পদ ঠেকাতেই আইভীর উস্কানিতে মামলা!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

পদ ঠেকাতেই আইভীর উস্কানিতে মামলা!

আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলছে। এ মাসেই হবে জাতীয় কাউন্সিল। ইতোমধ্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জেও নতুন করে যুবলীগের জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটিতে পদ ঠেকাতেই সম্ভাব্য অনেককে মামলার আসামী করে বিতর্কিত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন মনে করছেন দলের অনেকেই। তাদের মতে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারীর পর চলে গেছে ২২ মাস। কিন্তু হঠাৎ এখন মামলার পেছনে মেয়র আইভীর উস্কানি আছে।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে সংঘর্ষের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জিএম এ সাত্তার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জর একটি আদালতে ওই মামলার আবেদন করেন। ৪ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালত ওই আর্জি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ। তারা সকলেই এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে রাজনীতি করেন।

মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি আসছে। এতে শাহ নিজাম ও হেলাল গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জেলা ও মহানগর যুবলীগের কমিটি হবে। জেলা যুবলীগে জানে আলম বিপ্লবের ভালো পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অপরদিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান সুজনও আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পদে। শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু আসন্ন মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে থাকতে যাচ্ছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগরের সভাপতি পদে আছেন জুয়েল হোসেন। মূলত তাদের উপর কালিমা লেপন করতেই হয়তো তাদের আসামী করা হয়েছে।

মামলা প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, হকার ইস্যুতে করা মামলার ৯ জনের মধ্যে ৮ জন সেই ঘটনায় উপস্থিত ছিলনা। আপনারা ফাইল ফুটেজ দেখলেই বুঝতে পারবেন। সেদিন একজনকে ছিল নিয়াজুল যে নিজেই মারধরের শিকার হয়েছে। তাই এরুপ মামলার ক্ষেত্রে খারাপ লাগে আওয়ামীলীগের যারা মেয়র আইভী নির্বাচনে কাজ করে তাকে নির্বাচিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এরুপ মিথ্যা মামলা দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য করা হয়েছে। তাছাড়া সেদিন মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েলকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই এরুপ মামলার ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এটা একটা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা। আমাদের সিনিয়রদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’’

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এটি নিছক প্রতিহিংসামূলক মামলা। আমার বিরুদ্ধে বিগত দিনে কোন ধরনের মামলা নেই। এর আগে মামলা হয়েছে তবে সেটা বিএনপি সরকারের আমলে হয়েছে, রাজনীতিক মামলা। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আমরা এই মামলার যথাযথ জবাব দিব।’’

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এরূপ ষড়যন্তে লিপ্ত হয়েছে। হকার ইস্যুতে সেই সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রশাসন সহ গণমাধ্যমের কাছে আছে। সেসব ভিডিও দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’

মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংগঠন তিনিতো করেনা সংগঠনের বড় একটা পদ দখল করে আছে। ছাত্রলীগ যুবলীগ এসকল সংগঠন করে আসলে সংগঠনের মায়া বুঝতো। একটি কথা বলবো, কোন স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে উনার মাধ্যমে লিপ্ত হয়েছে। মামলার ব্যাপারে বড় ভাই ও সিনিয়ররা বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।

যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব বলেন, আগামীতে কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। এই কাউন্সিলকে ঘিরে হকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন পর প্রতিহিংসামূলকভাবে মামলা করা হচ্ছে। এরুপ মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী বিকেল ৪টায় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও অন্যদের সাথে নিয়ে পদযাত্রা শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৪টায় পদযাত্রাটি বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া সায়েম প্লাজার সামনে আসলে বিবাদীরা অত্যাধুনিক পিস্তল, রিভলবার, শর্টগান ও দেশী অস্ত্র নিয়ে চারদিক থেকে হামলা করে। বৃষ্টির মত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। মেয়র সহ সঙ্গে থাকা লোকজনদের হত্যার উদ্দেশ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হামলায় আইভী সহ ৪৩ জন গুরুতর ও শতাধিক আহত হয়। বিবাদীরা সকলেই এমপি শামীম ওসমানের ইন্ধনে ও প্ররোচনায় উক্ত ঘটনা ঘটায়। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ফুটপাতে হকার বসানোর কথা বলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণেই বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবেই মেয়র আইভীর শান্তির মিছিলে ভয়াবহ হামলা করে। কারণ ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে এ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মেয়রের একাধিকবার কথা হয়। এমপি সেলিম ওসমান এ বিষয়ে পত্র দিলে সেটারও জবাব দেওয়া হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী যানজট নিরসন ও জনগনের হাটাচলার জন্য ফুটপাত অবাধ রাখতেই সচেষ্ট ছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু নির্বাচনী এলাকা এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার বসবে মর্মে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের লাগাতার ঘোষণা, হুমকি, প্রশ্রয় ছিল বিবাদীদের জন্য উস্কানিমূলক। এ কারণেই বিবাদীরা ওই ঘটনার সাহস পায়।

আদালতে মামলার আবেদনে বলা হয়েছিল, ঘটনার চারদিন পর ২২ জানুয়ারী সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সহ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দাখিল করা হয়। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ এজাহার গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে রুজু করে। পরে জানা যায় মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

কোন প্রকার আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তখন পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সদর মডেল থানা পুলিশও কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও