ইকবাল হেলো ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অভিভাবকদের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪২ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

ইকবাল হেলো ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অভিভাবকদের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ!

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের কোন কাজেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দিন দিন যেন তাদের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগে অসন্তোষ বেড়ে চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছিলেন। সেই অসন্তোষের শেষ হতে না হতেই এবার আড়াইহাজার আওয়ামী লীগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজকে ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারী ও অনুপ্রবেশকারী দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে দলীয় পদ থেকে বহিস্কারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

আড়াইহাজার বাজার এলাকার দুবাই প্লাজার আড়াইহাজার ক্লাব লিমিটেডে আড়াইহাজারে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সকল জনপ্রতিনিধিগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীবৃন্দের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে নেতাকর্মীদের পক্ষে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার।

আর এই বিষয়টির সাংগঠনিকভাবে সমাধান বা সভা না করে সরাসরি একটি পক্ষে অবস্থান নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বিবৃতি দিয়েছেন। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে হেলো সরকার যে বক্তব্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে দেয়া হেলো সরকারের দেয়া বক্তব্যকে অসত্য, বানোয়াট, কু-রুচিপূর্ণ, ভিত্তিহীন উল্লেখ করে হেলো সরকারকে বিরত থাকার জন্য সতর্র্ক করা হয়েছে। যা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের মতে, এগুলো জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির বহি:প্রকাশ। জেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদল এই বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করতে পারতো। কিন্তু তারা সেটি না করে বিবৃতির মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে দলীয় কোন্দলকে চাপা না দিয়ে সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করে সরাসরি একটি পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আর এই বিষয়টির মাধ্যমে দলের দুর্বলতাই প্রকাশ হয়েছে, যা দলের জন্য ক্ষতির কারণ।

এদিকে নেতাকর্মীদের বহু আলোচনা সমালোচনার মুখে থানা পর্যায়ে নতুন কমিটি করার উদ্যোগ নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। সেই লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই ২নং রেলগেইট আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আওয়ামীলীগের অন্যান্য থানা কমিটিগুলো আগষ্টের পরে ঘোষণা দেয়া হবে জানানো হয়।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের মতামত ছিল, প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হবে। আর এই ওয়ার্ড কমিটি গঠন করবে ইউনিয়ন কমিটি। এরপর ইউনিয়ন কমিটি করতে হবে, ইউনিয়ন কমিটি করবে থানা কমিটি। এই দুই স্তরের কমিটি সম্পন্ন হলে জেলা আওয়ামী লীগ থানা কমিটি গঠন করে দিবে। কিন্তু এই মতামত প্রভাবশালী নেতাদের ইচ্ছার কাছে হার মেনে যায়। সেই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত হাসনাত বাদলও অসহায়ের মতো প্রভাবশালী নেতাদের মতামতকেই প্রাধান্য দেন।

বর্ধিত সভায় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা অনুসারে রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৬ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে রুপগঞ্জ থানা কমিটিতে সভাপতি পদে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহজাহান ভূঁইয়া রয়েছেন। যিনি এর আগেও থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। আর গোলাম দস্তগীর গাজী টানা তিনবারের এমপি এবং সর্বশেষ মন্ত্রীও হয়েছেন। তারপরেও তিনি রূপগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতির পর আকড়ে রেখেছেন। আর এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলও দ্বিমত পোষণ করেনি। যা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

সেই সাথে গত ২২ জুলাই আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সভাপতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। রূপগঞ্জে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হলেও আড়াইহাজার সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়েও তৃণমূলে অনেক আলোচনা সমালোচনা রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের ওই বর্ধিত সভায় আওয়ামীলীগের অন্যান্য থানা কমিটিগুলো আগষ্টের পরে ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়েই সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই এ কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।

অথচ এই কমিটি গঠন উপলক্ষে কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে কোনো বর্ধিত সভা কিংবা সম্মেলনও হয়নি। সেই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদেরকেও এ বিষয়ে কোনো অবগত করা হয়নি। যা নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ কেন্দ্র আব্দুল হাই ও আবু হাসনাতের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশও দেন। সেই সাথে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। সবশেষ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি বাতিল করা হয় কেন্দ্র থেকে।

এরই মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ নভেম্বর বন্দরের মদনপুর বাস স্ট্যান্ডে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই সম্মেলনকে একপেশে সম্মেলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। কারণ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অতিথিদের মধ্যে শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের দেখা মিলেছে। আর অন্য একটি অংশের দেখা মিলেনি।

আর তাদের অভিযোগ হচ্ছে, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সম্মেলন। আর এজন্যই তাদের দাওয়াত দেয়া হয়নি। সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবেই জেলা আওয়ামী লীগকে পরিচালনা করছেন। কারও সাথে কোন আলাপ আলোচনার প্রয়োজন মনে করছে না। আর তাদের এসকল কর্মকান্ডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও