আইভীকে হত্যার চেষ্টার মামলার আবেদনে ইন্ধনদাতা শামীম ওসমান!

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪১ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

আইভীকে হত্যার চেষ্টার মামলার আবেদনে ইন্ধনদাতা শামীম ওসমান!

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনার পেছনে ইন্ধনদাতা ও প্ররোচনায় প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানকে দোষারোপ করা হয়েছে একটি মামলার আবেদনে। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী সেই ঘটনার পর সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিয়ে মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে দায়ের করা অভিযোগে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ওই কড়া তর্জনী তুলে ধরা হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষে পুরো ঘটনার পেছনে শামীম ওসমানকেই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়। সেই সঙ্গে এও অভিযোগ করা হয় শামীম ওসমানের কারণেই একদল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলা সহ হত্যার চেষ্টা করে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জিএম এ সাত্তার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জর একটি আদালতে ওই মামলার আবেদন করেন। ৪ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালত ওই মামলার শুনানী করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, আদালত আর্জি গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা মামলার সাক্ষীপ্রমাণ বিনষ্ট ও গায়েব করার পরিকল্পনা করছে। বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে গ্রেপ্তার করার আর্জি করা হয়।

অভিযোগে প্রধান আসামী করা হয়েছে ঘটনার দিন নিয়াজুল ইসলামকে। এছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলো মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ঘটনাস্থলে থাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ।

অভিযোগে এও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা সকলেই এমপি শামীম ওসমানের ইন্ধনে ও প্ররোচনায় উক্ত ঘটনা ঘটায়। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ফুটপাতে হকার বসানোর কথা বলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণেই বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবেই মেয়র আইভীর শান্তির মিছিলে ভয়াবহ হামলা করে। কারণ ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে এ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মেয়রের একাধিকবার কথা হয়। এমপি সেলিম ওসমান এ বিষয়ে পত্র দিলে সেটারও জবাব দেওয়া হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী যানজট নিরসন ও জনগনের হাটাচলার জন্য ফুটপাত অবাধ রাখতেই সচেষ্ট ছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু নির্বাচনী এলাকা এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার বসবে মর্মে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের লাগাতার ঘোষণা, হুমকি, প্রশ্রয় ছিল বিবাদীদের জন্য উস্কানিমূলক। এ কারণেই বিবাদীরা ওই ঘটনার সাহস পায়।

আর্জিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী বিকেল ৪টায় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও অন্যদের সাথে নিয়ে পদযাত্রা শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৪টায় পদযাত্রাটি বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসলে বিবাদীরা অত্যাধুনিক পিস্তল, রিভলবার, শর্টগান ও দেশী অস্ত্র নিয়ে চারদিক থেকে হামলা করে। বৃষ্টির মত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। মেয়র সহ সঙ্গে থাকা লোকজনদের হত্যার উদ্দেশ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হামলায় আইভী সহ ৪৩ জন গুরুতর ও শতাধিক আহত হয়।

পেছনের কথা উচ্ছেদ
২০১৭ সালের গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। পরের দিন থেকে হকারদের আন্দোলন চলতে থাকে। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেখা হয়। চলে টানা বিক্ষোভ মিছিল। ব্যাকুল হয়ে হকাররা গেল নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে শামীম ওসমানের কাছে। শামীম ওসমানও হকারদের বলেছেন মেয়রের কাছে যেতে। পরের দিন মেয়রকে স্মারকলিপি দিল হকাররা। কিন্তু হকারদের ফুটপাতে বসতে দেয়া হবে না মেয়র আইভীর সাফ কথা।

আইভীর বক্তব্য
২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশনের দেওভোগ এলাকায় জনতার মুখোমুখী অনষ্ঠানে মেয়র আইভী শামীম ওসমানকে বলেছিলেন, ছেলের বিয়েতে ২৫ কোটি টাকা খরচ করতে পারেন হকারদের জন্য এত মায়াকান্না হলে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়াও শামীম ওসমানকে সেদিন বলেছিলেন, উল্টা পাল্টা চিন্তা করলে আইভীও মাঠে নামবেন। বলেছিলেন শামীম ওসমান কোটি কোটি টাকা মালয়েশিয়া পাচার করেছেন। বেশকিছু বক্তব্য বেশ আক্রমনাত্মক ও উস্কানীমুলক ছিল।

সেলিম ওসমানের চিঠি
নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান ১৪ জানুয়ারি মেয়র আইভী বরাবর চিঠি দিয়ে হকারদের বসতে দিতে প্রস্তাব করেন।

সেলিম ওসমানের পক্ষে চিঠি নগর ভবনে পৌছে দেওয়া হয়। এতে সেলিম ওসমান উল্লেখ করেন, শহরে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিবেশ শান্ত করা এবং তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারী বিকেল ৪টায় আমি নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে তাদের সাথে আলোচনা করি। উক্ত আলোচনায় উপস্থিত কয়েক হাজার হকার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য আমার কাছে জোরালো দাবী রাখে। সেই সাথে তারা জনগণের চলাচলে কোন প্রকার বিঘ্ন না ঘটিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে বলে ওয়াদা দিয়েছে।

আমি তাদেরকে সরাসরি কোন প্রকার আশ্বাস না দিয়ে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের বর্তমান দূরাবস্থার কথা মানবিক বিবেচনায় তাদের প্রস্তুাবিত দাবী বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান বসানোর বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি সাপেক্ষে আমার অনাপত্তির কথা জানাই, তবে তা অস্থায়ী হিসেবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইং তারিখ সময় পর্যন্ত। তারা মেয়রের মাধ্যমে সকল জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ একত্রে আলোচনা করে অন্যত্র পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের দাবী রাখে।

অতএব কয়েক হাজার হকারের বর্তমান দূরাবস্থার কথা বিবেচনা করে আগামী ২৮ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার হকারদের অস্থায়ী দাবীটি আপনার সুবিবেচনার জন্য প্রেরণ করছি।

বিকেলে এমপি সেলিমকে দেওয়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার্স সমস্যা দীর্ঘদিনের পঞ্জিভূত সমস্যা। তাদের সমস্যা নিরসনে বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সব সময়ে আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করে আসছে। তারই ধারবাহিকতায় ২০০৮ সালে চাষাঢ়ায় ৫০ শতাংশ জায়গার উপর একটি হকার্স মার্কেট নির্মাণ করে সেখানে ৬৫৮ জন হকারকে দোকান দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়। তখন তালিকার বাইরে ফুটপাতে হকার ছিল না। কিন্তু পুনর্বাসিত জায়গায় হকারগণ ব্যবসা পরিচালনা না করে শহর জুড়ে ফুটপাতের সম্পূর্ণ অংশ এবং রাস্তার বেশ কিছু অংশ দখল করে ব্যবসা করছে। ফলে জনসাধারণের ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসকল বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায় আলোচনা হয়েছে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় সিটি করপোরেশনকে দায়ী করে আসছে। সুতরাং সার্বিক পর্যালোচনায় ফুটপাত দিয়ে জনসাধারণের নির্বিঘেœ চলাচল ও জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে হকারদের ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব না।

এ অবস্থায় আপনার মানবিক উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের বর্ধিতাংশ, জামতলা ঈদ গাঁ মাঠ, নগর ভবনের সম্মুখের অংশ ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পেছনে রাজউকের কার পার্কিংয়ের জায়গায় প্রতিদিন বিকেল ৫টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত হকার বসানোর বিষয়ে নির্দেশক্রম সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।

শামীম ওসমানের ঘোষণা
১৫ জানুয়ারি চাষাঢ়া গোল চত্বরে হকারদের সমাবেশে এসে বক্তব্য রাখেন শামীম ওসমান। ওইদিন শামীম ওসমানও বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে বেশকিছু কথা বলেছিলেন। এমনকি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও সিটি কর্পোরেশনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শামীম ওসমান। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হকারদের বিষয়ে যদি কোন সিদ্ধান্ত না হয় তাহলে পরের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার পর তিনি নিজে হকারদের বসিয়ে দিবেন। শহীদ মিনারে তিনি থাকার কথাও জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে হকার বসবে, এটা আমার হুকুম না, খাতির না, আদেশ না এটা শামীম ওসমানের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে হকার বসবেই। শামীম ওসমানের এমন ঘোষণার পর ওইদিনই মিডিয়াতে আইভী বলেছিলেন, সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় শামীম ওসমানের কোন এখতিয়ার নেই। কারণ এটা শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা নয় যেখানে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

১৬ জানুয়ারী
১৬ জানুয়ারি বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নগর ভবনের সামনে থেকে বের হয় মেয়র আইভী। এদিকে শামীম ওসমানের অনুগামী শত শত নেতাকর্মী ও হকাররা অবস্থান নেয় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে। মেয়র আইভী পায়ে হেঁটে নগর থেকে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শামীম ওসমান না আসলেও হকার ও বসতে শুরু করে।

এমন অবস্থায় চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে চলে আসেন আইভী। এদিকে শহীদ মিনার থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন ও হকাররাও সায়াম প্লাজার দিকে যাওয়া শুরু করে। এরি মধ্যে শুরু হয়ে যায় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ইটপাটকেল নিক্ষেপ। সংঘর্ষের শুরুতেই হকারদের কাছ থেকে এত পরিমাণ বৃষ্টির মত ইটপাটকেল আসতে থাকে যে আইভীকে তখন রক্ষা করতে মানবঢাল তৈরি করতে বাধ্য করা হয়। বৃষ্টির মত ইটপাটকেলের সঙ্গে আসতে থাকে একের পর এক গুলি। মিছিল থেকে ছোড়া হয় ওই গুলি।

নিয়াজুল ইস্যু
নিয়াজুল ইসলাম খান মারধরের শিকার হয়ে বের করেন পিস্তল। পিস্তল বের করার পর আরো কয়েক দফা মারধরের শিকার। এদিকে চলতে থাকে দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপ গোলাগুলি মারামারি। সংঘর্ষের ঘটনায় নিয়াজুল ইসলাম নামের যে যুবলীগ নেতার হাতে অস্ত্র দেখা গেছে সে ব্যাপারেও ব্যাখায় শামীম ওসমান বলেন, নিয়াজুলের অনেক ঘটনা মিডিয়াতে আসে নাই। বার বার নিয়াজুলকে শামীম ওসমানের লোক বলা হলো। বিকেলে একা একা হেঁটে আসার সময়ে মিছিল থেকে তিনবার মাটিতে ফেলে ১০ মিনিট ধরে পেটানো হয়। চতুর্থবার বাধ্য হয়ে নিয়াজুল লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে। তার পিস্তলটি খোয়া গেছে কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। অপরদিকে আইভীর অভিযোগ তাকে হত্যা করতেই নিয়াজুলকে পাঠানো হয়েছিল।

নিয়াজুলের সেই পিস্তল উদ্ধার
খোয়া যাওয়া নিয়াজুল ইসলামের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয় ২৫ জানুয়ারী রাতে। সেদিন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনের একটি ফুলের টব থেকে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটির সন্ধান পায় পুলিশ। নিয়াজুলের কোন হদিস পায়নি পুলিশ। ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬ বোরের পিস্তলটির সঙ্গে ম্যাগজিন ভর্তি ১০ রাউন্ড গুলি ছিল। এটি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র।

শামীম ও আইভীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঘটনার একদিন পর ১৭ জানুয়ারী দুপুরে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইভী। আবেগতাড়িত হয়েই বলেন, ‘আমাকে হত্যার জন্যই হামলা চালানো হয়েছে। চোখের সামনে নিজের দুই ভাই, আত্মীয় স্বজন ও কাছের কর্মীদের আঘাত করা হয়েছে। আমাকে মারতো। তাতে কোনও দুঃখ ছিল না। কিন্তু নেতাকর্মীরা মার খেয়ে আমাকে রক্ষা করলো। তারা প্রচন্ড মার খেয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। আমি আমার কর্মীদের মার থেকে বাঁচাতে পারিনি। এটা আমার কাছে অনেক দুঃখের, অনেক কষ্টের। আমার বাবাও কর্মীদের আগলে রাখতো। কিন্তু আমি পারি নাই।’

অপরদিকে শামীম ওসমান বলেন, ওই ঘটনা শামীম ওসমানের সঙ্গে আইভীর কোন লড়াই না। এটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেলিনা হায়াৎ আইভী বনাম হকারদের। প্রকৃত ঘটনা অনেকেই উপস্থাপন করেনি। বিএনপি ক্যাডার ও জোড়া খুনের আসামী বেষ্টিত হয়ে আইভীর মিছিল থেকে গুলি করা হয়েছে। আমি এখানে গরিব মানুষের জন্য রাজনীতি করি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের জন্য রাজনীতি করে যাবো।

প্রশাসনের তদন্ত
গত ১৬ জানুয়ারির হামলার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনেরও একটি কমিটি হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার তিন সদস্যের এই কমিটির প্রধান। অপর দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান ও র‌্যাব-১১-এর সহকারী পরিচালক (এএসপি) বাবুল আখতার।

আইভী নিয়াজুল কারোই মামলা রেকর্ড হয়নি, পুলিশের মামলা
শহরে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও যুবলীগ নেতা নিয়াজুলের দায়ের করা অভিযোগগুলো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। ঘটনার পরদিন ১৭জানুয়ারী নিয়াজুল ইসলামের তার ছোট ভাই রিপন খানের মাধ্যমে সদর মডেল থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অস্ত্র লুটের ঘটনায় অভিযোগ দেন। পুলিশ সেটাকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পরে হত ২৫ জানুয়ারী রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনে একটি ফুলের টব থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ২৩ জানুয়ারি সকালে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে এ নাসিকের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার অভিযোগ করেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা করার জন্যই ওই হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল ইসলাম খান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজামসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেন জিএমএ সাত্তার। তবে এ অভিযোগ এখনও মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। এজাহারে নিয়াজুল ইসলাম ও শাহ নিজাম ছাড়া আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগকর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ।

হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনার ৮দিন পর ২৪ জানুয়ারী রাতে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন বাদী মামলাটি দায়ের করেন। এতে ১৬ জানুয়ারী বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় সরকারী কাজে বাধা, জনস্বার্থ বিঘ্নিত, পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছে মামলায় অভিযোগে ১৪৩, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ শ জনকে আসামী করা হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও