ষড়যন্ত্রের আগাম ভবিষ্যৎবাণী করলেও নিজ এলাকার সেই ষড়যন্ত্র আর অপরাধীদের রুখতেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন মনে করছেন তারই এলাকার সাধারণ ভোটাররা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘এমপি সাহেব কথায় পটু। এগুলো দেখে শোনেও না দেখার মতো থাকেন। এমন ব্যর্থ এমপি হয়ে না থাকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। কারণ শামীম ওসমানের মত প্রভাবশালী এমপি যখন চাঁদাবাজদের কাছে হেরে যান তখন এমপিগিরি করাটাও যৌক্তিক না।’

১ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে সরেজমিনে শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লার পঞ্চবটিতে গিয়ে দেখা যায়, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অবাধে চলাচল করছে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারী চালিত রিকশা। এসব অটোরিকশা ও রিকশাগুলো পঞ্চবটি থেকে চাষাঢ়া আবার পঞ্চবটি থেকে মুক্তাপুর। অন্যদিকে পঞ্চবটি থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত যাতায়াত করছে। তবে এসব যানবাহনগলোর মধ্যেও বিভক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু অটোরিকশা শুধু মাত্র এলাকায় বা মহল্লা ভিত্তিক চলাচল করে যারা চাষাঢ়া, মুক্তারপুর কিংবা পোস্তগোলা যাওয়ার অনুমতি নেই। এগুলোর জন্য প্রতিটি অটোরিকশাগুলোকেও ব্যবহার করতে হয় শ্রমিক সংগঠনের স্টিকার। তবে এসকল রাস্তার অটো রিকশার থেকেই প্রকাশ্যে নেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৫০টাকা পর্যন্ত চাদা। একইভাবে টাকা নেওয়া হয় ট্রাক, সিএনজি, টেম্পু, রিকশা থেকেও। এক্ষেত্রে যানবাহন অনুযায়ী চাঁদার অংকে ভিন্নতা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামীম ওসমান ক্ষমতাসীন সরকার দলের এমপি হলেও তার এলাকায় দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কাজই বন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদাবাজরা। অথচ বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়েই শেখ হাসিনার প্রশংসা ও তাঁর কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন শামীম ওসমান। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি রাজনৈতিক মা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। এও আশংকা করে বলেন, ‘আমরা মরলে কিছুই হবে না। কিন্তু দেশের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ওই কাজ বন্ধ করার কারণে  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় জিডিও করা হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। কিন্তু দিনের পর দিন সেই বুড়িগঙ্গা নদী দূষন, ভারাট ও দখলে উঠে পড়ে লেগেছে সেখানকার কথিত ইট বালু সিমেন্ট ব্যবসায়ীর নামে সন্ত্রাস ও নদী খেকোরা।

ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক সৌন্দর্য বর্ধন ও মানুষের চলাচলের জন্য গড়ে দেওয়া ওয়াকওয়ে ভেঙে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দখল নিয়ে গেছে। নদীর ভেতরে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ডকইয়ার্ড।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) এলাকার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে নীট পণ্য উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত করে একজন প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা। এসব শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টিতে শুধু উৎপাদন ব্যহত হয়নি এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, গাড়ি ভাঙচুর, সরকার কাজে বাধা সহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করা হয়। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল হওয়ার আগেই থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে পরিচিত ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক। মূলত এ সড়কটিই ছিল নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের প্রাচীন পথ। বর্তমানে একাধিক নতুন রাস্তা হলেও এর গুরুত্ব একটুও কমেনি। বরং দিনের পর দিন এর চাহিদা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল হওয়া, মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ ভবিষ্যতে পদ্মাসেতু তৈরি হওয়ার পর আর ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যাবে। এ সড়কটি যখন এতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনপদের লোকজন তেমন গুরুত্ব দিয়েই এর সংস্কার ও মেরামত করেন।

স্থানীয় প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা পরিচয়দানকারী চাঁদাবাজের কারণে দিনের পর দিন রাস্তার পাশে ট্রাক স্ট্যান্ড করে রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশেও বিভিন্ন দোকান বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। রাস্তা দখল করে ইট বালু সহ বিভিন্ন মালামাল রাখা হচ্ছে। এসব কিছুর মধ্যে সব থেকে বাধা হলো ট্রাক স্ট্যান্ড। এ ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে প্রতিনিয়ত রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের যানজটে বসে থাকতে হয়। এতে করে ভোগান্তিতে পরেন সাধারণ যাত্রীরা।

ট্রাকের প্রতিবাদ করতে গেলে শ্রমিক নেতা অন্যান্য যানবাহনের ও চালক হেলপারদের মারধর করে ভাঙচুর করে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পায় না। আর এ ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা উঠায় ওই প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা নামের চাঁদাবাজ। যার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজী সহ ২০টির বেশি মামলা চলমান রয়েছে। ওই নেতার বিরুদ্ধে আলীগঞ্জ এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে ক্লাব, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এতো কিছুরপরও শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা হলেও তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। কার্যত তাকে দৃশ্যমান ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকাতেই দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঞ্চবটি এলাকার অটোরিকশা চালক বলেন, ‘এক শ্রমিক নেতা আছেন তার লোকজনই এসব পরিবহন থেকে চাঁদা নেন। লালবাহিনী হিসেবে তারা এখানকার বাসিন্দাদের কাছে পরিচিত। প্রতিটি অটোরিকশা রাস্তায় বের করতে হলে এককালীন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। এর বিনিময়ে তারা একটি স্টিকার লাগিয়ে দেয়। আর বলে দেয় এ স্টিকারের ফলে কোন পুলিশ, কোন শ্রমিক নেতা কিংবা স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও গাড়িতে হাত দিবে না। এমনকি গাড়ি চুরিও হবে না। তবে এক্ষেত্রে চলাচলের রাস্তা অনুযায়ী টাকার অংকের পরিমাণও ভিন্ন হয়। যেমন চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি চলাচলের জন্য ৫০ হাজার এককালীন, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সড়কের জন্য ৫০ হাজার ও পঞ্চবটি থেকে ঢাকা পোস্তগোলা পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিতে হয়। তাছাড়া প্রতিদিন স্ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে ২০ টাকা আর প্রতিটি ট্রিপে ১০টাকা দিতে হয়।’

তিনি বলেন,‘ যে সকাল গাড়ি এ নিয়ম মানবে না তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হবে, চুরি করে নিয়ে যাবে, গ্লাস ভেঙে ফেলবে, পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিবে, শ্রমিক নেতারা অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করবে। মূল কথা হলে তাদের কোন ভাবেই গাড়ি চলাতে দিবে না। আপনি গাড়ি নিয়ে বের হলে অবশ্যই তাদের টাকা দিতে হবে। এগুলো বলে রাস্তার অনুমতি।

অন্য আরেকজন চালক বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কোন কাজ না পেয়ে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চলে। যা আয় হয় তার চেয়ে বেশি চাঁদাই দিতে হয়। কারণ একটি অটোরিকশার প্রতিদিন জমা দিতে হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তার উপর প্রতিদিন স্ট্যান্ডে জমা দিতে হয় ৫০ টাকা আর প্রতি ট্রপের জন্য ১০ থেকে ২০ টাকা। আর পুলিশ কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা বলে আরো কয়েকশ টাকা নেয়। এতো টাকা দিয়ে দিয়ে বাসায় প্রতিদিন ৫০০ টাকাও নিতে পারি না। ফলে তিন বেলা ভাত খেতেও কষ্ট হয়।’

তিনি বলেন, আমাদের এমপি, পুলিশ প্রশাসন এসব কিছুই জানে। কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ নেয় না। এতো পত্রপত্রিকায় খবর আসছে এমপি সাহেব এগুলো দেখেন পড়েন কিন্তু তার এলাকায় এ চাঁদাবাজী বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না।’

এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদা দাবিতে গত ১৭ মার্চ রাত ৮টায় এক অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে রাতেই নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত জাকির হোসেন জানান, শিহাচর তক্কার মাঠ থেকে স্টেডিয়াম সড়কে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমি অটোরিকশা নিয়ে লালখাঁ গেলে কয়েকজন অটোরিকশা আটকিয়ে আমাকে জোর করে নামিয়ে মারধর করতে থাকে। কারণ জানতে চাইলে বলে এ রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা চালাস কেন। সরকারি রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলবেই বললে ওই সব নেতারা আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে এবং অটোরিকশা ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আসলে আমাকে ছেড়ে দেয় এবং হুমকি দেয় এ রাস্তায় অটোরিকশা নিয়ে আসলে প্রাণে মেরে ফেলবো।

পরিবহন শ্রমিকেরা বলেন, ‘‘নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লা অঞ্চলে এমপি শামীম ওসমানের কোন প্রভাব নেই। তিনি শুধু নামেই এমপি আছেন। এখানে প্রভাব বিস্তার করেন একজন শ্রমিক নেতা নামধারী রক্তচোষা। যিনি ট্রাক, বাসা, সিএনজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নেন। দখল করে রেখেছেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীঁরের জায়গা। আছে শত শত গুন্ডাবাহিনী। কিন্তু এতো কিছু সম্পর্কে প্রায়ই পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে। এসব দেখে শামীম ওসমান সভা সমাবেশ শুধু হুশিয়ারী হুমকি দিয়েই শেষ। মূলত তিনি কথায় পটু কাজে নেই। এ প্রভাবশালী রক্তচোষাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপই তিনি নিতে পারেন না। সাধারণ মানুষকে যখন এ রক্তচোষাদের কাছ থেকে রক্ষা করতে পারেন না সেহেতু তিনি এমপি থাকার প্রয়োজন নেই। তার চেয়ে বরং পদত্যাগ করে ঘরে বসে থাকুক। অন্তত মানুষ এটুকু বলতে পারবে এমপি নেই তাই যা ইচ্ছে করতে পারছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শামীম ওসমান এখানকার এমপি হলেও এলাকার উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ ধুলাবালি, ময়লা আবর্জনা, রাস্তায় যানজন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, রাস্তা দখল করে দোকান নির্মাণ, হকার সহ সর্বত্র বিশৃঙ্খলা। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ট্রাক চালক, হেলপার, শ্রমিক সহ যুবকেরা মাদক সেবন করে। ট্রাক চালকদের কাছে এক যুবক মাদক বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রশাসনের কোন জোরালো ভূমিকা নেই।

দিনমজুর কয়েকজন বলেন, ‘এ শ্রমিক নেতা শুধু মাত্র পরিবহন থেকে চাঁদা নেয় তা নয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব শ্রমিকেরা এখানে এসে কাজ নেয় তাদের থেকেও প্রতিদিন চাঁদা নেয়া হয়। প্রতিদিন ওই শ্রমিকেরা যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করবে যেমন, একটি জাহাজ থেকে হাজার হাজার বস্তা সিমেন্ট লোড আললোড করবে সেজন্য প্রতি বস্তায় ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা দিতে হবে। সেটা শ্রমিকদের কাছ থেকে কেড়ে নিবে। না হলে শ্রমিকদের ওই এলাকায় কাজ করতে দিবে না। এভাবে প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমিক থেকে প্রতি বস্তায় ৫০ পয়সা কিংবা ১ টাকা করে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজী করে। কই এমপি সাহেব এগুলো তো জানেন কিন্তু প্রতিবাদ বা পদক্ষেপ নেয়নি।

পোশাক কারখানার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা হলেও তিনি এখানে ব্যর্থ। শামীম ওসমানকে তোয়াক্কাও করে না। কারণ জানে শামীম ওসমান তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। শামীম ওসমানের সেই ক্ষমতা এখন আর নেই। ওই সব নামধারী শ্রমিক নেতারা বুঝে যে, শামীম ওসমান শুধু মাইকে হুশিয়ারী দেওয়ার পর্যন্ত ক্ষমতা আছে। এছাড়া তিনি কিছু করতে পারবে না। এজন্য ফতুল্লা চুষে খাচ্ছে।’

তিনি বলেন, পরিবহন থেকে যেসব চাঁদা তোলা হচ্ছে, অটোরিকশা চলাচলের জন্য স্টিকার বা নাম্বার প্লেটের নামে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হচ্ছে । এসবের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব টাকার সঠিক ব্যবহার সম্ভব হলে সরকার ফতুল্লা এলাকায় আরো উন্নয়ন কাজ করতে পারতো। তাই এসব অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ঠেকাতে শামীম ওসমান ব্যর্থ তখন তিনি পদত্যাগ করুক। অন্যথায় প্রশাসনকে দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এসব চাঁদাবাজী বন্ধ করুক।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও